এবার পঞ্জাব দখলের লক্ষ্যে ঝাঁপাল বিজেপি। (BJP)উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি গতকাল পঞ্জাবে ‘নেশা মুক্ত পাঞ্জাব’ অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। হোশিয়ারপুর জেলার মুকেরিয়ান, দসুয়াসহ কয়েকটি এলাকায় রোড শো ও জনসভায় তিনি যুবসমাজকে মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। বিজেপির এই অভিযানকে অনেকেই ‘কার্পেট বোম্বিং’ বলে বর্ণনা করছেন, কারণ এটি রাজ্যের প্রায় সব বিধানসভা কেন্দ্রে একসঙ্গে ছড়িয়ে পড়েছে এবং মাদক সমস্যাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছে।
আরও দেখুনঃ মুসলিম ল অনুসারে বিয়ে হলেও নাবালিকার সঙ্গে যৌন সংসর্গে POCSO! রায় দিল্লি হাইকোর্টের
ধামি তার ভাষণে বারবার জোর দিয়ে বলেছেন যে পঞ্জাব আর উত্তরাখণ্ড একে অপরের থেকে আলাদা নয়। দুই রাজ্যের মধ্যে সামাজিক, পারিবারিক, কৃষি ও ধর্মীয় সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। হাজার হাজার পরিবারের শিকড় দুই পাশেই বিস্তৃত। উত্তরাখণ্ডের তরাই অঞ্চলে, বিশেষ করে উধম সিং নগর জেলায়, পাঞ্জাবি সম্প্রদায়ের বড় উপস্থিতি রয়েছে। তাই পঞ্জাবে মাদকের প্রভাব যখন বাড়ে, তখন উত্তরাখণ্ডও তা থেকে মুক্ত থাকতে পারে না।
ধামির এই বক্তব্যে ভৌগোলিক নৈকট্যের কথা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। (BJP)তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে পঞ্জাবের সমস্যা শুধু সেই রাজ্যের নয়, প্রতিবেশী রাজ্যগুলিরও উদ্বেগের বিষয়।বিজেপির ‘নশা মুক্ত পাঞ্জাব যাত্রা’ ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে। চারটি আলাদা যাত্রা একসঙ্গে প্রায় চার হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে রাজ্যের ১১৭টি বিধানসভা কেন্দ্রে পৌঁছাচ্ছে। এই অভিযানের নবম দিনে ধামি যোগ দেন।
তিনি আক্রমণাত্মকভাবে আম আদমি পার্টির সরকারকে দায়ী করেন। তার অভিযোগ, ক্ষমতায় এসে এএপি মাদক সমস্যা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে এবং পঞ্জাবকে ‘উড়তা পাঞ্জাব’ বানিয়ে ফেলেছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে একে ‘উভারদা পাঞ্জাব’ বা উন্নয়নশীল, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত রাজ্যে পরিণত করবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।ধামি পাঁচ দফা কৌশলের কথাও তুলে ধরেন।
মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে ফেলা, মাদক মাফিয়াদের সম্পত্তি ও নেটওয়ার্ক লক্ষ্য করা, আসক্ত যুবকদের পুনর্বাসন এবং সমাজের সব স্তরকে এই লড়াইয়ে যুক্ত করা এই হল মূল দিকগুলি। তিনি বলেন, এটি কোনও ভোটের রাজনীতি নয়, বরং মায়েদের সন্তানদের বাঁচানোর লড়াই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বার্তা নিয়ে তিনি এসেছেন এবং পঞ্জাবকে মাদকমুক্ত করার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন।
এই অভিযানের পটভূমিতে পঞ্জাবের মাদক সমস্যা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। (BJP)স্থানীয় পরিবারগুলির অনেকেই তাদের যুবকদের মাদকের ফাঁদে পড়ার বেদনা বহন করে চলেছেন। বিজেপি এই অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে জনগণের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। অভিযানের শেষ পর্বে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জলন্ধরে উপস্থিত থাকবেন বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
এতে অভিযানের গুরুত্ব আরও বাড়ছে।দুই রাজ্যের সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে ধামি যেভাবে ভৌগোলিক ও সামাজিক বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন, তা রাজনৈতিক বার্তাকে আরও শক্তিশালী করেছে। পঞ্জাবের সমস্যা উত্তরাখণ্ডেও প্রভাব ফেলতে পারে এই সত্যকে অস্বীকার করা যায় না। কৃষি শ্রমিক, পরিবারিক সম্পর্ক এবং ধর্মীয় যোগসূত্র দুই রাজ্যকে এমনভাবে বাঁধা রেখেছে যে এক জায়গার সংকট অন্য জায়গায়ও ছড়িয়ে পড়ে। তাই বিজেপি এই অভিযানকে শুধু পঞ্জাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করছে।
