আয়ুর্বেদ চিকিৎসকদের অবমাননায় এবার হবে শাস্তি! নির্দেশ মোদী সরকারের

নয়াদিল্লি: আয়ুর্বেদ এবং আয়ুর্বেদিক ডাক্তারদের সমর্থনে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের (NCISM)। আয়ুর্বেদ-সহ ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পদ্ধতির নিবন্ধিত চিকিৎসকদের সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য, ‘কোয়াক’ বা ‘ভুয়ো ডাক্তার’ বলে…

ncism-ayurveda-practitioners-legal-status

নয়াদিল্লি: আয়ুর্বেদ এবং আয়ুর্বেদিক ডাক্তারদের সমর্থনে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের (NCISM)। আয়ুর্বেদ-সহ ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পদ্ধতির নিবন্ধিত চিকিৎসকদের সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য, ‘কোয়াক’ বা ‘ভুয়ো ডাক্তার’ বলে উল্লেখ করলে এবার আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে। এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন ন্যাশনাল কমিশন ফর ইন্ডিয়ান সিস্টেম অব মেডিসিন (NCISM)।

Advertisements

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি সার্কুলারে কমিশন জানিয়েছে, যথাযথ ডিগ্রিধারী ও আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত আয়ুর্বেদ, ইউনানি, সিদ্ধ এবং সোয়া-রিগপা চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও অপমানজনক মন্তব্য করা আইনসঙ্গত নয় এবং এমন কাজ তাঁদের পেশাগত ও সাংবিধানিক অধিকারে হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

   

আরও দেখুনঃ মোদী সরকারের অনুমোদনে বাজারে আসছে ২০০ কোটি পলিমার নোট

সার্কুলারে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং জনসমক্ষে বহু নিবন্ধিত ভারতীয় চিকিৎসা পদ্ধতির চিকিৎসককে ‘কোয়াক’ বা ‘বোগাস ডাক্তার’ বলে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে তাঁদের সম্মানহানি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আইনগত অবস্থান স্পষ্ট করতেই এই নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে কমিশন।

Advertisements

কমিশনের বক্তব্য, ভারতীয় চিকিৎসা পদ্ধতির এই নিবন্ধিত চিকিৎসকদের ‘ভুয়ো ডাক্তার’ বা ‘কোয়াক’ বলে উল্লেখ করার কোনও আইনগত ভিত্তি নেই। কোনও ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংবাদমাধ্যম বা অন্য কোনও কর্তৃপক্ষ যদি প্রকাশ্যে এমন শব্দ ব্যবহার করে, তাহলে তা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের আইনসম্মত স্বীকৃতি ও পেশাগত মর্যাদার পরিপন্থী হতে পারে। প্রয়োজনে ক্ষতিগ্রস্ত চিকিৎসকরা আইনি প্রতিকার চাইতেও পারেন।

আরও দেখুনঃ হট্টগোলের মাঝেই লোকসভায় পাশ প্রশ্ন ফাঁস বিরোধী সংশোধনী বিল

সার্কুলারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, NCISM Act, 2020 শুধু চিকিৎসা শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণই করে না, বরং ভারতীয় চিকিৎসা পদ্ধতির চিকিৎসকদের পেশাগত অধিকার, নৈতিকতা এবং দায়িত্বও নির্ধারণ করে। ফলে আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত চিকিৎসকদের অন্য যে কোনও স্বীকৃত স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীর মতোই সম্মান ও আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নির্দেশিকার মূল উদ্দেশ্য হল স্বীকৃত ভারতীয় চিকিৎসা পদ্ধতির চিকিৎসকদের সম্মান রক্ষা করা এবং তাঁদের সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর প্রচার বন্ধ করা। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে এটাও বোঝানো যে, নিবন্ধিত আয়ুর্বেদ, ইউনানি, সিদ্ধ বা সোয়া-রিগপা চিকিৎসক এবং কোনও প্রশিক্ষণ বা স্বীকৃতি ছাড়া চিকিৎসা করা ব্যক্তির মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

আরও দেখুনঃ রাজ্যসভায় পাস হল ঐতিহাসিক বন্দেমাতরম অবমাননা রক্ষা বিল

Advertisements