মমতার আমলে কিভাবে মিলত ভুয়ো নথি-লক্ষ্মীভাণ্ডার! ফাঁস করল খোদ অনুপ্রবেশকারী

পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের এক চাঞ্চল্যকর চিত্র সামনে এসেছে। (Fake Documents)এক বাংলাদেশি মহিলা, যিনি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে রাজ্যে বসবাস করছিলেন, এবার খোলাখুলি স্বীকার করেছেন যে…

fake-documents-lakshmir-bhandar-allegation-bengal

পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের এক চাঞ্চল্যকর চিত্র সামনে এসেছে। (Fake Documents)এক বাংলাদেশি মহিলা, যিনি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে রাজ্যে বসবাস করছিলেন, এবার খোলাখুলি স্বীকার করেছেন যে তৃণমূল কংগ্রেসের লোকজন তাঁকে আধার কার্ড, রেশন কার্ড, ভোটার আইডি এবং লক্ষ্মীর ভান্ডারের সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিল শুধুমাত্র ভোটের বিনিময়ে।

Advertisements

এখন নতুন সরকারের অধীনে তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।ওই নারী জানিয়েছেন, তিনি বাংলাদেশের কোনো একটি জেলা থেকে বছর কয়েক আগে সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঢোকেন। প্রথমে তাঁর পরিচয় গোপন রেখে স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। তাঁরা তাঁকে আশ্বাস দেন যে, “ভোট দিলে সব ব্যবস্থা হয়ে যাবে।” কথামতো তিনি তৃণমূলের হয়ে ভোট করেন এবং পরবর্তীকালে আধার, রেশন কার্ড, ভোটার কার্ড এমনকি লক্ষ্মীর ভান্ডারের মাসিক সাহায্যও পেতে শুরু করেন।

   

আরও দেখুনঃ ‘ভোটের রাজনীতিতে আর নয়!’ চন্দননগরে হারের পর বড় সিদ্ধান্ত ইন্দ্রনীলের

তাঁর কথায়, “টাকা দিতে হয়নি, শুধু ভোট দিতে হয়েছে। স্থানীয় কাউন্সিলর ও তৃণমূল কর্মীরা সবকিছু করে দিয়েছিলেন।”এই স্বীকারোক্তি রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ উঠছিল যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে সীমান্তে নজরদারি শিথিল করে লক্ষ লক্ষ অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে রাজ্যে ঢুকতে দেওয়া হয়েছে। তাদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে বিরোধীরা বারবার দাবি করে এসেছে।

Advertisements

এবার সেই অভিযোগের সরাসরি সাক্ষ্য মিলল এক অনুপ্রবেশকারিণীর মুখ থেকেই।স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, “আমাদের টাকায় চলা সরকারি সুবিধা বিদেশিরা ভোগ করছে, আর আমরা সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছি।” অনেক এলাকায় রেশন, আধার ও অন্যান্য সুবিধা পেতে গিয়ে দেখা গেছে যে তালিকায় অসংখ্য সন্দেহজনক নাম রয়েছে। নতুন সরকার এখন সেইসব তালিকা খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করেছে।

বিজেপি নেতারা এই ঘটনাকে মমতা আমলের ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতার’ প্রমাণ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের রাজনীতির জন্য জাতীয় নিরাপত্তাকে বিপন্ন করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে জনসংখ্যার গঠন বদলে যাচ্ছিল। মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এসব এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশের প্রভাব সবচেয়ে বেশি।

নতুন প্রশাসন এখন কঠোর অভিযান চালিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর কাজ শুরু করেছে।ওই বাংলাদেশি নারীকে এখন আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, তাঁর কাছ থেকে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে যাতে অন্যান্য অনুপ্রবেশকারীদেরও খুঁজে বের করা যায়। স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু হয়েছে।

Advertisements