কলকাতা: বাইরে থেকে দেখলে আগস্ট মাসে বাগান, তৃণভূমি বা শহরের পার্ক বেশ সবুজ ও প্রাণবন্তই মনে হয়। কিন্তু মৌমাছিদের (Honeybees) জন্য গ্রীষ্মের শেষভাগটি আশ্চর্যজনকভাবে কঠিন সময় হয়ে উঠতে পারে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, জুলাইয়ের শেষভাগ এবং আগস্টে মধু সংগ্রহ করতে মৌমাছিদের বসন্তকালের তুলনায় বেশি পরিশ্রম করতে হয়, অথচ সেই পরিশ্রমের তুলনায় তারা কম শক্তি পায়। ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্সের গবেষকরা এই তথ্য জানিয়েছেন।
‘ফাংশনাল ইকোলজি’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাটিতে ব্রাইটন ও এডিনবরার বিভিন্ন সবুজ এলাকায় মৌমাছির চলাফেরা এবং ফুলে ফুলে যাওয়ার আচরণ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, গ্রীষ্মের শেষভাগে ফুলের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং পরাগসংগ্রহকারী বিভিন্ন পতঙ্গের মধ্যে প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়াই এই ‘মধুর ঘাটতি’র অন্যতম কারণ। গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, বাগান, রাস্তার ধারের সবুজ এলাকা এবং পার্কে থিসল, র্যাগওর্ট ও ন্যাপউইডের মতো গ্রীষ্মের শেষভাগে ফোটা গাছগুলিকে কিছুটা বেশি সময় ফুলতে দেওয়া হলে মৌমাছিদের গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যের উৎস পাওয়া যেতে পারে।
Also Read | ২০৩৫ র মধ্যে ভারত তৈরী করবে নিজের স্পেস স্টেশন! ঘোষণা ISRO চেয়ারম্যানের
মৌমাছিদের কাছে বছরের প্রতিটি ঋতু একই রকম নয়। বসন্তে উইলো, চেরি এবং হর্স চেস্টনাটের মতো গাছে প্রচুর ফুল ফোটে। সেই সময় মৌচাকের সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং নতুন কর্মী মৌমাছি তৈরি হয়। ফলে বিপুল পরিমাণ মধুরস ও পরাগের প্রয়োজন হয় এবং বসন্তের ফুল তাদের সেই চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে।
কিন্তু গ্রীষ্মের শেষভাগে ফুলের পরিবেশ দ্রুত বদলে যায়। বসন্তে মৌমাছিদের খাবারের জোগান দেওয়া অনেক গাছের ফুল ফোটা শেষ হয়ে যায়। একই সময়ে বাড়ির বাগান, রাস্তার ধারের ঘাসের জমি কিংবা পার্কের ঘাস কেটে ফেলা হয়। ফলে কোনও এলাকা দেখতে সবুজ থাকলেও সেখানে মৌমাছিদের জন্য পর্যাপ্ত মধুরস উৎপাদনকারী ফুল নাও থাকতে পারে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয় পরাগসংগ্রহকারী পতঙ্গের প্রতিযোগিতা। গ্রীষ্মের শেষভাগে মধুমাছি, ভোমরা, একাকী মৌমাছি, হোভারফ্লাই, প্রজাপতি এবং অন্যান্য ফুলভুক পতঙ্গ সক্রিয় থাকে। কিন্তু তাদের জন্য ফুলের সংখ্যা কমে গেলে একই কয়েকটি ফুলের ওপর অনেক বেশি পতঙ্গকে নির্ভর করতে হয়। ফলে মৌমাছিদের আরও দূরে উড়ে যেতে, বেশি ফুল খুঁজতে এবং একটি উপযুক্ত খাদ্যের উৎসের সন্ধানে বেশি সময় ব্যয় করতে হয়। অথচ সেই ফুল থেকে পাওয়া মধুরস সবসময় তাদের ব্যয় করা শক্তি পুরোপুরি পূরণ করতে পারে না।
ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্সের গবেষণায় জুলাইয়ের শেষভাগ এবং আগস্টেই এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা গিয়েছে। ব্রাইটন ও এডিনবরার পর্যবেক্ষণেও একই ধরনের প্রবণতা পাওয়া যায়। দুই শহরের মধ্যে দূরত্ব প্রায় ৬০০ কিলোমিটার। ফলে ব্রিটেনের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্রীষ্মের শেষভাগ মৌমাছিদের জন্য কঠিন সময় হতে পারে বলে গবেষকরা মনে করছেন। তবে স্থানীয় পরিবেশ, জমির ব্যবহার এবং আবহাওয়ার কারণে পরিস্থিতির পার্থক্য হতে পারে।
