শুধু পাকিস্তান নয় পহেলগাঁও জঙ্গি হামলায় জড়িত চিন ! মিলল প্রমান

গত বছরের সবচেয়ে শোকস্তব্ধ ঘটনার অন্যতম হল পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা (Pahalgam Terror Attack)। পাকিস্তান সমর্থিত জৈশ জঙ্গিদের অতর্কিত আক্রমণে প্রাণ হারান ২৬ নির্দোষ ভারতীয়। কিন্তু…

pahalgam-terror-attack-china-link-nia-gopro-activation-dongguan

গত বছরের সবচেয়ে শোকস্তব্ধ ঘটনার অন্যতম হল পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা (Pahalgam Terror Attack)। পাকিস্তান সমর্থিত জৈশ জঙ্গিদের অতর্কিত আক্রমণে প্রাণ হারান ২৬ নির্দোষ ভারতীয়। কিন্তু শুধু পাকিস্তান নয় এই হত্যালীলার জড়িত চিন ও। ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) জানিয়েছে যে, হামলার আগে রেইকি বা স্থান পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত একটি গোপ্রো হিরো ১২ ব্ল্যাক ক্যামেরা চীনের ডংগুয়ান শহরে প্রায় এক বছর আগে অ্যাকটিভেট করা হয়েছিল।

Advertisements

এই ক্যামেরাটি হামলাকারীদের পরিকল্পনা, চলাচল এবং অপারেশনাল প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ এমনটাই দাবি করেছে গোয়েন্দা সংস্থা NIA। এনআইএ এখন চীনের বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে লেটার রোগেটরি পাঠিয়ে ক্যামেরার ডিস্ট্রিবিউটর, ক্রেতা, শেষ ব্যবহারকারী এবং সম্পর্কিত টেকনিক্যাল রেকর্ডস চাইছে।

   

আরও দেখুন: ঘরের মেয়ের ঘরে ফেরা, বেঙ্গালুরুতে পা রাখলেন সিন্ধু

২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল বৈসারান মেডোতে জৈশ জঙ্গিরা গুলি চালিয়ে ২৬ জন পর্যটককে হত্যা করে, যাদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও ছিলেন। হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী সাইট থেকে বিভিন্ন জিনিস উদ্ধার করে, যার মধ্যে ছিল একটি গোপ্রো বডি ক্যামেরা হারনেস, সোলার চার্জার, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য সামগ্রী।

এনআইএ এই ক্যামেরাটির সিরিয়াল নম্বর C3501325471706 ট্র্যাক করে জানতে পারে যে, এটি নেদারল্যান্ডসের গোপ্রো কোম্পানির মাধ্যমে চীনের AE গ্রুপ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড নামক ডিস্ট্রিবিউটরকে সরবরাহ করা হয়েছিল। ক্যামেরাটি ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি চীনের ডংগুয়ান শহরে অ্যাকটিভেট হয়, যা হামলার প্রায় ১৫ মাস আগে।

Advertisements

এনআইএ প্রথমে গোপ্রো কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে সাপ্লাই চেইনের তথ্য নেয়। কোম্পানি জানায় যে, তারা ডাউনস্ট্রিম ট্রানজ্যাকশন বা শেষ ব্যবহারকারীর বিস্তারিত রেকর্ড রাখে না। তাই তদন্তকারীরা বুঝতে পারেন যে, ক্যামেরার প্রাথমিক ব্যবহার, অ্যাকটিভেশন এবং বাণিজ্যিক ট্রেল চীনের অধীনে।

জম্মুর একটি বিশেষ আদালত ২ মার্চ এনআইএ-র আবেদন মঞ্জুর করে এবং চীনের বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে লেটার রোগেটরি পাঠানোর অনুমতি দেয়। এই লেটারের মাধ্যমে এনআইএ ক্রেতার নাম, শেষ ব্যবহারকারী এবং টেকনিক্যাল ডেটা চাইবে, যা হামলার বড় ষড়যন্ত্র উন্মোচনে সাহায্য করতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা এই খবরে উদ্বিগ্ন। একজন পহেলগাঁও বাসিন্দা বলেন, “এত বড় হামলার পরও যদি বিদেশি সাহায্য ছাড়া তদন্ত এগোতে না পারে, তাহলে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। চীন যদি সহযোগিতা করে, তাহলে অনেক কিছু স্পষ্ট হবে।”

Advertisements