ঘাসফুল ভাঙ্গন অব্যাহত! ঘাটালে বিজেপিতে আরও ৫০ তৃণমূলী

ঘাটাল, পশ্চিম মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালে ফের রাজনৈতিক পারদ চড়ল (Trinamool Congress Split in Ghatal)। একের পর এক দলবদলের ঘটনায় আবারও চর্চার কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস।…

ghatal-trinamool-break-bjp-join-west-medinipur

ঘাটাল, পশ্চিম মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালে ফের রাজনৈতিক পারদ চড়ল (Trinamool Congress Split in Ghatal)। একের পর এক দলবদলের ঘটনায় আবারও চর্চার কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার ঘাটাল শহরের এলআইসি মোড় সংলগ্ন বিধায়ক কার্যালয়ে প্রকাশ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন একাধিক তৃণমূল কর্মী। এই যোগদানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শুরু হয়েছে তরজা।

Advertisements

ঘাটালের বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট নিজে উপস্থিত থেকে তৃণমূল ত্যাগ করে বিজেপিতে আসা কর্মীদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন। বিজেপির দাবি অনুযায়ী, ঘাটাল ব্লকের খড়ার অঞ্চল এবং ঘাটাল পৌর এলাকা মিলিয়ে মোট প্রায় ৫০ জন সক্রিয় তৃণমূল কর্মী বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। শীতল কপাট বলেন, “এঁরা কেউই নামমাত্র কর্মী নন। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের হয়ে কাজ করেছেন। কিন্তু রাজ্যের দুর্নীতি, অপশাসন এবং মানুষের প্রতি সরকারের উদাসীনতায় অতিষ্ঠ হয়ে তাঁরা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”

   

বিজেপি বিধায়কের আরও দাবি, এই ভাঙন এখানেই থামবে না। আগামী দিনে ঘাটাল সহ গোটা পশ্চিম মেদিনীপুরে আরও বড়সড় দলবদল হবে। এমনকি তৃণমূলের একাধিক ‘মাথা’ নেতা-নেত্রীও বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। তাঁর কথায়, “মানুষ বুঝে গেছেন তৃণমূল মানেই দুর্নীতি আর ভয়। বিজেপিই একমাত্র বিকল্প।”

নবাগত বিজেপি কর্মীদের অনেকেই জানান, এলাকায় উন্নয়নের নামে শুধু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, বাস্তবে কাজ হয়নি। প্রশাসনের উপর রাজনৈতিক চাপ, কাটমানি সংস্কৃতি এবং কর্মীদের অসম্মান—এই সব কারণেই তাঁরা দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তাঁদের দাবি, বিজেপিতে এসে তাঁরা নিজেদের সম্মান ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ দুটোই সুরক্ষিত মনে করছেন।

Advertisements

তবে এই দলবদলের ঘটনাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। ঘাটাল ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি দিলীপ মাজি কটাক্ষের সুরে বলেন, “যাঁদের তৃণমূল কর্মী বলে দাবি করা হচ্ছে, তাঁরা আদৌ তৃণমূলের লোক নন। এরা বিজেপিরই লোকজন। বিজেপি নাটক সাজিয়ে তৃণমূলের পতাকা ধরিয়ে ছবি তুলছে।” তাঁর অভিযোগ, বিজেপি ভোটে লড়াই করতে না পেরে এই ধরনের ‘নাটক’ করছে।

দিলীপ মাজির আরও দাবি, ঘাটাল ব্লকে তৃণমূল কংগ্রেস আগের মতোই ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী রয়েছে। এই ধরনের দলবদল তৃণমূলের সংগঠনে কোনও প্রভাব ফেলবে না। তবে তৃণমূল নেতার এই মন্তব্যকে কার্যত পাত্তা দেননি বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট। তিনি পাল্টা বলেন, “যদি এরা তৃণমূলের লোক না হন, তা হলে এত ভয় কেন? সময়ই সব প্রমাণ করে দেবে।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ধরনের দলবদল ঘাটালের রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে। ঘাটাল এমনিতেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। ফলে কে কতটা সংগঠন ধরে রাখতে পারে, সেটাই আগামী দিনে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে পারে।

সব মিলিয়ে, ঘাটালে তৃণমূলের ভাঙন নিয়ে বিজেপির আক্রমণ এবং তৃণমূলের পাল্টা কটাক্ষ—দুই শিবিরের এই চাপানউতোরে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আগামী দিনে এই ভাঙন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

Advertisements