গবেষকরা মৌমাছির খাদ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে শুধু কত দূর উড়ছে তা দেখেননি, বরং তারা কত শক্তি খরচ করছে এবং তার বিনিময়ে কতটা শক্তি পাচ্ছে, সেটিও হিসাব করেছেন। এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন সবুজ এলাকায় মৌমাছির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়। গবেষণার স্থানগুলির মধ্যে ছিল আর্থার’স সিট, রয়্যাল বোটানিক গার্ডেন এডিনবরার মতো এলাকা এবং ফালমার গ্রামের আশপাশের সবুজ অঞ্চল।
মৌমাছির শক্তি খরচ বোঝার জন্য গবেষকরা ৬০ সেকেন্ডের সময়কালে তারা কতক্ষণ উড়ছে এবং কতক্ষণ হাঁটছে, তা পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি কোন প্রজাতির কতগুলি ফুলে মৌমাছি যাচ্ছে এবং সেই ফুলে কতটা মধুরস রয়েছে, তাও পরিমাপ করা হয়। মোট ১,২১৭টি মৌমাছির খাদ্য সংগ্রহের তথ্য এবং ১,৪২৬টি ফুলের মধুরস সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
Also Read |পরিবেশের অবক্ষয়! সমুদ্রের ৪৬০০ নমুনা বিশ্লেষণে উঠে এল বাস্তুতন্ত্র টিকিয়ে রাখা বিরল ব্যাকটেরিয়া
এর মাধ্যমে গবেষকরা মৌমাছির খাদ্য সংগ্রহকে একটি শক্তির হিসাব হিসেবে দেখেছেন। একটি মৌমাছির যাত্রা তখনই লাভজনক হয়, যখন ফুল থেকে পাওয়া শক্তি খাবার খুঁজতে উড়ে যাওয়া এবং অনুসন্ধানের সময় ব্যয় করা শক্তির চেয়ে বেশি হয়। কিন্তু যদি কম খাবারের জন্য মৌমাছিকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়, তাহলে সেই খাদ্য সংগ্রহের লাভ কমে যায়।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বসন্তে মৌমাছিদের মধু সংগ্রহ সবচেয়ে বেশি কার্যকর ছিল। গ্রীষ্মের শেষভাগে সেই শক্তির বিনিময়ে পাওয়া খাদ্যের পরিমাণ কমে যায়। এর ফলে আগের গবেষণায় পরোক্ষভাবে যে বিষয়টি উঠে এসেছিল, নতুন গবেষণা সেটিকে আরও সরাসরি প্রমাণ করেছে। অর্থাৎ আগস্ট মাসে মৌমাছিদের মধু সংগ্রহের জন্য বেশি পরিশ্রম করতে হয়।
এই পরিস্থিতির অন্যতম প্রধান কারণ ফুলের সংখ্যা কমে যাওয়া। অনেক গাছ এবং গ্রীষ্মের শুরুতে ফোটা বুনো ফুল গ্রীষ্মের মাঝামাঝি সময়ের পর ফুল দেওয়া বন্ধ করে দেয়। তাদের পরিবর্তে নতুন ফুল না ফুটলে মৌমাছিদের খাদ্যের বিকল্প কমে যায়।
এর সঙ্গে রয়েছে প্রতিযোগিতা। যখন অল্প কয়েকটি প্রজাতির ফুলই ফোটে, তখন একই জায়গায় অনেক বেশি পরাগসংগ্রহকারী পতঙ্গ জড়ো হয়। একটি ফুলের বাগান বা ছোট এলাকায় মৌমাছি ও অন্যান্য পতঙ্গ একসঙ্গে মধুরস এবং পরাগ সংগ্রহ করতে থাকে। ফলে পরবর্তী মৌমাছির জন্য সেই ফুলে থাকা খাবারের পরিমাণ কমে যেতে পারে।
ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্সের ল্যাবরেটরি অব এপিকালচার অ্যান্ড সোশ্যাল ইনসেক্টসের আগের গবেষণাতেও দেখা গিয়েছিল, জুলাই এবং আগস্টে মৌমাছিদের বেশি পরিশ্রম করতে হয়। সেই গবেষণায় মৌমাছির উড়ে যাওয়ার দূরত্ব এবং পর্যাপ্ত মধুরস ছাড়াই মৌচাকে ফিরে আসা মৌমাছির সংখ্যা বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। নতুন গবেষণা সেই পর্যবেক্ষণকে আরও শক্তিশালী করেছে, কারণ এবার খাদ্য সংগ্রহের খরচ এবং লাভ দুটোই সরাসরি পরিমাপ করা হয়েছে।
