সোশ্যাল মিডিয়াতে দেওয়া যাবে না আদালতের ভিডিও রেকর্ডিং! নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টের নতুন নির্দেশে আদালতের শুনানির অডিও-ভিডিও (Supreme Court)রেকর্ডিং অনুমতি ছাড়া আপলোড বা শেয়ার করা নিষিদ্ধ হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে এক্স হ্যান্ডেল ইউটিউব…

supreme-court-recording-rules

নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টের নতুন নির্দেশে আদালতের শুনানির অডিও-ভিডিও (Supreme Court)রেকর্ডিং অনুমতি ছাড়া আপলোড বা শেয়ার করা নিষিদ্ধ হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে এক্স হ্যান্ডেল ইউটিউব বা অন্য কোনো সোশ্যাল মিডিয়ায় আদালতের ক্লিপ ছড়িয়ে পড়া অনেক কঠিন হয়ে যাবে। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে।

Advertisements

একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রসঙ্গ বিচ্ছিন্ন ক্লিপগুলো আদালতের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করছে এবং ন্যায়বিচার ব্যবস্থার উপর জনগণের আস্থা নষ্ট করছে। আবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, কিছু অংশ কেটে বা এডিট করে ভাইরাল করার ফলে পুরো শুনানির প্রকৃত চিত্র বিকৃত হয়ে যায়।

   

আরও দেখুনঃ মহিলা আন্দোলনকারীকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ, ভাইরাল ভিডিয়ো ঘিরে উত্তাল মুম্বই

ফলে সাধারণ মানুষ ভুল ধারণা পান এবং বিচারব্যবস্থা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। একজন আইনজীবী উল্লেখ করেছেন, সম্প্রতি একটি বেঞ্চের সামনে যে ভাইরাল হইচই হয়েছিল, তাতে পুরো বিচারব্যবস্থাকেই হাস্যকর করে তোলা হয়েছে।

Advertisements

সুপ্রিম কোর্টের এই পদক্ষেপকে অনেকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, আদালতের শুনানি একটি গুরুতর প্রক্রিয়া। সেখানে উত্তেজিত বিতর্ক, আইনজীবীদের যুক্তি-পালটা যুক্তি এবং বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণকে খণ্ডিতভাবে দেখালে পুরো ছবিটা বিকৃত হয়। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার কারণে একটি ছোট অংশ দেখে মানুষ পুরো মামলার রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলে বসেন।

এতে বিচারপতিদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।অন্যদিকে, স্বচ্ছতার পক্ষে যাঁরা আছেন, তাঁরা মনে করেন এই নিষেধাজ্ঞা বিচারব্যবস্থাকে সমালোচনার ঊর্ধ্বে রাখার প্রয়াস। তাঁদের যুক্তি, আদালতের কার্যক্রম জনস্বার্থে প্রকাশ্য হওয়া উচিত। লাইভ স্ট্রিমিংয়ের যুগে পুরো শুনানি রেকর্ড করে রাখা হয়, তাহলে নির্বাচিত অংশ প্রকাশে সমস্যা কোথায়? তাঁরা বলছেন, এতে সাধারণ মানুষ আদালতের কাজকর্ম আরও ভালোভাবে বুঝতে পারেন এবং বিচারপতিদের জবাবদিহিও নিশ্চিত হয়।

আরও দেখুনঃ শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় সিজেপি, সিদ্ধান্তের সময় চাইল কেন্দ্র

আইনজীবী মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ মনে করেন, এই নির্দেশ আদালতের মর্যাদা রক্ষায় প্রয়োজনীয়। আবার অনেকে বলছেন, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে নির্দিষ্ট নিয়মকানুন তৈরি করা যেতে পারত। যেমন পুরো শুনানি রেকর্ড করা থাকবে, কিন্তু অংশবিশেষ প্রকাশের আগে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। এতে স্বচ্ছতা ও মর্যাদা দুটোই রক্ষা পাবে।

সাধারণ মানুষের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কৌতূহল রয়েছে। অনেকে বলছেন, আগে আদালতের ভাইরাল ক্লিপ দেখে অনেক জটিল মামলা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেত। এখন সেই সুযোগ কমে যাবে। তবে যাঁরা আইনি প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস করেন, তাঁরা মনে করেন এই পদক্ষেপ বিচারব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।

Advertisements