তৃণমূলের জন্য দরজা খোলা রাখলেন অধীর

মুর্শিদাবাদ: তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা যেন থামছেই না। (Adhir Ranjan)নির্বাচনে বড় ধাক্কা খাওয়ার পর সংখ্যা গরিস্ট নেতা-বিধায়ক মমতা-অভিষেককে বর্জন করে ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়কে সমর্থন জানিয়েছেন। এই…

adhir-ranjan-chowdhury-on-tmc-crisis-congress-door-open-for-leaders

মুর্শিদাবাদ: তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা যেন থামছেই না। (Adhir Ranjan)নির্বাচনে বড় ধাক্কা খাওয়ার পর সংখ্যা গরিস্ট নেতা-বিধায়ক মমতা-অভিষেককে বর্জন করে ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়কে সমর্থন জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে প্রদেশ কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তৃণমূলের নেতারা বিজেপির কাছে আত্মসমর্পণ করছেন। এছাড়াও তিনি বলেছেন তৃণমূলীদের জন্য কংগ্রেসের দরজা খোলা থাকবে এবং ভবিষ্যতে বিজেপির বিরুদ্ধে জোট বেঁধে লড়াইয়ের কোথাও তিনি বলেছেন।

Advertisements

মুর্শিদাবাদে সংবাদ সম্মেলনে অধীর বলেন “যারা তৃণমূল ছেড়ে নতুন দল গড়ার চেষ্টা করছেন বা অন্য দলে যাচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অন্তত একটি অভিযোগ তো আছেই। এটা বিজেপির কাছে আত্মসমর্পণ ছাড়া আর কিছু নয়।” তিনি আরও যোগ করেন, “একনাথ শিন্ডে মডেল বাংলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। টিএমসির বিধায়করা ভয় পাচ্ছেন যে, তাঁরা যদি বিজেপিতে যোগ দেন তাহলে মুসলিম সম্প্রদায় তাঁদের ছাড়বে না।”

   

আরও দেখুনঃ সরকারি ওয়েবসাইটে বিপর্যয়, অনলাইন আবেদন বন্ধ অন্নপূর্ণা ভান্ডারে

অধীর রঞ্জন চৌধুরীর এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। তিনি বলেন, “এসব বিধায়কদের দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলেই তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করছেন। অধীর মনে করেন, এই সব সরে যাওয়া আসলে দলের ভিতরের দুর্বলতা প্রকাশ করছে। তিনি বলেন, “তৃণমূলের অনেকেই এখন বুঝতে পারছেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আর টিকে থাকা সম্ভব নয়। তাই তাঁরা হয় বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন।” নয়ত নব্য তৃণমূল গঠন করছেন।

মুর্শিদাবাদসহ বিভিন্ন জেলাতেও টিএমসির অন্দরে অসন্তোষ বাড়ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। অনেক বিধায়ক ও স্থানীয় নেতা দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা, টিকিট বিতরণে অসন্তোষ এবং নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। কেউ কেউ চুপিসাড়ে বিজেপি বা অন্য দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলেও অভিযোগ উঠছে। এই আবহেই অধীরের এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আবার অনেকেই বলছেন তৃণমূলের দুর্দিনে নিজেদের ফায়দা তুলতে চাইছে কংগ্রেস।

Advertisements

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অধীর রঞ্জন চৌধুরীর এই আক্রমণাত্মক বক্তব্য কংগ্রেসেরও একটি কৌশল হতে পারে। তৃণমূলের ভাঙনকে কাজে লাগিয়ে কংগ্রেস নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে চাইছে। তবে বাস্তবে তৃণমূলের ভাঙন যদি বড় আকার নেয়, তাহলে বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হবে।

Advertisements