গবেষণার অন্যতম সহ-লেখক অধ্যাপক ফ্রান্সিস র্যাটনিক্সের মতে, সরাসরি শক্তির হিসাব থেকে বোঝা যাচ্ছে যে আগের গবেষণায় যে প্রবণতা দেখা গিয়েছিল, সেটিই বাস্তব। সহজ কথায়, যে সময়ে প্রচুর পরাগসংগ্রহকারী পতঙ্গ খাবারের সন্ধানে সক্রিয় থাকে, ঠিক সেই সময়েই মৌমাছিদের জন্য মধু সংগ্রহের পরিস্থিতি সবচেয়ে কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
এই সমস্যা কিছুটা কমাতে সাধারণ মানুষও ভূমিকা নিতে পারেন। গ্রীষ্মের শেষভাগে ফোটা কিছু বুনো গাছকে ফুল ফোটার জন্য আরও কিছুদিন রেখে দেওয়া যেতে পারে। থিসল, র্যাগওর্ট এবং ন্যাপউইডের মতো গাছকে অনেক সময় আগাছা হিসেবে দেখা হলেও মৌমাছিদের জন্য এগুলি গুরুত্বপূর্ণ মধুরস ও পরাগের উৎস হতে পারে।
এর অর্থ অবশ্য এই নয় যে বাগান সম্পূর্ণ অযত্নে ফেলে রাখতে হবে। বাগানের একটি ছোট অংশ বুনো গাছের জন্য ছেড়ে রাখা যেতে পারে। ফুল ফোটা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘাস কাটার কাজ কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া যেতে পারে। একইভাবে পুরসভা এবং জমির মালিকেরা রাস্তার ধারের ঘাস, পার্ক ও অন্যান্য খোলা জায়গায় ঘাস কাটার সময়সূচি কিছুটা বদলাতে পারেন।
গ্রীষ্মের শেষভাগে ফোটে এমন ফুল লাগানোও কার্যকর হতে পারে। এমন একটি বাগান তৈরি করা যায় যেখানে বসন্ত থেকে শরৎ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ফুল ফুটবে। এতে বছরের কোনও একটি সময়ে প্রচুর ফুল এবং তার পর দীর্ঘ সময় কোনও ফুল না থাকার পরিস্থিতি কমানো সম্ভব।
গবেষণার সহ-লেখক ড. সিয়ারান হ্যারিসের মতে, শুধুমাত্র বসন্তে প্রচুর ফুল লাগানোর পরিবর্তে গ্রীষ্মের শেষভাগে ফোটা ফুল রাখা এবং তথাকথিত আগাছার প্রতি কিছুটা সহনশীল হওয়া মৌমাছিদের জন্য বেশি কার্যকর হতে পারে। কারণ সাহায্যের সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বসন্তে ফুলে ভরা একটি বাগান দেখতে সুন্দর হলেও বছরের সবচেয়ে কঠিন কয়েক সপ্তাহে সেটি মৌমাছিদের খুব বেশি সাহায্য নাও করতে পারে।
আবহাওয়াও এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তীব্র তাপপ্রবাহ ফুলে মধুরসের পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে এবং স্বাভাবিক ফুল ফোটার সময় বদলে দিতে পারে। অত্যধিক গরমে কোনও গাছ স্বাভাবিকের চেয়ে আগে ফুল দিতে পারে, ফুল ফোটার সময়কাল কমে যেতে পারে অথবা ফুলে মধুরসের পরিমাণ কমতে পারে। দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হলে গাছপালাও দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সুস্থ ফুলের সংখ্যা কমে যেতে পারে।
ফুল ফোটার সময়ের এই পরিবর্তন শুধু ফুলের সংখ্যা কমার সমস্যা নয়। মৌমাছিরা সারা বছর বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন ফুলের ওপর নির্ভর করে। সেই ধারাবাহিক খাদ্য সরবরাহের কোনও একটি পর্যায়ে বড় ধরনের ফাঁক তৈরি হলে অন্য ফুল দিয়ে তা পূরণ করা কঠিন হতে পারে।
কৃষির তীব্রতা বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক আবাসস্থল কমে যাওয়া এবং রাস্তার ধারে বা জমির সীমানায় বুনো গাছপালা সরিয়ে ফেলার মতো দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের সঙ্গেও এই সমস্যা যুক্ত হতে পারে। গ্রীষ্মের শেষভাগের বুনো ফুল তাই মৌমাছিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প খাদ্যের উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে।
