কলকাতার শিল্পকলায় চমক! ১৮ বছর পর নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকে সব্যসাচী

কলকাতা: প্রায় ১৮ বছর পর নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকে (New York Fashion Week) ফিরলেন ভারতীয় ফ্যাশন ডিজাইনার সব্যসাচী মুখোপাধ্যায়। নিউইয়র্কে তাঁর নতুন ‘বেঙ্গল বাইজান্টাইন ব্রডওয়ে’ কালেকশন…

sabyasachi-new-york-fashion-week-return-bengal-byzantine-broadway-2026

কলকাতা: প্রায় ১৮ বছর পর নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকে (New York Fashion Week) ফিরলেন ভারতীয় ফ্যাশন ডিজাইনার সব্যসাচী মুখোপাধ্যায়। নিউইয়র্কে তাঁর নতুন ‘বেঙ্গল বাইজান্টাইন ব্রডওয়ে’ কালেকশন আন্তর্জাতিক ফ্যাশন দুনিয়ায় ভারতীয় কারুশিল্পের নতুন পরিচয় তুলে ধরেছে। বহু মরশুম ধরে চলা এই রানওয়ে প্রদর্শনীতে দ্য মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্টের সঙ্গে সহযোগিতায় তৈরি হাই জুয়েলারিও ছিল অন্যতম আকর্ষণ।

Advertisements

সব্যসাচীর নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকে শেষ রানওয়ে শো হয়েছিল ২০০৯ সালে। তার আগে ২০০৬ সালে নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকে তাঁর অভিষেক হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর তাঁর প্রত্যাবর্তন তাই ফ্যাশন দুনিয়ায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

   

কলকাতা, বাইজান্টাইন ঐতিহ্য ও নিউইয়র্কের আধুনিকতার মেলবন্ধন

আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন কালেকশন তৈরির ক্ষেত্রে সব্যসাচী দ্য মেট থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছেন। মানবসভ্যতার ৫,০০০ বছরেরও বেশি ইতিহাস সংরক্ষণকারী এই প্রতিষ্ঠানের ঐতিহাসিক ও শিল্পকলা ভাণ্ডার তাঁর নতুন কালেকশনের ভাবনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।

মোট ৭২টি লুক নিয়ে তৈরি এই কালেকশনে সমকালীন ভারতীয় কারুশিল্পের সঙ্গে বাইজান্টাইন সভ্যতার সাংস্কৃতিক ঐশ্বর্য, কলকাতার শিল্পরুচি এবং নিউইয়র্কের আধুনিকতাকে একসঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। পোশাকের নকশায় সংযম এবং আড়ম্বর, দুই ধরনের ভাবনাই দেখা গিয়েছে। জাপানি ডেনিম, ব্রিটিশ টুইড, ক্যাশমিয়ার, মোহেয়ার এবং ভেলভেটের সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে ফ্লুইড ট্রাউজার্স, ড্রেপড স্কার্ট, ছোট জ্যাকেট এবং কামারবান্ড।

Advertisements

Read More: বাংলার শিল্পে ২৫০০০ কোটি বিনিয়োগের সংকল্প সঞ্জীব গোয়েঙ্কার

বাঘের মোটিফ থেকে হাই জুয়েলারি

রানওয়ের ছবি প্রকাশ্যে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে সব্যসাচীর নতুন কালেকশনের বিভিন্ন মুহূর্ত। ভারতীয় কারুশিল্প সম্পর্কে সামান্য ধারণা থাকলেও এই পোশাকগুলিতে ব্যবহৃত সূক্ষ্ম এমব্রয়ডারি, পরিচিত জুয়েলড টাইগার মোটিফ, বিডওয়ার্ক এবং নজরকাড়া হাই জুয়েলারির বৈশিষ্ট্য সহজেই চোখে পড়ে। কালেকশনের সামগ্রিক স্টাইলকে আরও আধুনিক এবং আন্তর্জাতিক করে তুলেছে সিল্ক স্কার্ফ, পানামা ও কাউবয় হ্যাট, বিশেষভাবে তৈরি হ্যান্ডব্যাগ, বড় আকারের অ্যাসিটেট সানগ্লাস এবং ধাতব টিপযুক্ত জুতো। অর্থাৎ, ভারতীয় কারুশিল্পের ঐতিহ্যকে সরাসরি ঐতিহ্যবাহী পোশাকে আটকে না রেখে আধুনিক শহুরে ফ্যাশনের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা রয়েছে এই কালেকশনে।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by Sabyasachi (@sabyasachiofficial)

