শারজায় কর্নাটকের যুবককে খুন করে ৯ টুকরো! গাড়ি থেকে দেহ উদ্ধার, নিখোঁজ স্ত্রী-পুত্র

বেঙ্গালুরু: সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শারজায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন কর্নাটকের উডুপি জেলার বাসিন্দা। মৃত ব্যক্তির নাম অ্যালভিন প্রকাশ কুন্দর (Alwin Prakash Kunder)। শারজায় ওমানগামী রাস্তার…

বেঙ্গালুরু: সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শারজায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন কর্নাটকের উডুপি জেলার বাসিন্দা। মৃত ব্যক্তির নাম অ্যালভিন প্রকাশ কুন্দর (Alwin Prakash Kunder)। শারজায় ওমানগামী রাস্তার ধারে একটি গাড়ির মধ্যে রাখা ব্যাগ থেকে তাঁর দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে৷ তাঁর দেহ ৯টি টুকরো করে দুটি ব্যাগে ভরে দেওয়া হয়। ঘটনার প্রায় দুমাস পর এই রোমহর্ষক তথ্য প্রকাশ্যে আসায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এদিকে, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই নিহতের স্ত্রী ও তাঁর কিশোর পুত্র রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ রয়েছেন।

Advertisements

কীভাবে প্রকাশ্যে এল ঘটনা?

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২০ জুলাই প্রকাশের ভাই অনিল প্রশান্ত কুন্দর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। প্রকাশ ফোন না ধরে একটি টেক্সট মেসেজ পাঠান যে তিনি ভালো আছেন। তবে স্বাভাবিকের থেকে আলাদা এই আচরণে পরিবারের সন্দেহ হয়, কারণ প্রকাশ সাধারণত ভয়েস মেসেজেই কথা বলতেন। এরপর এক সপ্তাহ ধরে তাঁর কোনো খোঁজ না মেলায় শারজায় থাকা প্রকাশের এক সহপাঠী মনোহরকে বিষয়টি জানান ভাই অনিল।

   

প্রকাশের কোম্পানির ফ্ল্যাটে খোঁজ নিয়ে প্রথমে জানা যায় যে তিনি ভারতে ফিরে গিয়েছেন। কিন্তু ভাই অনিল নিশ্চিত করেন যে প্রকাশ দেশে ফেরেননি। এরপর পাসপোর্টের রেকর্ড খতিয়ে দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় যে তিনি শারজাতেই রয়েছেন এবং পরিবারের পক্ষ থেকে মিসিং কমপ্লেন বা নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। তল্লাশির সময়ই ওমানমুখী সড়কের পাশে পার্ক করা একটি গাড়ি থেকে উদ্ধার হয় প্রকাশের ক্ষতবিক্ষত দেহ।

পারিবারিক প্রেক্ষাপট ও রহস্য

গত প্রায় ১৪ বছর ধরে শারজা এয়ারপোর্টে কর্মরত ছিলেন প্রকাশ। স্ত্রী টিনা কুন্দর এবং দশম শ্রেণীতে পড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে তিনি আমিরশাহিতেই থাকতেন। উডুপিরই বাসিন্দা টিনা পেশায় এক স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। প্রকাশের মৃত্যুর পরই তাঁর স্ত্রী ও ছেলে নিখোঁজ হয়ে যান। তাঁরা শারজা ছেড়ে ভারতে চলে এসেছেন বলে কিছু সূত্রে দাবি করা হলেও, তাদের বর্তমান অবস্থান বা এই খুনের সঙ্গে তাদের কোনো যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। পরিবার জানিয়েছে, দম্পতির মধ্যে কোনো বড় বিবাদের কথাও তাদের জানা ছিল না।

Advertisements

শারজা কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এখনও এই হত্যাকাণ্ডের মূল মোটিভ বা সন্দেহভাজনদের সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রকাশের দেহ ভারতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে পরিবার। পাশাপাশি, উডুপি পুলিশের কাছেও সাহায্যের আর্জি জানিয়েছেন নিহতের ভাই।

Advertisements