কলকাতার ৬ জায়গায় অভিযান ED-এর, ভোর থেকে তল্লাশি, ইন্দোরেও ১৭ ঠিকানায় হানা

চিটফান্ড সংক্রান্ত মামলার তদন্তে ফের কলকাতায় সক্রিয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। বুধবার সকাল থেকেই কলকাতার একাধিক জায়গায় একযোগে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সূত্রের…

saga-group-ponzi-scam

চিটফান্ড সংক্রান্ত মামলার তদন্তে ফের কলকাতায় সক্রিয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। বুধবার সকাল থেকেই কলকাতার একাধিক জায়গায় একযোগে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সূত্রের খবর, এপিএম চিটফান্ড সংস্থার টাকা নয়ছয়ের মামলায় কলকাতার ছ’টি ঠিকানায় তল্লাশি চলছে। একইসঙ্গে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরেও একাধিক জায়গায় অভিযান চালাচ্ছেন ED আধিকারিকরা। কলকাতা ও ইন্দোর মিলিয়ে মোট ১৭টি জায়গায় তল্লাশি চলছে বলে তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর।

Advertisements

ভোর থেকেই কলকাতায় ED-এর অভিযান

বুধবার সকাল ৬টা নাগাদ কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে যান ED আধিকারিকরা (Kolkata ED Raid)। নারকেলডাঙা, নেতাজিনগর এবং রবীন্দ্র সরোবর থানা এলাকার একাধিক ঠিকানায় শুরু হয় তল্লাশি। তদন্তকারীদের সঙ্গে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও। প্রথমে নারকেলডাঙা ও নেতাজিনগর এলাকায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে পৌঁছন তদন্তকারীরা। পরে আরও কয়েকটি ঠিকানাতেও অভিযান চালানো হয়।

   

ED সূত্রে খবর, একটি নির্মাণ সংস্থার ডিরেক্টর এবং চিটফান্ড মামলার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন বিনিয়োগকারীর ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, চিটফান্ডের মাধ্যমে সংগ্রহ করা টাকা ঘুরপথে নির্মাণ ব্যবসায় খাটিয়ে সাদা করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত কথিত ‘লিঙ্কম্যান’-দের ভূমিকা খতিয়ে দেখতেই এদিনের অভিযান বলে জানা গিয়েছে।

নির্মাণ ব্যবসায় চিটফান্ডের টাকা?

তদন্তকারীদের নজরে থাকা চিটফান্ড সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিনিয়োগকারীদের টাকা নির্মাণ ব্যবসায় লগ্নি করে মোটা অঙ্কের রিটার্ন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বহু বিনিয়োগকারী প্রতিশ্রুত টাকা বা সুদ-সহ অর্থ ফেরত পাননি বলে অভিযোগ। এরপর একাধিক থানায় প্রতারণার অভিযোগ দায়ের হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা গড়ায় তদন্তের দিকে।

Advertisements

ED-এর সন্দেহ, চিটফান্ডের মাধ্যমে তোলা টাকা নির্মাণ সংস্থার ব্যবসায় ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই অর্থের উৎস, আর্থিক লেনদেন, বিভিন্ন নথিপত্র এবং টাকা কোথায় কোথায় সরানো হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। মামলায় ইসিআর (ECIR) তৈরির পরই বুধবারের এই তল্লাশি অভিযান বলে সূত্রের খবর।

ইন্দোরেও একযোগে তল্লাশি

শুধু কলকাতা নয়, একই মামলার তদন্তে ইন্দোরেও একাধিক জায়গায় তল্লাশি চলছে। দুই শহর মিলিয়ে মোট ১৭টি ঠিকানায় ED-এর অভিযান ঘিরে তদন্ত আরও বিস্তৃত হয়েছে।

এদিকে, মঙ্গলবারই জমি দখল করে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে ব্যবসায়ী অমিত গঙ্গোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করেছে ED। দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় জমি দখল করে আবাসন তৈরির অভিযোগ রয়েছে তাঁর সংস্থার বিরুদ্ধে। ED সূত্রে দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে অসহযোগিতার অভিযোগেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনার পরের দিনই চিটফান্ড মামলায় কলকাতা ও ইন্দোরে ED-এর বড়সড় তল্লাশি নতুন করে তদন্তের পরিধি নিয়ে জল্পনা তৈরি করেছে।

Advertisements