৩৪০০ কোটির প্রকল্পে রাজ্যেই তৈরী হবে যুদ্ধজাহাজ! শুভেন্দু-রাজনাথের নজরে খিদিরপুর-গার্ডেনরিচ, ইছাপুর

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও প্রতিরক্ষা পরিকাঠামোয় বড়সড় সম্প্রসারণের (warship)ঘোষণা ঘিরে রবিবার কলকাতার গার্ডেনরিচে ছিল বিশেষ আয়োজন। গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স বা GRSE এবং যন্ত্র ইন্ডিয়া…

west-bengal-warship-manufacturing

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও প্রতিরক্ষা পরিকাঠামোয় বড়সড় সম্প্রসারণের (warship)ঘোষণা ঘিরে রবিবার কলকাতার গার্ডেনরিচে ছিল বিশেষ আয়োজন। গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স বা GRSE এবং যন্ত্র ইন্ডিয়া লিমিটেডের একাধিক নতুন প্রকল্পের ভূমিপুজো ও শিলান্যাস অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।

Advertisements

অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও উপস্থিত ছিলেন। (warship)রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ ও প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৩৪০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ হতে চলেছে।

   

আরও দেখুনঃ পাকিস্তান সরকারের অর্থায়নে রেকর্ড সময়ে পুনর্নির্মাণ হল সিঁদুরে মাটিতে মিশে যাওয়া জৈশ র সদর দফতর

রবিবারের অনুষ্ঠানে মোট পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ভূমিপুজো করা হয়।(warship) গার্ডেনরিচ, খিদিরপুর, শালিমার, রায়চক এবং ইছাপুরে এই নতুন পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। প্রকল্পগুলির লক্ষ্য শুধু জাহাজ নির্মাণের পরিসর বাড়ানো নয়, প্রতিরক্ষা উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত পরিকাঠামোকেও আরও শক্তিশালী করা। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পে নতুন কর্মসংস্থান ও শিল্পের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisements

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী এই বিনিয়োগকে বাংলার জন্য গর্বের দিন বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে যুদ্ধজাহাজ (warship)নির্মাণ ক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগ হচ্ছে এবং কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে কাজ করে এই প্রকল্পগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাঁর দাবি, শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি হলে বাংলায় আরও বিনিয়োগ আসতে পারে। একইসঙ্গে তিনি আগের রাজ্য সরকারগুলির নীতির সমালোচনা করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের সমন্বয়ের অভাবে শিল্প ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ পিছিয়ে ছিল।

আরও দেখুনঃ ২০২৯ এই ২২ বিধানসভা ভেঙে ‘ওয়ান নেশন ওয়ান ইলেক্শনের’ বাস্তবায়ন করতে পারে NDA

শুভেন্দুর বক্তব্যে উঠে আসে সীমান্ত নিরাপত্তার প্রসঙ্গও। তাঁর দাবি, রাজ্যের বর্তমান সরকার সীমান্ত সুরক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রয়োজন অনুযায়ী জমি দেওয়ার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করা হচ্ছে। তাঁর মতে, শিল্পের পাশাপাশি নিরাপদ সীমান্তও রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। সেই কারণেই প্রতিরক্ষা ও সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিকাঠামো তৈরিতে রাজ্য সরকার সহযোগিতা করবে।

অন্যদিকে, অনুষ্ঠানে রাজনাথ সিং (warship)ও পশ্চিমবঙ্গে নতুন প্রতিরক্ষা প্রকল্পের সূচনাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার জন্য বিভিন্ন রাজ্যে উৎপাদন ও পরিকাঠামো বাড়ানো হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে একসঙ্গে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়াকে তিনি রাজ্যের শিল্পক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরেন।

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কথায়, দীর্ঘদিন পশ্চিমবঙ্গ থেকে শিল্প বন্ধ হওয়ার খবর সামনে এলেও বর্তমানে বিনিয়োগ ও নতুন প্রকল্পের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তাঁর দাবি, সঠিক নীতি, আত্মবিশ্বাস এবং উন্নয়নের সদিচ্ছা থাকলে কোনও রাজ্যের অগ্রগতি আটকানো সম্ভব নয়। পশ্চিমবঙ্গেও শিল্পের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Advertisements