৪০ লক্ষ টন কয়লা চুরি! উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ কেন্দ্রের

নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় সরকার তেলেঙ্গানার সিংগারেনি কোলিয়ারিজ কোম্পানি লিমিটেড ( coal missing) থেকে ৪০ লক্ষ টন কয়লা উধাও হওয়ার ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। প্রায় ১,৬০০…

sccl-coal-missing-high-level-probe

নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় সরকার তেলেঙ্গানার সিংগারেনি কোলিয়ারিজ কোম্পানি লিমিটেড ( coal missing) থেকে ৪০ লক্ষ টন কয়লা উধাও হওয়ার ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। প্রায় ১,৬০০ কোটি টাকার এই কয়লা কোথায় গেল, কীভাবে গেল এই রহস্য উদঘাটনে কেন্দ্রীয় স্তরে গুরুতর অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। ঘটনাটি সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

Advertisements

অনেকে এটিকে তেলেঙ্গানার ইতিহাসে একটি বড় কয়লা কেলেঙ্কারি বলে আখ্যা দিচ্ছেন।এসসিসিএল তেলেঙ্গানা সরকারের ৫১ শতাংশ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ৪৯ শতাংশ মালিকানাধীন সংস্থা। কোম্পানিটি প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে কর্মসংস্থান দেয়। দক্ষিণ ভারতের অন্যতম বড় কয়লা উৎপাদক সংস্থা হিসেবে এর গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু বর্তমানে সংস্থাটি গভীর আর্থিক সংকটে রয়েছে।

   

আরও দেখুনঃ https://kolkata24.in/bangladesh/dinesh-trivedi-security-threat-bangladesh/

তেলেঙ্গানা সরকারের কাছে সংস্থার পাওনা ইতিমধ্যে ৫১,৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে ৪০ লক্ষ টন কয়লা উধাও হয়ে যাওয়া সংস্থা ও কর্মীদের জন্য বড় ধাক্কা।কেন্দ্রীয় কয়লা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, স্টক অডিটের সময় এই বড়সড় গড়মিল ধরা পড়ে। কয়লা খনি থেকে উত্তোলনের পরিমাণ এবং সরবরাহের হিসাব মেলাতে গিয়ে দেখা যায় বিপুল পরিমাণ কয়লা হিসাবের বাইরে চলে গেছে। এখন প্রশ্ন উঠছে এই কয়লা কোথায় গেল?

কোনও বড় চক্র কি এর পেছনে রয়েছে? অথবা এটি শুধুই হিসাবের গরমিল? কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে। সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।তেলেঙ্গানার বিরোধী দলগুলো ঘটনাকে ‘বড়মাপের কেলেঙ্কারি’ বলে আক্রমণ শুরু করেছে। তাদের অভিযোগ, রাজ্য সরকারের অবহেলা ও সম্ভাব্য যোগসাজশে এই ঘটনা ঘটেছে।

Advertisements

অনেকে বলছেন, যখন সরকার নিজেই সংস্থার কাছে হাজার হাজার কোটি টাকা পাওনা রেখেছে, তখন কয়লা উধাও হওয়া আরও সন্দেহজনক। এসসিসিএল-এর কর্মীরা আতঙ্কিত। তাঁরা বলছেন, “আমরা কয়লা তুলে উৎপাদন বাড়াচ্ছি, কিন্তু টাকা পাচ্ছি না। এখন আবার এত বড় পরিমাণ কয়লা উধাও। আমাদের ভবিষ্যৎ কী হবে?”কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হবে।

সিবিআই বা অন্য কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। ইতিমধ্যে সংস্থার অ্যাকাউন্টস, স্টক রেজিস্টার, পরিবহন রেকর্ড এবং বাইরে কয়লা বিক্রির তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এই ঘটনা তেলেঙ্গানার শিল্প ও অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কয়লা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার পরিবারের জীবিকা এখানে জড়িত। যদি এটি দুর্নীতি প্রমাণিত হয়, তাহলে শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, রাজ্যের শিল্প পরিবেশেও বড় ধাক্কা লাগবে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, সংস্থার আর্থিক দুরবস্থা এবং সরকারি পাওনা আটকে রাখার কারণে এ ধরনের অনিয়ম বেড়েছে।

Advertisements