অবৈধ পার্কিংয়ে কড়াকড়ি-জিওট্যাগিংয়ে ময়লা পরিষ্কার! বড় ঘোষণা অগ্নিমিত্রা পালের

পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার গঠনের পর প্রশাসনিক স্তরে একের পর এক বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া শুরু হয়েছে। (Agnimitra Paul)এবার শহরের অবৈধ পার্কিং, বেআইনি পার্কিং ফি আদায়,…

agnimitra-paul-illegal-parking-geotagging-cleanliness

পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার গঠনের পর প্রশাসনিক স্তরে একের পর এক বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া শুরু হয়েছে। (Agnimitra Paul)এবার শহরের অবৈধ পার্কিং, বেআইনি পার্কিং ফি আদায়, মহিলাদের নিরাপত্তা এবং শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, গত ১৫ বছরে শহরের রাস্তাঘাট ও নাগরিক পরিষেবার যে অব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, তা দূর করতেই সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিতে চলেছে।

Advertisements

   

মন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রথম বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে শহরের রাস্তার দু’ধারে অবৈধ পার্কিং নিয়ে। তাঁর কথায়, দীর্ঘদিন ধরে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন শহরে রাস্তায় যেভাবে দুই দিকেই গাড়ি পার্কিং চলছিল, তাতে যানজট ভয়াবহ আকার নিয়েছে। তাই এবার থেকে নির্দিষ্ট রাস্তার শুধুমাত্র এক দিকেই পার্কিংয়ের অনুমতি দেওয়া হবে। অন্য দিকে কোনওভাবেই গাড়ি দাঁড় করানো যাবে না। প্রশাসনের দাবি, এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে শহরের যান চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক হবে।

আরও দেখুনঃ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে কটুক্তি করে পোস্ট! দিনহাটায় পুলিশের জালে দুই মুসলিম যুবক

শুধু পার্কিং নয়, বেআইনিভাবে পার্কিং ফি আদায়ের বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান নিয়েছে সরকার। অগ্নিমিত্রা পালের অভিযোগ, বহু জায়গায় পার্কিং লট থেকে অবৈধভাবে টাকা তোলা হচ্ছিল এবং সেই অর্থের কোনও কর সরকারের কোষাগারে জমা পড়ছিল না। ফলে বিপুল রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছিল। তিনি স্পষ্ট জানান, এখন থেকে এই ধরনের বেআইনি টাকা তোলা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে এবং সমস্ত কর সরকারিভাবে জমা দিতে হবে। এই বিষয়ে পুরসভা ও নগরোন্নয়ন দফতর যৌথভাবে নজরদারি চালাবে বলেও জানান তিনি।

Advertisements

এদিন মহিলা ও শিশু সুরক্ষা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, এতদিন যে হেল্পলাইন নম্বর শুধুমাত্র শিশুদের জন্য ব্যবহৃত হত, সেটিকে এবার মহিলা হেল্পলাইন হিসেবেও ব্যবহার করা হবে। অর্থাৎ একই নম্বরে ফোন করে মহিলা ও শিশু—উভয়েই প্রয়োজনীয় সাহায্য পেতে পারবেন। পাশাপাশি নারী ও শিশু কল্যাণ দফতর এবং নগরোন্নয়ন দফতরের অধীনে পৃথক কল সেন্টার তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। সেখানে সাধারণ মানুষ ফোন করে নিজেদের সমস্যা ও অভিযোগ জানাতে পারবেন।

তবে সবচেয়ে আলোচিত ঘোষণা এসেছে শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে। অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, গত ১৫ বছরে কলকাতা ও আসানসোলের মতো শহরে যত্রতত্র আবর্জনা জমে থাকার প্রবণতা ভয়াবহ আকার নিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই সময়মতো পরিষ্কার করা হয়নি। এই সমস্যা সমাধানে এবার প্রযুক্তির সাহায্য নিতে চলেছে সরকার। একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ চালু করা হবে, যেখানে সাধারণ মানুষ জিওট্যাগ করা ছবি তুলে পাঠাতে পারবেন। সেই ছবি পাওয়ার দু’ঘণ্টার মধ্যেই সংশ্লিষ্ট পুরসভা বা কর্পোরেশনকে গিয়ে আবর্জনা পরিষ্কার করতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হবে।

মন্ত্রী অবশ্য নাগরিকদের দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শুধু প্রশাসনের উপর সব দায়িত্ব চাপিয়ে দিলে হবে না, সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, “রাস্তার উপর যেখানে সেখানে আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে হবে। পরিষ্কার রাখা যেমন সরকারের দায়িত্ব, তেমনই নাগরিকদেরও সচেতন হওয়া জরুরি।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকারের এই পদক্ষেপগুলি মূলত শহুরে নাগরিক পরিষেবাকে আরও কঠোর ও প্রযুক্তিনির্ভর করার দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে অবৈধ পার্কিং ও আবর্জনা সমস্যায় দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুব্ধ শহরবাসীর একাংশ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। এখন দেখার, প্রশাসন কত দ্রুত এই ঘোষণাগুলিকে বাস্তবে কার্যকর করতে পারে।

Advertisements