সিসিটিভি ফুটেজে অসঙ্গতি? কোন কোন কেন্দ্রে রি-পোল হতে পারে

CCTV ফুটেজ ঘিরে ইভিএম অনিয়মের অভিযোগ, ফলতা-সহ একাধিক সংবেদনশীল এলাকায় পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে কমিশন

West Bengal Voter Turnout 11AM

ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে একাধিক বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ হয়ে যাওয়ার (WB Election 2026) ঘটনাকে কেন্দ্র করে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকটি নির্দিষ্ট বুথে ভোট চলাকালীন সময়ে সিসিটিভি ক্যামেরা সাময়িকভাবে বিকল হয়ে পড়ে। সেই সময়ের রেকর্ড অনুযায়ী দেখা যায়, ওই বুথগুলিতে ভোটের হার ছিল প্রায় ৫৬ থেকে ৫৮ শতাংশের মধ্যে। তবে পরবর্তীতে যখন সিসিটিভি ক্যামেরা আবার সচল হয়, তখন ভোটের হার আচমকাই উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে দেখা যায়।

Advertisements

এই ধরনের অস্বাভাবিক পরিবর্তনই এখন কমিশনের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোথায়, কীভাবে এবং কতক্ষণ ধরে ক্যামেরা বন্ধ ছিল, তা বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বুথগুলির ভোটার টার্নআউটের তথ্যও পুনরায় যাচাই করা হচ্ছে।

   

নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই ওই সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ (WB Election 2026) উদ্ধার করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। যেসব বুথে এই ধরনের প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা গিয়েছে, সেখানকার ব্যাকআপ ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। কমিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। তাই কোনও ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়লে তা খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সূত্রের খবর অনুযায়ী, শুধু একটি বা দুটি নয়, একাধিক বুথে একই ধরনের সমস্যা ধরা পড়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যেখানে ক্যামেরা বন্ধ থাকার সময় ভোটের হার স্থির ছিল, কিন্তু ক্যামেরা পুনরায় চালু হওয়ার পর ভোটের হার হঠাৎ বেড়ে গেছে, সেই সমস্ত বুথকে বিশেষ নজরে রাখা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন পুনরায় ভোটগ্রহণের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে। কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনও বুথে ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে অথবা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে পর্যাপ্ত নজরদারি সম্ভব না হয়, তাহলে সেই বুথে পুনরায় ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। সূত্রের দাবি, এমন কয়েকটি বুথ চিহ্নিত করা হয়েছে যেখানে এই ধরনের অনিয়মের সম্ভাবনা রয়েছে।

Advertisements

অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলির তরফে দাবি করা হচ্ছে, পুরো বিষয়টি আরও গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তাদের মতে, ভোট প্রক্রিয়ার সময় সিসিটিভি বন্ধ হয়ে যাওয়া অত্যন্ত গুরুতর বিষয় এবং এতে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। অন্যদিকে, শাসক দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে, তবে এর সঙ্গে কোনও অনিয়ম জড়িত আছে কি না, তা কমিশন তদন্ত করলেই স্পষ্ট হবে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিটি বুথের সিসিটিভি ফুটেজ বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। যেখানে কোনও ধরনের গ্যাপ বা অস্বাভাবিকতা পাওয়া যাবে, সেখানে আরও গভীর তদন্ত চালানো হবে। প্রয়োজনে ফরেনসিক পর্যায়ের ডিজিটাল বিশ্লেষণও করা হতে পারে।

Advertisements