শাহের মন্তব্যে উত্তাপ, “চার বিয়ে” ইস্যুতে তুমুল তরজা

বাংলার রাজনৈতিক মঞ্চে ফের নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) ইস্যুকে কেন্দ্র করে। নির্বাচনের প্রাক্কালে এই(Amit Shah) বিষয়টি ঘিরে…

Amit Shah questions Mamata over Anandapur

বাংলার রাজনৈতিক মঞ্চে ফের নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) ইস্যুকে কেন্দ্র করে। নির্বাচনের প্রাক্কালে এই(Amit Shah) বিষয়টি ঘিরে শাসক-বিরোধী তরজাও তীব্র হয়ে উঠেছে। বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইস্তেহারে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা ক্ষমতায় এলে বাংলায় ইউসিসি কার্যকর করবে। আর এই প্রতিশ্রুতিকেই সামনে রেখে পশ্চিম মেদিনীপুরের কুলটির সভা থেকে জোরালো বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) ।

Advertisements

সভা মঞ্চ থেকে অমিত শাহ বলেন, “বাংলায় বিজেপির সরকার গড়তে দিন, আমরা ইউসিসি কার্যকর করব। কেউ কেউ চার-চারটে বিয়ে করেন, আবার কেউ একটাই বিয়ে করেন। দিদিরা আপনারাই বলুন, কারও চারটে বিয়ে করা কি উচিত?” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। তিনি আরও বলেন, “বাংলায় বিজেপির সরকার গড়তে দিন, এখানে চারটে বিয়ে করা বন্ধ করে দেব। আপনারা জানেন তো, কারা চারটে বিয়ে করছে? বিজেপির সরকার এ সব বন্ধ করে দেবে।” তাঁর এই বক্তব্যে একদিকে যেমন সমর্থকদের মধ্যে সাড়া পড়েছে, তেমনই বিরোধী শিবিরের তরফে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

   

বিজেপির দাবি, ইউসিসি কার্যকর হলে সব ধর্মের মানুষের জন্য এক অভিন্ন আইন চালু হবে, যা বিবাহ, উত্তরাধিকার এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত আইনের ক্ষেত্রে সমতা আনবে। তাঁদের মতে, এর ফলে সমাজে বৈষম্য কমবে এবং নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত হবে। বিশেষ করে বহুবিবাহের মতো প্রথা বন্ধ করার ক্ষেত্রে ইউসিসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করছে বিজেপি।

তবে এই ইস্যুতে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বিজেপির এই প্রতিশ্রুতিকে সরাসরি আক্রমণ করে বলেন, ইউসিসি কার্যকর হলে মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও ধর্মীয় অধিকার ক্ষুণ্ণ হতে পারে। তাঁর কথায়, “সংকল্পতে বলেছে, ইউসিসি করবে। আপনার কোনও অধিকার থাকবে না। আপনার ইচ্ছেমতো ধর্মচর্চা, আপনার সংস্কৃতি মানার অধিকার থাকবে না।”

Advertisements

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, ভারতের মতো বহুধর্মীয় ও বহুসাংস্কৃতিক দেশে একক আইন চাপিয়ে দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। তিনি উল্লেখ করেন, “হিন্দু, মুসলিম, আদিবাসীদের আলাদা মতে বিবাহ হয়। এরা বলছে, একটাই পথ হবে। বিজেপি মন্ত্র শিখিয়ে দেবে। বিজেপি যা বলে দেবে, সেটাই করতে হবে।” তাঁর মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ দেশের বৈচিত্র্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং মানুষের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বিপদের মুখে ফেলতে পারে।

এই ইস্যুতে রাজনৈতিক মহলে স্পষ্ট বিভাজন দেখা যাচ্ছে। একদিকে বিজেপি যেখানে ইউসিসিকে সমতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরছে, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এটিকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে। ফলে নির্বাচনের আগে এই বিষয়টি যে একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে, তা বলাই বাহুল্য।

Advertisements