কলকাতা: দুর্গাপুরে সম্প্রতি উপড়ে ফেলা হয়েছে জওহরলাল নেহেরুর একটি মূর্তি।(Tathagata Roy) এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ফের কলম ধরলেন তথাগত রায়। নিজের এক্সহ্যান্ডেলে পোস্ট করে তিনি বলেছেন তিনি মূর্তি উপড়ে ফেলার সমর্থন করেন না। তবে তিনি কিছু ঐতিহাসিক তথ্য তুলে ধরেছেন যা কাংগ্রেসকর্মীদের জানা উচিত বলে মনে করেন।
তথাগত রায় লিখেছেন, নেহরু বাঙালি হিন্দুদের প্রতি এক ধরনের গভীর বিদ্বেষ পোষণ করতেন, যা সম্ভবত সুভাষচন্দ্র বসুর সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্ব থেকে উদ্ভূত। রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি তা সতর্কতার সঙ্গে প্রকাশ করতেন না, কিন্তু ১৯৪৬ সালে একবার তা বেরিয়ে পড়ে। তখন তিনি মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে নোয়াখালীতে গিয়েছিলেন, যেখানে হিন্দুদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল।
আরও দেখুনঃ দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের মৃত্যদণ্ডই শ্রেয়! দেশের আইন ব্যবস্থা নিয়ে সরব তথাগত
শিয়ালদা স্টেশন চত্বরের ফুডপ্লাজায় আচমকা আগুন! ব্যস্ত সোমের সকালে তুমুল আতঙ্ক
রাম মনোহর লোহিয়ার ‘গিল্টি মেন অব ইন্ডিয়াজ পার্টিশন’ (Tathagata Roy)বইয়ে উল্লেখ আছে যে, নেহরু লোহিয়াকে বলেছিলেন, “দেখো, মাঠের জল এখনো শোখায়নি! এটা সেই ভারত নয় যা আমরা জানি এই অংশ ভারত থেকে আলাদা হয়ে গেলে ক্ষতি কী?” বা এ ধরনের কথা।১৯৫০ সালে পূর্ব পাকিস্তানে রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট হিন্দুবিরোধী হিংসার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় তখন জনসংখ্যা বিনিময়ের দাবি জানিয়েছিলেন, যেমন পাঞ্জাবে হয়েছিল।
কিন্তু নেহরু তা প্রত্যাখ্যান করেন এই যুক্তিতে যে মুসলমানরা ভারতের ওপর আস্থা রেখেছে। অথচ ১৯৪৫ সালের নির্বাচনে তাদের ৯৫ শতাংশ মুসলিম লীগকেই ভোট দিয়েছিল। এরপর নেহরু লিয়াকত আলি খানের সঙ্গে চুক্তি করেন এবং বিধানচন্দ্র রায়কে বলেন যে হিন্দুদের ভারতে আসতে দেওয়া উচিত নয়, কারণ লিয়াকত আলি হিন্দুদের রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এর প্রতিবাদে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় নেহরুর মন্ত্রিসভা (Tathagata Roy)থেকে পদত্যাগ করেন এবং পরবর্তীতে ভারতীয় জনসংঘ প্রতিষ্ঠা করেন।এই পোস্টটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন দুর্গাপুরে নেহরুর একটি মূর্তি উপড়ে ফেলার ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। স্থানীয় কংগ্রেস নেতারা অভিযোগ করেছেন যে মূর্তিটি সরিয়ে কাছের জঙ্গলে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। পরে পুলিশ মূর্তিটি পুনরায় স্থাপন করেছে। তথাগত রায় মূর্তি উপড়ে ফেলার বিরোধিতা করেই ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন।
ঐতিহাসিকদের মতে, লোহিয়ার বইয়ে নেহরুর নোয়াখালী সফরকালীন মন্তব্যের উল্লেখ রয়েছে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পদত্যাগও নেহরু-লিয়াকত চুক্তির বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে হয়েছিল। তিনি পূর্ববঙ্গের হিন্দুদের নিরাপত্তার জন্য জনসংখ্যা বিনিময়ের পক্ষে ছিলেন। এই ঘটনাগুলো ভারতের স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
তথাগত রায়ের (Tathagata Roy)পোস্টে এই ঐতিহাসিক প্রসঙ্গগুলো তুলে ধরায় সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ তাঁর বক্তব্যকে ইতিহাসের পুনর্মূল্যায়ন হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যাই হোক, নোয়াখালী দাঙ্গা, ১৯৫০-এর হিংসা এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা আজও ইতিহাসচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে আছে।
