মহারাষ্ট্রে গরবা-ডান্ডিয়া উৎসবে মুসলিম প্রবেশ নিষেধ! আর্জি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের

মুম্বই: মহারাষ্ট্রে আসন্ন নবরাত্রি উৎসবকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। (VHP)বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বা ভিএইচপি রাজ্যজুড়ে গরবা ও ডান্ডিয়া অনুষ্ঠানে মুসলিমদের অংশগ্রহণ না করার আহ্বান…

vhp-garba-dandiya-maharashtra

মুম্বই: মহারাষ্ট্রে আসন্ন নবরাত্রি উৎসবকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। (VHP)বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বা ভিএইচপি রাজ্যজুড়ে গরবা ও ডান্ডিয়া অনুষ্ঠানে মুসলিমদের অংশগ্রহণ না করার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি আয়োজকদের নির্দেশিকা দিয়েছে যাতে অংশগ্রহণকারীদের হিন্দু পরিচয় যাচাই করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে আধার কার্ড পরীক্ষা এবং কপালে তিলক লাগানোর ব্যবস্থা।

Advertisements

ভিএইচপির (VHP)জাতীয় মুখপাত্র ও যুগ্ম সম্পাদক শ্রিরাজ নায়ার বলেছেন, নবরাত্রি শুধু গান ও নাচের অনুষ্ঠান নয়। এটি দেবী পূজার উৎসব। মূর্তিপূজার বিরোধী মুসলিমরা কেন এতে অংশ নেবেন এমন প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সংগঠনটি জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়। এটি হিন্দু উৎসবের সাংস্কৃতিক চরিত্র রক্ষার জন্য সতর্কতামূলক পদক্ষেপ।

   

আরও দেখুনঃ দীর্ঘ ১৩ বছরের অপেক্ষা! ঝীরম নকশাল হামলায় অভিযুক্ত ১০ জনকেই দোষী সাব্যস্ত NIA আদালতে

নির্দেশিকা অনুযায়ী, অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের সময় আধার কার্ড দেখানো বাধ্যতামূলক করা হবে। অংশগ্রহণকারীদের কপালে তিলক লাগিয়ে হিন্দু পরিচয় নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। ভিএইচপি ও বজরং দলের স্বেচ্ছাসেবকরা বিভিন্ন ভেন্যুতে নজরদারি চালাবেন বলে জানানো হয়েছে। সংগঠনটি দাবি করেছে, এসব ব্যবস্থা ‘লাভ জিহাদ’ ও অন্যান্য অবাঞ্ছিত ঘটনা রোধে প্রয়োজন।মহারাষ্ট্রে নবরাত্রিতে এক লাখেরও বেশি জায়গায় গরবা-ডান্ডিয়া অনুষ্ঠিত হয়।

Advertisements

এই উৎসব রাজ্যের সাংস্কৃতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভিএইচপির (VHP)এই ঘোষণা সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ এটিকে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক সম্প্রীতির পরিপন্থী বলে মনে করছেন। অন্যরা বলছেন, উৎসবের ধর্মীয় চরিত্র রক্ষা করা জরুরি।সংগঠনটি আরও বলেছে, মুসলিমরা যদি অংশ নিতে চান তাহলে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করে আসতে পারেন।

নায়ার জানিয়েছেন, উৎসব হিন্দু সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ এবং এর চরিত্র নষ্ট করা যাবে না। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এই পদক্ষেপ কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়।এই ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া উঠেছে। কিছু আয়োজক সংগঠন নির্দেশিকা মেনে চলার কথা বলছেন। অন্যরা বলছেন, উৎসব সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা উচিত। পুলিশ ও প্রশাসন এখনো কোনো সরকারি নির্দেশনা জারি করেনি। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে যাতে কোনো উত্তেজনা না ছড়ায়।

Advertisements