‘কলকাতায় তৈরি, বিশ্বমঞ্চে নতুন উত্তরাধিকার’

প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কলকাতায় পরিকল্পিত এবং দক্ষ কারিগরদের হাতে তৈরি এই কালেকশন সাংস্কৃতিক স্মৃতিকে আধুনিক উত্তরাধিকারে রূপ দিয়েছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফ্যাশন দুনিয়ায় ভারতীয় কারুশিল্পের একটি স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। সব্যসাচী নিজেও হাতে তৈরি কাজকে বিলাসিতার ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখেছেন। এল-এর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, “হাতে তৈরি, আমার মনে হয়, বিলাসিতার শেষ সীমান্ত।” ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত সব্যসাচীর লেবেল ইতিমধ্যেই ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের বহু তারকার জন্য বিশেষ পোশাক তৈরি করেছে। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, দীপিকা পাড়ুকোন, ঐশ্বর্য রাই, আলিয়া ভাট, অনুষ্কা শর্মা, শাহরুখ খান এবং রানি মুখোপাধ্যায়ের মতো তারকারাও তাঁর তৈরি পোশাক পরেছেন।

Read More: বদলে যাচ্ছে কলকাতার চেনা রাস্তার নাম? লেনিন সরণি থেকে কার্ল মার্কস..বড় প্রস্তাব তথাগতর

ভারতের পরিচিতিকে নতুনভাবে তুলে ধরতে চান সব্যসাচী

ভারতকে শুধু হাতি, ময়ূর বা ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের দেশ হিসেবে দেখার প্রবণতা নিয়েও কথা বলেছেন সব্যসাচী। তাঁর মতে, ভারত একই সঙ্গে ইতিহাস, শিল্প, সংস্কৃতি, আধুনিকতা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রের সমন্বয়ে তৈরি একটি জটিল ও বৈচিত্র্যময় দেশ। তাঁর বক্তব্য, ভারতের দিকে একটি নির্দিষ্ট স্টেরিওটাইপের দৃষ্টিতে তাকানো হয়। সেই ধারণা বদলানোই তাঁর অন্যতম উদ্দেশ্য। তাঁর তৈরি পোশাকে কারুশিল্প আধুনিক ভাষা হিসেবে থাকবে, কিন্তু সেটিই ভারতের সম্পূর্ণ পরিচয় নয়।

ভারতীয় কারুশিল্পের আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন উপস্থাপনা

নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকে সব্যসাচীর প্রত্যাবর্তন তাই শুধু একটি নতুন ফ্যাশন কালেকশনের প্রদর্শনী নয়। ‘বেঙ্গল বাইজান্টাইন ব্রডওয়ে’তে কলকাতার কারিগরি ঐতিহ্য, ভারতীয় শিল্পরীতি এবং আধুনিক আন্তর্জাতিক ফ্যাশনের মধ্যে একটি সংযোগ তৈরি করা হয়েছে। সমকালীন সিলুয়েট, ঐতিহ্যবাহী এমব্রয়ডারি, জুয়েলারি এবং আধুনিক আনুষঙ্গিকের মেলবন্ধনের মাধ্যমে সব্যসাচীর এই কালেকশন দেখিয়েছে, ভারতীয় কারুশিল্পকে ঐতিহ্যের গণ্ডিতে আটকে না রেখে আধুনিক বিলাসিতার ভাষাতেও উপস্থাপন করা সম্ভব।

Advertisements