নয়াদিল্লি: লোন বা ঋণের কিস্তি শোধ না করলে জোর করে বা বেআইনি উপায়ে গাড়ি বা কোনো যানবাহন বাজোপ্ত করতে পারবে না কোনো ব্যাঙ্ক বা নন-ব্যাংকিং ফিনান্সিয়াল কোম্পানি (NBFC)। ঋণ আদায়ে বলপ্রয়োগ বা প্রতারণার পথ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে এক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি পি. এস নরসিমা এবং বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, গাড়ি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষেত্রে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (RBI) সমস্ত নির্দেশিকা ও আইনি নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। একইসঙ্গে, আরবিআই-এর গাইডলাইন শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে তা যাতে ব্যাংকগুলি সঠিকভাবে পালন করে, তার জন্য শীর্ষ ব্যাঙ্ককে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
রাতের অন্ধকারে জোর করে গাড়ি তুলে নেওয়ার ঘটনা ও আদালতের ভর্ৎসনা
চোলমণ্ডলম ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানির (Cholamandalam Investment and Finance Company) একটি ঋণ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে এই রায় দিয়েছে শীর্ষ আদালত। ২০১৯ সালে একটি ট্রাকের জন্য লোন নিয়েছিলেন এক ব্যক্তি। পরবর্তীতে কিস্তি বকেয়া থাকায় গত ২০২৩ সালের ৯ এপ্রিল গভীর রাতে (১টার সময়) সিসিটিভি ক্যামেরার সামনে ওই ট্রাকের স্টিয়ারিং লক ভেঙে জোর করে গাড়িটি তুলে নিয়ে যায় ফিনান্স কোম্পানির লোকজন। অথচ নিয়ম অনুযায়ী গাড়ি জব্দের আগে প্রয়োজনীয় সাত দিনের নোটিশও দেওয়া হয়নি। আদালতের পর্যবেক্ষণ, গভীর রাতে জোর করে বা তালা ভেঙে গাড়ি ছিনিয়ে নেওয়া কোনো শান্তিপূর্ণ পদ্ধতি হতে পারে না এবং এটি সম্পূর্ণ চুক্তি ও আইনের পরিপন্থী।
ফিনান্স কোম্পানিকে মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ ও লোন মেটানোর নির্দেশ
যদিও এই মামলায় বিক্রয় হওয়া গাড়িটি আর ফেরত দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে আদালত, তবে সংশ্লিষ্ট ফিনান্স সংস্থাকে বড় শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছে যে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির দুটি লোন অ্যাকাউন্টই অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং বিক্রয়লব্ধ ৪.৫ লক্ষ টাকা ৬ শতাংশ বার্ষিক সুদসহ ফেরত দিতে হবে। পাশাপাশি, মানসিক যন্ত্রণা ও জীবিকা হারানোর ক্ষতিপূরণ বাবদ ১০ লক্ষ টাকা এবং মামলা খরচ হিসেবে আরও ৫০ হাজার টাকা ওই ব্যক্তিকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মৃতদের ৯ লাখ, ক্ষতিগ্রস্তদের ৩০ হাজার! সবং পরিদর্শনে গিয়ে আর কী ঘোষণা শুভেন্দুর?
বাড়ি সংক্রান্ত নথি তলব! আজই পুরসভার দফতরে যেতে পারেন অভিষেকের বাবা
