ঐতিহ্যে বদল! লালকেল্লায় জাতীয় সঙ্গীতের আগেই ‘বন্দে মাতরম্’

নয়াদিল্লি: আট দশকের পুরনো ঐতিহ্যে বড়সড় বদল। ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার অনুষ্ঠানে এই প্রথম বার বদলাতে চলেছে পরিচিত ক্রম। আগামী ১৫ অগস্ট, ২০২৬-এ লালকেল্লা…

নয়াদিল্লি: আট দশকের পুরনো ঐতিহ্যে বড়সড় বদল। ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার অনুষ্ঠানে এই প্রথম বার বদলাতে চলেছে পরিচিত ক্রম। আগামী ১৫ অগস্ট, ২০২৬-এ লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণের আগে এবং জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-র পূর্বে গাওয়া হবে জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম্’। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে সরকারি ভাবে নয়া রদবদলের এই কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

Advertisements

এত বছর ধরে লালকেল্লার অনুষ্ঠানে একটি নির্দিষ্ট প্রোটোকল মেনে চলা হত, প্রধানমন্ত্রীর আগমন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সঙ্গীত এবং সব শেষে জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ। এ বার সেই রীতির বদল ঘটিয়ে ‘বন্দে মাতরম্’-কে অনুষ্ঠানের একেবারে প্রথম দিকে স্থান দেওয়া হয়েছে। ১৫ অগস্টের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রায় ২৭ হাজার অতিথি, পড়ুয়া এবং বিশিষ্টজনেরা, যাঁরা ‘বন্দে মাতরম্’ গাওয়ার সময় উঠে দাঁড়াবেন। এত দিন লালকেল্লার অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম্’ গাওয়া নিষিদ্ধ না থাকলেও, তা সরকারি রীতির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

   

কেন আচমকা এই বদল? সরকারের মতে, দেশের এই দু’টি দেশাত্মবোধক সৃষ্টির ঐতিহাসিক এবং সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট আলাদা। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘বন্দে মাতরম্’ মূলত ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সময় স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মূল মন্ত্র হয়ে উঠেছিল। এটি পরাধীন ভারতের জাতীয় জাগরণের প্রতীক, যা সংবিধান বা জাতীয় সঙ্গীত তৈরির অনেক আগে থেকেই মানুষের মুখে মুখে ফিরত। অন্য দিকে, ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি গণপরিষদে গৃহীত ‘জন গণ মন’ হল স্বাধীন এবং সার্বভৌম প্রজাতন্ত্রের সরকারি কণ্ঠস্বর। মোদী সরকারের মতে, ‘বন্দে মাতরম্’-কে আগে গাওয়ার অর্থ হল, সাংবিধানিক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের আগে দেশের আবেগ এবং উত্থানকে সম্মান জানানো।

চলতি বছর লালকেল্লার অনুষ্ঠানের থিম রাখা হয়েছে ‘যুব শক্তি’। তরুণ প্রজন্মকে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের সঙ্গে নিবিড় ভাবে যুক্ত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, সম্প্রতি সংসদে ‘প্রিভেনশন অফ ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার (সংশোধনী) আইন’ পাশ হয়েছে। এর ফলে জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম্’-কে জাতীয় সঙ্গীতের সমতুল্য আইনি মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে এই গানের অবমাননা বা ইচ্ছাকৃত ভাবে বিঘ্ন ঘটানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হবে। সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে, ‘বন্দে মাতরম্’ হল সেই গান, যা ভারতকে জাগিয়ে তুলেছিল; আর ‘জন গণ মন’ হল স্বাধীন ভারতের প্রতীক। এ বারের লালকেল্লার অনুষ্ঠানে দেশের এই জোড়া ঐতিহ্যেরই এক ঐতিহাসিক ও প্রতীকী মেলবন্ধন ঘটতে চলেছে।

Advertisements

১০০% মার্কিন শুল্ক-মুসলিম ন্যাটোর চাপেই FCRA নিয়ে সুর নরম মোদী সরকারের ?

১৫ অগস্টের আগে দিল্লিতে হাই অ্যালার্ট! প্রকাশ্যে ১৯ ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জঙ্গির পোস্টার

 

Advertisements