নয়াদিল্লি: ভারতীয় জনতা পার্টির সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা পার্লামেন্টারি বোর্ড (Parliamentary Board)নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। এই বর্ডার জন্যই চারজন প্রভাবশালী মুখ্যমন্ত্রীর নাম নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, মহারাষ্ট্রের দেবেন্দ্র ফড়নবিস, অসমের হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, এই চারজনকেই বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমোদন পেলেই (Parliamentary Board)ই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে পারে বলে দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গিয়েছে।পার্লামেন্টারি বোর্ড বিজেপির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। দলের রাজনৈতিক কৌশল, নির্বাচনী প্রার্থী বাছাই, সরকার গঠন থেকে শুরু করে বড় বড় সিদ্ধান্ত সবকিছুরই মূল কেন্দ্র এই বোর্ড। সাধারণত এর সদস্য সংখ্যা সীমিত থাকে। বর্তমানেও এতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ কয়েকজন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতা রয়েছেন।
আরও দেখুনঃ অভিষেকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফের চালু, কড়া বার্তা আদালতের
এতদিন মুখ্যমন্ত্রীদের (Parliamentary Board)এই বোর্ডে রাখার ব্যাপারে দলের ভিতরেই কিছুটা দ্বিধা ছিল। কারণ বোর্ডই মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন করে। তাই ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রীকে সদস্য করা হলে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে এমন আশঙ্কা অনেকের মধ্যে ছিল। কিন্তু এবার পরিস্থিতি বদলে যাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে।যোগী আদিত্যনাথকে নিয়ে আলোচনা সবচেয়ে বেশি।
উত্তরপ্রদেশের (Parliamentary Board)মতো বিশাল রাজ্যের প্রশাসন চালানোর পাশাপাশি তিনি দলের হিন্দুত্ববাদী ভাবমূর্তিকেও শক্তিশালী করেছেন। ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর থেকেই তাঁর প্রভাব আরও বেড়েছে। মহারাষ্ট্রের দেবেন্দ্র ফড়নবিসও দীর্ঘদিন ধরে দলের অন্যতম সংগঠক। মহারাষ্ট্রের জটিল রাজনীতিতে তিনি বারবার দলকে স্থিতিশীল রেখেছেন। অসমের হিমন্ত বিশ্ব শর্মা উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
আরও দেখুনঃ গভীর রাতে বিধ্বংসী আগুন! বিস্ফোরণে ঝলসে মৃত ৩ সদ্যোজাত
আর শুভেন্দু অধিকারী (Parliamentary Board)পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়ে তিনি যেভাবে দলকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন এবং তৃণমূল কে সরিয়ে বিজেপি সরকার তৈরী করেছেন , তা শীর্ষ নেতৃত্বের নজরে আছে।দলের নতুন জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন সংগঠন পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছেন। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই পার্লামেন্টারি বোর্ডে পরিবর্তন আনার কথা ভাবা হচ্ছে। সূত্রের খবর, চার মুখ্যমন্ত্রীর নাম নিয়ে ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে।
শীর্ষ নেতৃত্ব যদি সবুজ সংকেত দেন, তাহলে খুব শিগগিরই এই অন্তর্ভুক্তি ঘোষণা হতে পারে। এতে দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে বলে অনেকে মনে করছেন। রাজ্য স্তরের অভিজ্ঞতা জাতীয় পর্যায়ের নীতিতে যোগ হলে তা দলের জন্য উপকারী হবে।তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
পার্লামেন্টারি বোর্ডের গঠন ও সদস্য সংখ্যা নিয়ে দলের সংবিধানে স্পষ্ট নিয়ম রয়েছে। সেই নিয়ম মেনেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কিছু নেতা মনে করেন, মুখ্যমন্ত্রীদের অন্তর্ভুক্তি করলে বোর্ড আরও শক্তিশালী হবে। আবার কেউ কেউ বলছেন, ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রীদের বাইরে রাখাই ভালো, যাতে নিরপেক্ষতা বজায় থাকে। এই দুই মতের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেই শেষ সিদ্ধান্ত হবে।
