১০ বছরের অপেক্ষার অবসান, এই মাসেই হস্তান্তর হবে তেজস এমকে-১

Tejas Mk-1: দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এলসিএ (LCA) তেজস এমকে-১ যুদ্ধবিমানের প্রথম ব্যাচ হস্তান্তরের প্রায় এক দশকের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (হ্যাল)…

Tejas MK-1A

Tejas Mk-1: দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এলসিএ (LCA) তেজস এমকে-১ যুদ্ধবিমানের প্রথম ব্যাচ হস্তান্তরের প্রায় এক দশকের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (হ্যাল) এই মাসেই ভারতীয় বিমানবাহিনীর হাতে আরও দুটি ‘টুইন-সিটার’ বা দুই আসনবিশিষ্ট প্রশিক্ষক বিমান তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মাধ্যমেই তেজস এমকে-১ বিমানের জন্য দেওয়া মূল ৪০টি বিমানের অর্ডারের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে।

Advertisements

এই অর্ডারের প্রক্রিয়াটি দুটি ধাপে, ২০০৬ ও ২০১০ সালে, সম্পন্ন করা হয়। ২০১০ সালের ডিসেম্বরের এফওসি (FOC) অর্ডারের সরবরাহ ২০১৬ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা উল্লেখযোগ্যভাবে বিলম্বিত হয়। এছাড়া, ২০২৫ সালের মার্চ নাগাদ এই অর্ডারের খরচ বেড়ে ৬,৫৪২ কোটি টাকায় পৌঁছায়।

   

৪০টি তেজস এমকে-১ (Tejas Mk-1) বিমানের অর্ডার সম্পন্ন
৪০টি তেজস এমকে-১ বিমানের এই বহরে রয়েছে ১৬টি আইওসি (IOC) ফাইটার, ১৬টি এফওসি (FOC) ফাইটার এবং ৮টি দুই-আসনের প্রশিক্ষণ বিমান। এইচএএল (HAL) ২০২৩ সালের অক্টোবরে এই ব্যাচের প্রথম প্রশিক্ষণ বিমানটি হস্তান্তর করেছিল এবং ২০২৪ সালের মার্চের মধ্যে বাকি আটটি প্রশিক্ষণ বিমান হস্তান্তরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে; তবে সেই সময়সীমা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

Mk-1A-এর অপেক্ষায় বিমানবাহিনী
Mk-1-এর অধ্যায়টি যখন সমাপ্তির পথে, তখন বিমানবাহিনী এখনও ‘তেজস Mk-1A’-এর প্রথম চালান হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ৮৩টি Mk-1A বিমান (যার মধ্যে ৭৩টি যুদ্ধবিমান ও ১০টি প্রশিক্ষণ বিমান অন্তর্ভুক্ত) সংগ্রহের জন্য ৪৬,৮৯৮ কোটি টাকার একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। Mk-1A মডেলে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন বা আপগ্রেড যুক্ত করা হয়েছে, যেমন – AESA রাডার, উন্নত ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম এবং আকাশে জ্বালানি ভরার সক্ষমতা। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে বিমানগুলোর সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, কর্মসূচিটি উল্লেখযোগ্য বিলম্বের সম্মুখীন হয়েছে।

Advertisements

GE-র ইঞ্জিন একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে
Mk-1A কর্মসূচির ক্ষেত্রে GE অ্যারোস্পেসের F404-IN20 ইঞ্জিনের সরবরাহ একটি বড় বাধা হয়ে দেখা দিয়েছে। আগের সব অর্ডারের কাজ শেষ করার পর GE যুক্তরাষ্ট্রে তাদের F404 ইঞ্জিনের বিশেষ উৎপাদন লাইনটি বন্ধ করে দিয়েছিল। ২০২১ সালে HAL-এর কাছ থেকে ৯৯টি ইঞ্জিনের নতুন অর্ডার পাওয়ার পর সেই উৎপাদন লাইন ও সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরায় সচল করতে বেশ সময় লেগেছিল। কোভিড-১৯ মহামারিও এই প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব ফেলেছিল।

নতুন ব্যাচের প্রথম ইঞ্জিনটি অবশেষে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ভারতে এসে পৌঁছায়। বারবার বিলম্বের কারণে এইচএএল (HAL) জিই (GE)-এর বিরুদ্ধে চুক্তির শর্তানুযায়ী জরিমানার বিধান কার্যকর করেছে। এছাড়া, ইসরায়েলি প্রযুক্তির AESA রাডার ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম সংযোজন সংক্রান্ত কারিগরি জটিলতাও এই কর্মসূচির সময়সূচির ওপর প্রভাব ফেলেছে।

Advertisements