নয়াদিল্লি: আখ চাষে রোগের প্রকোপ এবং অতিরিক্ত বৃষ্টির জোড়া ফলায় চলতি মরশুমে দেশে ধাক্কা খেয়েছে চিনি উৎপাদন। শুক্রবার কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি মরশুমে (অক্টোবর-সেপ্টেম্বর) চিনি উৎপাদন প্রাথমিক প্রত্যাশার চেয়ে বেশ কিছুটা কম হতে পারে। সরকার প্রথমে ৩৪৩ লক্ষ মেট্রিক টন (LMT) উৎপাদনের অনুমান করলেও, তা কমে ৩০৬ এলএমটি-র কাছাকাছি দাঁড়াতে পারে বলে খবর। অর্থাৎ উৎপাদন কমতে পারে প্রায় ১০.৭৯ শতাংশ। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর (PIB) তথ্য অনুযায়ী, মূলত আখের ‘রেড রট’ (Red Rot) এবং ‘টপ বোরার’ (Top Borer) রোগ এবং অতিরিক্ত বৃষ্টির জেরে জল জমার ফলেই এই ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
বাড়ছে চিনির দাম, আশ্বস্ত করল কেন্দ্র
উৎপাদন কমলেও কেন্দ্র আশ্বস্ত করেছে যে, নতুন ক্রাশিং সিজন (অক্টোবর) শুরু হওয়া পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ চিনির মজুত রয়েছে। তবে সম্প্রতি চিনির দামের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিয়ে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে সরকার। গত ২০ জুলাই (২০২৬) যেখানে চিনির দাম ছিল ৪৮.১৮ টাকা প্রতি কেজি, ঠিক এক মাস পর ২০ অগাস্ট তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫.৭০ টাকায়।
দাম বাড়ার কারণ কী? ইথানল তত্ত্ব ওড়াল কেন্দ্র
সরকারের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ইথানল উৎপাদনের জন্য চিনি ব্যবহারের কারণে দাম বাড়েনি। বরং ইথানল তৈরিতে চিনির ব্যবহার ২০২২-২৩ সালের ১২ শতাংশ থেকে কমে ২০২৫-২৬ সালে ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। বর্তমানে দেশে উৎপাদিত ইথানলের তিন-চতুর্থাংশই শস্য (বিশেষত ভুট্টা) থেকে তৈরি হচ্ছে।
কেন্দ্র জানিয়েছে, চিনির এই মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে, উৎপাদন ঘাটতি, উৎসবের মরশুমে বাড়তি চাহিদা, বিশ্বজুড়ে চিনির জোগান কমা এবং এক শ্রেণির ব্যবসায়ীর বেআইনি মজুতদারি। বিশ্বজুড়ে চিনির ঘাটতি প্রায় ৩৩ এলএমটি। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারেও মাত্র দু’মাসের ব্যবধানে টন প্রতি চিনির দাম ৪৭৪ ডলার থেকে একলাফে ১৬% বেড়ে ৫৫২ ডলার ছুঁয়েছে।
মজুতদারি রুখতে কড়া পদক্ষেপ সরকারের
উৎসবের মরশুমের আগে দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং কৃত্রিম আকাল রুখতে একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্র৷ ১ অগাস্ট থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে ডিলারদের জন্য সর্বোচ্চ ৪০০ টন চিনি মজুত রাখার সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ১ সেপ্টেম্বর থেকে বড় ক্রেতারা (Bulk consumers) ১৫ দিনের বেশি খরচের চিনি মজুত রাখতে পারবেন না।
বেআইনি মজুতদারি রুখতে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ দল চিনি কলগুলিতে আচমকা পরিদর্শন (Physical verification) চালাচ্ছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে জোগান স্বাভাবিক রাখতে ১০ লক্ষ মেট্রিক টন অপরিশোধিত চিনি (Raw Sugar) শুল্কমুক্ত আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য ও চিনি কলগুলিকে ১৫ অক্টোবর থেকে ক্রাশিং শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে অক্টোবরের মধ্যেই উৎপাদন ৩-৪ এলএমটি থেকে বেড়ে ১০ এলএমটি ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সুবিধা পেয়েছেন চাষিরাও
বাড়তি চিনি ইথানল উৎপাদনে কাজে লাগানোর ফলে চিনি কলগুলির আর্থিক অবস্থার ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। যার প্রমাণ, গত ২০ অগাস্ট পর্যন্ত ২০২৫-২৬ মরশুমের আখ চাষিদের ৯৭ শতাংশ বকেয়াই মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, ২০১৪ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে চিনি শিল্পে প্রায় ১৪,৬০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হলেও, ২০২১-২২ সালের পর থেকে আর কোনও ভর্তুকির প্রয়োজন হয়নি। সরকার জানিয়েছে, ক্রেতা এবং আখ চাষি, উভয়ের স্বার্থ রক্ষায় তারা বদ্ধপরিকর এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া নজরদারি জারি থাকবে।
আমেরিকার থেকেও খরচ বেশি! ভারতের মহাকাশ যাত্রায় পড়ছে বাঁধা
ভারতীয় সেনা-PNB র নয়া MOU তে এবার চালু হবে সব পদমর্যাদার সদস্যদের জন্য বিশেষায়িত ক্রেডিট কার্ড
