মণিপুরে উত্তেজনা চরমে! ৫ দিনের জন্য বন্ধ ইন্টারনেট

মণিপুর: মণিপুরের উখরুল জেলায় ইন্টারনেট সেবা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে (Manipur)। রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্র বিভাগ ১০ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) একটি আদেশ জারি করে জানিয়েছে…

manipur-ukhrul-internet-suspension-five-days

মণিপুর: মণিপুরের উখরুল জেলায় ইন্টারনেট সেবা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে (Manipur)। রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্র বিভাগ ১০ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) একটি আদেশ জারি করে জানিয়েছে যে জেলার সমগ্র রাজস্ব এলাকায় ব্রডব্যান্ড, ভিপিএন, ভিস্যাটসহ সব ধরনের ইন্টারনেট ও ডেটা সেবা অস্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা হবে। এই স্থগিতাদেশ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১:৩০ থেকে শুরু হয়েছে এবং পাঁচ দিন অর্থাৎ ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে।

Advertisements

সরকারের যুক্তি, জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থির হয়ে উঠেছে, এবং কিছু অসামাজিক উপাদান সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে ছবি, পোস্ট, ভিডিও বার্তা ছড়িয়ে জনগণের আবেগকে উস্কে দিতে পারে, যা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলায় গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। এই প্রতিরোধমূলক ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে উখরুলে সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনা।

   

আরও দেখুন: দেশে পাকিস্তানী ওষুধ নিষিদ্ধ করে ভারতের হাত ধরল তালিবান সরকার

মঙ্গলবার সকালে লিতান গ্রামে (লিতান সারেইখং এলাকা) বেশ কয়েকটি পরিত্যক্ত বাড়িতে আগুন লাগানো হয় এবং গুলি চালানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এটি তাংখুল নাগা সম্প্রদায়ের একজন সদস্যের ওপর কথিত হামলার প্রতিক্রিয়া। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ৫০টিরও বেশি বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে তাংখুল এবং কুকি সম্প্রদায়ের বাড়ি রয়েছে।

এই ঘটনায় গ্রামবাসীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং অনেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে পাশের কাংপোকপি জেলায় চলে যান। সশস্ত্র দলগুলো রাতারাতি হামলা চালিয়ে বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে, এবং লিতান গ্রামে কারফিউ জারি করা হয়েছে।উখরুল জেলা মণিপুরের পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত, যেখানে তাংখুল নাগা এবং কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা রয়েছে।

Advertisements

২০২৩ সাল থেকে চলা জাতিগত সংঘর্ষের প্রভাব এখনও অব্যাহত। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে অভিযোগ উঠেছে যে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রদাহমূলক ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করা হচ্ছে। সরকারের আশঙ্কা, এ ধরনের কনটেন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে জীবনহানি, সম্পত্তি ধ্বংস এবং মিথ্যা গুজবের মাধ্যমে ব্যাপক অশান্তি ছড়াতে পারে।

তাই টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিসেস (টেম্পোরারি সাসপেনশন) রুলস ২০২৪-এর অধীনে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। উখরুলের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অশীষ দাসের অনুরোধের ভিত্তিতে গৃহ কমিশনার এই আদেশ দেন।এই ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব পড়বে। অনলাইন যোগাযোগ, ব্যাঙ্কিং, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছু ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অনেকে বলছেন, এটি স্বাধীনতা ও তথ্যের অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ। তবে সরকারের দাবি, এটি সাময়িক এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে তুলে নেওয়া হবে। নিরাপত্তা বাহিনী এলাকায় মোতায়েন রয়েছে, এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে। উপমুখ্যমন্ত্রী লোশি দিখোসহ কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

Advertisements