Defence Corridor: যোগী সরকারের আমলে উত্তর প্রদেশ প্রতিরক্ষা খাতে নিজেদের অংশীদারিত্ব দ্রুত বৃদ্ধি করছে এবং দেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। ‘উত্তর প্রদেশ ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোর’-এর আওতায় কানপুরে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গোলাবারুদ, ছোট আগ্নেয়াস্ত্র এবং আর্টিলারি বা কামানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ব্যাপক উৎপাদন এই রূপান্তরকে নতুন গতি জোগাচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে, ‘আদানি ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেস’-এর উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি কেবল দেশীয় গোলাবারুদ উৎপাদনকেই ত্বরান্বিত করছে না, বরং আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোর প্রক্রিয়াকে গতিশীল করার পাশাপাশি ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর লক্ষ্য অর্জনেও সহায়তা করছে। বিনিয়োগ, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ক্রমবর্ধমান উৎপাদন সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে কানপুর উত্তর প্রদেশে একটি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে নিজের পরিচিতি আরও সুদৃঢ় করে তুলছে।
কানপুরে আদানি ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেস-এর গোলাবারুদ উৎপাদন কেন্দ্রে একটি বিশেষ পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল প্রতিরক্ষা খাতে ভারতের স্বনির্ভরতার শক্তিশালী অবস্থান তুলে ধরা। এই প্রেক্ষাপটে, সংস্থার সিইও আশিস রাজবংশী তাদের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
ইউনিটটির ২৫০ একর এলাকা জুড়ে সম্প্রসারণ
কানপুরের হাতিপুর এলাকায় ইউনিটটিকে প্রায় ২৫০ একর জায়গা জুড়ে সম্প্রসারিত করার একটি প্রস্তাবও রয়েছে। কোম্পানির সিইও আশিস রাজবংশীর মতে, এই প্রস্তাবিত স্থাপনাটিতে প্রায় ২,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। কোম্পানিটি কানপুরে ইতিমধ্যেই প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে এবং আগামী কয়েক বছরে আরও ৪,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এর ফলে উত্তর প্রদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।
কানপুরে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন খাতে কোম্পানিটির বিনিয়োগ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হতে চলেছে। এর ফলে ‘উত্তর প্রদেশ ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোর’-এর আওতায় কানপুরের শিল্প ও কৌশলগত ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২,০০০ মানুষের কর্মসংস্থান
বর্তমানে আদানি ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেসের এই কেন্দ্রে প্রায় ২,০০০ দক্ষ ও অদক্ষ কর্মী কর্মরত রয়েছেন। প্রস্তাবিত সম্প্রসারণের ফলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কোম্পানির তথ্যমতে, এই নতুন কর্মসংস্থান কেবল উৎপাদন ইউনিটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং তা লজিস্টিকস এবং আশেপাশের এলাকায় অন্যান্য কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করবে।
