সেকেন্দ্রাবাদের সেনা অস্ত্রাগার থেকে অস্ত্র চুরির ঘটনায় অবশেষে রহস্যের জট খুলেছে ( armoury theft)। তেলেঙ্গানা পুলিশ বোলারাম সেনা অস্ত্রাগার থেকে গত ত্রিশ ও একত্রিশ অগাস্ট রাতে চুরি যাওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে। এই চুরির মূল অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে মাদ্রাজ রেজিমেন্টের প্রাক্তন হাবিলদার উপ্পুথোল্লা মল্লেশকে।
সাতত্রিশ বছর বয়সী এই ব্যক্তি সেনাবাহিনীতে ষোলো বছর চাকরি করার পর গত ত্রিশ জুন অবসর গ্রহণ করেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অকাল অবসরের কারণে ক্ষুব্ধ হয়েই তিনি এই কাজে জড়িয়ে পড়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।ঘটনাটি ঘটেছিল সেকেন্দ্রাবাদের বোলারাম সেনা ছাউনির উচ্চ নিরাপত্তাযুক্ত অস্ত্রাগারে।( armoury theft) রাতের অন্ধকারে অস্ত্র ও গোলাবারুদ চুরি হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়।
আরও দেখুনঃ জ্বালানি সংকটের মুখে বিশ্ব: পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতায় তেল-গ্যাসের দাম বাড়বে ভারতে?
স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নানা রকম গুজবও রটে যায়। বিশেষ করে অগ্নিবীর প্রকল্পকে কেন্দ্র করে কিছু ভিত্তিহীন গুজব ছড়ানো হয়েছিল। পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, অগ্নিবীর সংক্রান্ত সব গুজবই মিথ্যা ও বানোয়াট ছিল। তদন্তে এসব গুজবের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।তেলেঙ্গানা পুলিশ এই মামলার তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিল।
তারা প্রায় সাড়ে আট লক্ষ মোবাইল নম্বর বিশ্লেষণ করেছে এবং একশোরও বেশি ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এই বিস্তৃত তদন্তের ফলেই সাবেক হাবিলদার মল্লেশের সম্পৃক্ততা উঠে আসে। পুলিশ জানিয়েছে, মল্লেশ চাকরিজীবনে দীর্ঘদিন সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন। ( armoury theft)তবে ত্রিশ জুন তার অকাল অবসর কার্যকর হওয়ার পর তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। এই ক্ষোভ থেকেই তিনি অস্ত্রাগারে প্রবেশের সুযোগ কাজে লাগিয়ে চুরির পরিকল্পনা করেন বলে তদন্তকারীদের ধারণা।
চুরি যাওয়া সব অস্ত্র ও গোলাবারুদ ইতিমধ্যেই উদ্ধার করা হয়েছে। এতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ কিছুটা কমলেও উচ্চ নিরাপত্তাযুক্ত সেনা অস্ত্রাগারে এ ধরনের ঘটনা ঘটা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই প্রকাশ করেছে। কর্তৃপক্ষ এখন এই নিরাপত্তা ত্রুটিগুলো পর্যালোচনা করছে। কীভাবে একজন সাবেক সেনা সদস্য অস্ত্রাগারে প্রবেশ করতে পারলেন এবং অস্ত্র নিয়ে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হলেননা এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্ত চলছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকে সেনা ছাউনি এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সেনা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে নজরদারি বাড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই ঘটনা নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এত কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও কীভাবে চুরি সম্ভব হল। তবে পুলিশের দ্রুত তদন্ত ও অস্ত্র উদ্ধারের খবরে মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মল্লেশ একাই এই কাজ করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। (armoury theft)তবে তার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কিনা, তা আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য হওয়ায় মল্লেশ অস্ত্রাগারের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা সম্পর্কে অবগত ছিলেন। এই পরিচিতিই তার জন্য সুযোগ তৈরি করেছিল বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন।
