গাজিয়াবাদ: আনন্দের পরিবেশ হঠাৎই পরিণত হল শোকে।(Prachi Ghaziabad) কিছুদিন আগেই জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় জোড়া সোনা জিতে বাড়ি ফিরেছিল ১৪ বছরের প্রাচী। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সেই সাফল্যের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার পরও যেন সবকিছু স্বাভাবিকই চলছিল।
কিন্তু শুক্রবার রাতে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। অভিযোগ, ব্যালকনিতে শুকোতে দেওয়া জামাকাপড় তুলতে গিয়ে রাজনগর রেসিডেন্সি সোসাইটির ১২ তলা থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে নবম শ্রেণির ওই ছাত্রীর।
আরও দেখুনঃ আধার থেকে ইউপিআই: কী ভাবে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করবেন প্রবীণরা?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ছাত্রীর নাম প্রাচী। সে সঞ্জয় নগরের দেরাদুন পাবলিক স্কুলের নবম শ্রেণির পড়ুয়া ছিল। পরিবারের সঙ্গে রাজনগর এক্সটেনশনের রাজনগর রেসিডেন্সি সোসাইটিতে থাকত সে। শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯টা নাগাদ সোসাইটির জি টাওয়ারে ঘটনাটি ঘটে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ব্যালকনিতে শুকোতে দেওয়া জামাকাপড় সংগ্রহ করতে গিয়েছিল প্রাচী। সেই সময় কোনওভাবে ১২ তলার ব্যালকনি থেকে নিচে পড়ে যায় সে।
হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে সোসাইটির বাসিন্দারা ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান। (Prachi Ghaziabad)গুরুতর আহত অবস্থায় প্রাচীকে দ্রুত স্থানীয় যশোদা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় নন্দগ্রাম থানার পুলিশ। দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঠিক কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক তদন্তে কোনও নির্দিষ্ট কারণ সামনে না এলেও পুলিশ গোটা ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে।
গাজিয়াবাদের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অব পুলিশ জিয়াউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, শুক্রবার রাত প্রায় ৯টার সময় নন্দগ্রাম থানায় খবর আসে যে রাজনগর এক্সটেনশনের রাজনগর রেসিডেন্সি সোসাইটির একটি ফ্ল্যাট থেকে আনুমানিক ১৪ বছরের এক কিশোরী পড়ে গিয়ে মারা গিয়েছে।
খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সোসাইটির সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি প্রাচীর পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ওই সময় বাড়িতে কারা উপস্থিত ছিলেন এবং দুর্ঘটনার আগে ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে তদন্তকারীদের তরফে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং অন্যান্য তদন্তের ফলাফলের পরেই মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
প্রাচীর মৃত্যুর ঘটনায় আরও মর্মান্তিক হয়ে উঠেছে তার সাম্প্রতিক সাফল্যের কথা সামনে আসায়। কিছুদিন আগেই মহারাষ্ট্র থেকে ফিরেছিল সে। শিরডিতে আয়োজিত CBSE Rope Skipping National Championship-এ অংশ নিয়ে দুটি বিভাগে সোনা জিতেছিল প্রাচী। ‘ডাবল ডাচ পেয়ার ফ্রিস্টাইল’ এবং ‘ডাবল ডাচ সিঙ্গল ফ্রিস্টাইল’ দুই বিভাগেই সাফল্য অর্জন করেছিল সে। জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় জোড়া সোনা জিতে বাড়ি ফেরায় স্বাভাবিকভাবেই খুশির হাওয়া ছিল পরিবারে।
প্রাচীর বাবা সুরেশ চাঁদ একটি বহুজাতিক সংস্থায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেন। ঘটনার সময় বাড়িতে প্রাচীর বাবা-মা, ছোট বোন এবং দাদু-দিদা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এমন একটি সময়ে পরিবারের চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই গোটা পরিবারকে গভীর শোকের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।
