নন্দীগ্রামের পর ভবানীপুরে শুভেন্দু, মমতার গড়ে বিজেপির বড় কৌশল

নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুরে প্রার্থী হয়ে বিজেপির কৌশল আরও আগ্রাসী করলেন শুভেন্দু অধিকারী। মমতার গড়েই সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে ২০১৪-র ‘ডাবল সিট’ মডেল কি ফের প্রয়োগ করতে চাইছে বিজেপি, এই প্রশ্নেই সরগরম বাংলা রাজনীতি।

suvendu-adhikari-bhabanipur-nandigram-bjp-strategy-bengal-election

রানা দাস, কলকাতা: নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুরে বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। এ নিয়ে বিজেপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উন্মাদনার অন্ত নেই। একুশের পর ফের হারবেন মমতা! এটাই এখন চর্চায়। বিষয়টা কি এতই সহজ? একদমই নয়। এর পিছনে রয়েছে রাজনীতির গভীর অঙ্ক। যে অঙ্ক কষে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। ছাব্বিশের ভোটে কি সেই অঙ্কেই খোদ মমতার গড়ে তৃণমূলকে কুপোকাত করতে চান শুভেন্দু?

Advertisements

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ১২ বছর পিছিয়ে যেতে হবে। সালটা ২০১৪। দেশজুড়ে মোদী হাওয়া শুরু হয়েছে। তাঁকে বিজেপির মুখ করা হল। গুজরাতের ভদোদরার মতো নিশ্চিত আসনে তিনি প্রার্থী হলেন। সেই সঙ্গে কঠিন জমি বারাণসীতেও তিনি প্রার্থী হলেন। সেটাই ছিল বিজেপির খেলা ঘোরানো সিদ্ধান্ত। গো-বলয়ে ব্যাপক সাফল্য পায় পদ্ম শিবির। বদলে যায় দেশের রাজনৈতিক ছবি।

   

ছাব্বিশের ভোটে বাংলার ছবিটাও খানিক সেরকম। অঘোষিতভাবে বঙ্গ বিজেপির মুখ শুভেন্দু অধিকারী। নিজের কেন্দ্র নন্দীগ্রাম থেকে তিনি লড়ছেন। বিজেপির দলবদলু প্রার্থী নিয়ে প্রচারে ঝড় তুলছে তৃণমূল। সবই যে ফাঁপা আওয়াজ তা বিলক্ষণ জানেন ঘাসফুলের কেষ্টবিষ্টুরা। এরই মাঝে স্নায়ুর চাপ বাড়িয়েছে ভবানীপুরে প্রার্থী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা। এসআইআরে বিপুল নাম বাদ পড়েছে এই কেন্দ্রে। এমনই পরিস্থিতি হয়েছে যে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে হয়েছে, “এক ভোট হলেও ভবানীপুরে জিতব।”

বিরোধীপক্ষের শীর্ষ ব্যক্তিকে এমন চাপে ফেলা সফল রণকৌশল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সেই সঙ্গে একাংশের দাবি, কলকাতায় বিজেপি খুবই দুর্বল। শুভেন্দুর সৌজন্যে ভোট বাড়লেও জিততে পারবে কী? এক্ষেত্রেও সেই ২০১৪ সালের অঙ্ক। বারাণসীর প্রার্থী হিসেবে নরেন্দ্র মোদীর নাম ঘোষণা হতেই সব নজর সেই কেন্দ্রে গিয়ে পড়ে। প্রশ্ন ওঠেনি, বহিরাগত প্রার্থী কেন? উল্টে স্লোগান ওঠে, “হর হর মোদী। ঘর ঘর মোদী।” সেই জোয়ারে উত্তরপ্রদেশের মোট লোকসভা আসনের ৯০ শতাংশ জেতে বিজেপি। অথচ ২০১২ সালের বিধানসভা ভোটের নিরিখে উত্তরপ্রদেশে বিজেপি তৃতীয় স্থানে ছিল। আর ২০০৯ সালের হিসেবে ছিল চতুর্থ স্থানে। বারাণসীতে মোদীর প্রার্থী হওয়া এবং তাঁকে হিন্দু হৃদয় সম্রাট হিসেবে তুলে ধারায় অনেক হিসেব বদলে যায়। ছাব্বিশের ভোটে তেমনই কিন্তু হচ্ছে বঙ্গ রাজনীতিতে। আর এসবের কেন্দ্রে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।

Advertisements

এক্ষেত্রে অনেকে প্রশ্ন করতেই পারেন, রাহুল গান্ধীও একাধিক আসনে লড়াই করেছেন। কিন্তু কংগ্রেসের পালে হাওয়া ওঠেনি। উল্টে ভরাডুবি হয়েছে? এ বিষয়ে উত্তর খুব স্পষ্ট। ২০১৪ সালে আমেঠিতে রাহুল গান্ধীকে বেগ দেন স্মৃতি ইরানি। হারের আতঙ্কেই ২০১৯ সালে আমেঠির সঙ্গে ওয়ানাড় থেকে লড়েন রাহুল। নিজের সাংসদপদ ধরে রাখাটাই তাঁর লক্ষ্য ছিল। বড় কোনও উদ্দেশে তিনি দুই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হননি।

Advertisements