৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন (West Bengal Bypolls 2026) । তার আগে সংখ্যালঘু ভোটারদের উদ্দেশে মন্তব্য করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার হলদিয়ায় বিজেপির সভা থেকে তিনি দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচনকে সংখ্যালঘু ভোটারদের জন্য ‘পরীক্ষা’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, ভোটারদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তাঁরা সরকারের সঙ্গে থাকবেন কি না।
শুভেন্দুর কথায়, ‘‘আপনারা সরকারের সঙ্গে, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকতে চান কি না, তা আপনাদের সিদ্ধান্ত।’’ তিনি আরও বলেন, সরকারের সঙ্গে থেকে সহযোগিতা ও কাজ করতে চাইলে ৬ অক্টোবরের ভোটই সেই ‘পরীক্ষা’। পরীক্ষায় কে পাশ করবেন, কে ফেল করবেন, সেই সিদ্ধান্ত ভোটারদেরই নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দু বলেন, মুসলিমদেরই প্রমাণ করতে হবে যে তাঁরা বিজেপির বন্ধু।
দুই কেন্দ্রেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যালঘু ভোট
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্রেই সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ফলে উপনির্বাচনের আগে এই ভোটব্যাঙ্ককে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলির প্রচারে বিশেষ গুরুত্ব দেখা যাচ্ছে। রেজিনগরে সংখ্যালঘু ভোটারের অনুপাত নন্দীগ্রামের তুলনায় অনেক বেশি। সেই কারণেই শুভেন্দুর মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
তবে নিজের বক্তব্যে নন্দীগ্রামে বিজেপির জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসও প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, নন্দীগ্রামে বিজেপির জয়ের ব্যবধান এমন হবে, যা অনেকের কল্পনারও বাইরে। রেজিনগর নিয়ে অবশ্য একই ধরনের দাবি করেননি তিনি।
বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ
শুভেন্দুর মন্তব্যের পর বিরোধী শিবির থেকে পাল্টা আক্রমণ শুরু হয়েছে। এজেইউপি নেতা হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে রাজনৈতিক ঔদ্ধত্য ও সাম্প্রদায়িকতার প্রকাশ রয়েছে। তাঁর দাবি, মুসলিম ভোটাররা এই মন্তব্যের জবাব উপনির্বাচনে দেবেন।
সিপিএমের মুর্শিদাবাদ জেলা সম্পাদক জামির মোল্লার অভিযোগ, সংখ্যালঘু ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তৃণমূলের মুখপাত্র কৃষ্ণানু মিত্রও শুভেন্দুর বক্তব্যকে ‘ভয় দেখানোর’ মতো মন্তব্য বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, ভোট কোনও ভোটারের পরীক্ষা নয়, বরং রাজনৈতিক দলগুলিরই পরীক্ষা।
নন্দীগ্রামে হাসিরানি, রেজিনগরে শাখারভ
এদিকে মঙ্গলবারই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিজেপি। নন্দীগ্রামে প্রার্থী হয়েছেন শুভেন্দুর প্রাক্তন সহযোগী চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথ। রেজিনগরে প্রার্থী হয়েছেন দলের প্রাক্তন মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি শাখারভ সরকার। ৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণ এবং ৯ অক্টোবর গণনা হবে।
ফলে প্রার্থী ঘোষণা, সংখ্যালঘু ভোট নিয়ে বার্তা এবং পাল্টা রাজনৈতিক আক্রমণ—সব মিলিয়ে ভোটের আগে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে।
