‘বন্দে মাতরম্’ না গাওয়া ফৌজদারি অপরাধ নয়, ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের

নয়াদিল্লি: জাতীয় গান গাওয়া নিয়ে দেশজুড়ে চলা বিতর্কের মাঝে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ব্যক্তিগত বিচারবুদ্ধি থেকে কেউ যদি…

নয়াদিল্লি: জাতীয় গান গাওয়া নিয়ে দেশজুড়ে চলা বিতর্কের মাঝে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ব্যক্তিগত বিচারবুদ্ধি থেকে কেউ যদি ‘বন্দে মাতরম্’ না গাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে তাকে কোনোভাবেই ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। পাশাপাশি, এই বিষয়ে কেন্দ্রের অবস্থান জানতে চেয়েছে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বিশেষ বেঞ্চ।

Advertisements

ঠিক কী নিয়ে এই আইনি লড়াই?

কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে দেশের সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম্’-এর সম্পূর্ণ ছয়টি স্তবক গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন কর্নাটকের খ্যাতনামা শিল্পী টিএম কৃষ্ণ। তাঁর প্রধান দাবি, গানটির শেষ চারটিতে নির্দিষ্ট ধর্মীয় দেবদেবীর আরাধনা থাকায় তা সকলের উপর চাপিয়ে দেওয়া ধর্মনিরপেক্ষ দেশের ভাবমূর্তির সঙ্গে বেমানান। তাছাড়া, এই নিয়ম অমান্য করলে বা প্রতিবাদ জানালে তিন বছরের জেলের মতো কঠোর শাস্তির সংস্থান থাকায় তা নাগরিকের বাকস্বাধীনতার উপর সরাসরি হস্তক্ষেপ করছে।

   

অন্যদিকে, সরকারের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ এত সংকীর্ণ হতে পারে না এবং সংবিধানের প্রতি যাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে, তাঁদের এ নিয়ে আপত্তি থাকার কথা নয়।

আদালতের বার্তা

‘বন্দে মাতরম্’ যে দেশের জাতীয় গান, সে বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই বলে স্পষ্ট করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে মূল বিচার্য বিষয় হলো, এই গান গাওয়া বাধ্যতামূলক করার নীতি নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতার মৌলিক অধিকারকে (২৫ ও ২৬ নম্বর অনুচ্ছেদ) লঙ্ঘন করছে কি না। শুনানিতে ১৯৮৬ সালের ঐতিহাসিক ‘বিজয় ইম্যানুয়েল’ মামলার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছে, কোনো গান বা প্রতীক না গাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার নাগরিকের রয়েছে এবং তার জন্য কাউকে শাস্তি দেওয়া বা জোর করা আইনসম্মত নয়।

Advertisements
Advertisements