গবেষণাটি মূলত মধুমাছিকে কেন্দ্র করে হলেও এর প্রভাব অন্যান্য পরাগসংগ্রহকারী পতঙ্গের ক্ষেত্রেও পড়তে পারে। মধুমাছি বিভিন্ন ধরনের ফুলে যায় বলে কোনও এলাকার মধুরসের জোগান বোঝার ক্ষেত্রে তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে কাজ করতে পারে। মধুমাছিরা যদি লাভজনক ফুল খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়ে, তাহলে অন্যান্য পতঙ্গও একই ধরনের খাদ্য সংকটে পড়তে পারে।
ভোমরা, একাকী মৌমাছি, প্রজাপতি এবং হোভারফ্লাইয়ের জীবনচক্র ও খাদ্য সংগ্রহের পদ্ধতি এক নয়। তবে ফুলের খাদ্যের ক্ষেত্রে তাদের অনেকেরই একই উৎসের ওপর নির্ভরতা রয়েছে। বিশেষ করে যখন ফুলের সংখ্যা কমে যায়, তখন এই প্রতিযোগিতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
গ্রীষ্মের শেষভাগ অনেক পরাগসংগ্রহকারী পতঙ্গের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়। কেউ নিজের জন্য খাবার সংগ্রহ করে, কেউ শীতের প্রস্তুতি নেয়, আবার কেউ তাদের বংশধরদের জন্য খাবার জমা করে। ফলে এই সময় খাদ্যের ঘাটতি হলে শুধু প্রাপ্তবয়স্ক পতঙ্গ নয়, পরবর্তী প্রজন্মও প্রভাবিত হতে পারে।
গবেষকরা অবশ্য সতর্ক করেছেন যে তাঁদের গবেষণা মাত্র দুটি এলাকার সবুজ পরিবেশকে কেন্দ্র করে করা হয়েছে। তাই বিভিন্ন ধরনের জমির ব্যবহার কীভাবে সারা বছর মধুরসের জোগানকে প্রভাবিত করে, তা নিশ্চিতভাবে বলার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।
বাড়ির বাগান এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বড় কৃষিজমি বা অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত পার্কের তুলনায় বাগানে সাধারণত বিভিন্ন ধরনের শোভাবর্ধক গাছ, ঝোপ, গাছ এবং বুনো গাছপালা থাকে। ফলে এমন সময়েও ফুল পাওয়া যেতে পারে, যখন আশপাশের অন্য এলাকায় ফুলের সংখ্যা কমে যায়।
পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থাপনাও সাহায্য করতে পারে। জমির সীমানায় ফুলের গাছ রাখা, বুনো গাছপালা সংরক্ষণ করা এবং ফুলে ভরা অংশ বজায় রাখার মাধ্যমে গ্রীষ্মের শেষভাগে মৌমাছিদের অতিরিক্ত খাদ্যের উৎস দেওয়া সম্ভব।
গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হল, আগস্ট মাসটিকে উপেক্ষা করা উচিত নয়। বাগান থেকে প্রতিটি বুনো ফুল তুলে ফেলা বা গ্রীষ্মের মাঝামাঝি সময়ে ফুলে ভরা রাস্তার ধারের ঘাস কেটে দেওয়ার ফলে মৌমাছিদের হাতে থাকা অল্প কিছু খাদ্যের উৎসও নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
তাই বাগানের একটি ছোট অংশ কিছুটা বুনো অবস্থায় রাখা, ঘাস কাটার সময় কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া, গ্রীষ্মের শেষভাগে ফোটা ফুল লাগানো কিংবা পরিচিত কিছু ‘আগাছা’ ফুল ফোটা পর্যন্ত রেখে দেওয়ার মতো ছোট পদক্ষেপও কাজে আসতে পারে।
গবেষণার সরাসরি শক্তি-পরিমাপ থেকে যে ছবিটি উঠে এসেছে তা বেশ স্পষ্ট। আগস্টে মৌমাছিরা শুধু কম ফুলে যাচ্ছে না, বরং কম খাবারের জন্য বেশি পরিশ্রম করছে। গ্রীষ্মের শেষভাগে ফুলের জোগান কিছুটা বাড়িয়ে দিতে পারলে সেই পরিশ্রম কমানো সম্ভব।
অর্থাৎ, যখন গ্রীষ্মের শেষদিকে একটি পরিচ্ছন্ন বাগানের ফুল ফুরিয়ে আসছে, তখন সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা একটি থিসল, ন্যাপউইড কিংবা ছোট্ট বুনো ফুলের জমিই হয়তো মৌমাছিদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যের উৎস হয়ে উঠতে পারে।
