প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে কলকাতা-সহ দেশের বিভিন্ন সরকারি বিমানবন্দরে শুরু হতে চলেছে ২৪ দিনের বিশেষ কর্মসূচি। সরকারি ভাবে যার নাম ‘যাত্রী সেবা অভিযান’, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে এই কর্মসূচি চলবে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত। বিমানবন্দর সূত্রে খবর, এই সময়ের মধ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যাত্রী সচেতনতা, পরিষেবা সংক্রান্ত প্রচার এবং বিভিন্ন যাত্রীকেন্দ্রিক উদ্যোগ নেওয়া হবে।
১৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু কর্মসূচি
প্রাথমিক ভাবে ১৭ সেপ্টেম্বর ‘যাত্রী সুবিধা দিবস’ হিসেবে একদিনের কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরে কর্মসূচির সময়সীমা বাড়িয়ে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপরই এর নাম দেওয়া হয় ‘যাত্রী সেবা অভিযান’। গত বছর ১৭ সেপ্টেম্বর ‘যাত্রী সেবা দিবস’ হিসেবে দিনটি পালন করা হয়েছিল বলে বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে।
১৭ সেপ্টেম্বর দিনটি ‘সেবা ও সংকল্প দিবস’ হিসেবে পালন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এদিন ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হতে পারে। পাশাপাশি লোকনৃত্য-সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন, যাত্রীদের গোলাপ দেওয়া এবং চন্দনের তিলক পরানোর মতো কর্মসূচিও রাখা হয়েছে।
বিমানবন্দরে থাকবে মোদীর ছবি দেওয়া স্ট্যান্ডি
এই ২৪ দিনের কর্মসূচিতে কলকাতা বিমানবন্দরের ডিপারচার, অ্যারাইভাল এবং সিকিউরিটি হোল্ড এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর ছবি দেওয়া স্ট্যান্ডি বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে যাত্রীরা সেলফিও তুলতে পারবেন বলে সূত্রের খবর।
তবে কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হিসেবে যাত্রী পরিষেবার উন্নতির উপরেই জোর দেওয়া হচ্ছে। এর অন্যতম উদ্যোগ ‘সুগম যাত্রা’। এর মাধ্যমে বিমানবন্দরে প্রবেশ থেকে শুরু করে চেক-ইন এবং বোর্ডিং গেট পর্যন্ত কোনও যাত্রীর কারও সাহায্যের প্রয়োজন হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনীয় সাইনেজের মাধ্যমে যাত্রীরা নিজেরাই যাতে সমস্ত পরিষেবা খুঁজে নিতে পারেন, সেই ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়া হবে।
পরিচ্ছন্নতা থেকে যানজট কমানো
২৪ দিনের মধ্যে একটি দিন ‘স্বচ্ছতা দিবস’ হিসেবে পালন করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিমানবন্দরের পরিচ্ছন্নতা, বিশেষ করে শৌচালয়গুলির পরিস্থিতির উপর নজর দেওয়া হবে। পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী যাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন, সেই ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হবে।
টার্মিনালের সামনের গাড়ির লেনগুলিতে যানজট কমানো, পার্কিং এলাকায় ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করার মতো বিষয়ও কর্মসূচির আওতায় রাখা হয়েছে।
এদিকে, কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী কিনজারাপু রামমোহন নাইডু এই ২৪ দিনের কোনও একদিন কলকাতা বিমানবন্দর পরিদর্শনে আসতে পারেন বলে সূত্রের খবর। বিমানবন্দরের দৈনন্দিন সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য ইতিমধ্যেই প্রতিদিনের রক্ষণাবেক্ষণ ও হাউসকিপিং দল গঠন করা হয়েছে। প্রতিদিন সকালে প্রায় দু’ঘণ্টা টার্মিনাল পরিদর্শন করে ছোট-বড় সমস্ত সমস্যা অ্যাপে নথিভুক্ত করার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
