হরমুজ প্রণালির কাছে বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি কেপ ডাও-তে হামলার ঘটনায় এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ঘটনাটি ঘটে। ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ভারতমুখী জাহাজটির উপর হামলার পর এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে এবং বাকি ক্রুদের নিরাপত্তা নিয়ে ওমানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।a
মৃত ভারতীয় নাবিকের নাম সূরজ যাদব। ফরোয়ার্ড সিমেনস ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া বা এফএসইউআই জানিয়েছে, তিনি উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়ার বাসিন্দা ছিলেন এবং জাহাজে উইপার হিসেবে কাজ করতেন। ইউনিয়নের দাবি, হামলার সময় জাহাজটিতে মোট ২৮ জন ক্রু ছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে ২০ জন ভারতীয়। অন্যদিকে, ওমানে ভারতীয় দূতাবাসের প্রাথমিক বিবৃতিতে জাহাজে ১৯ জন ভারতীয় নাগরিক থাকার কথা বলা হয়েছে।
কীভাবে হামলা হল?
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এমভি কেপ ডাও মিনাহ সাকর থেকে ভারত অভিমুখে যাচ্ছিল। ওমানের জলসীমার কাছে যাওয়ার সময় জাহাজটির উপর হামলা হয়। এফএসইউআইয়ের দাবি, জাহাজটিতে দুটি টর্পেডো আঘাত করে। একটি জাহাজের পোর্ট সাইডের সি-ডেকের আবাসিক অংশে এবং অন্যটি পোর্ট সাইডের হালের ইঞ্জিন রুমের কাছাকাছি আঘাত করে বলে ইউনিয়ন জানিয়েছে। হামলায় সূরজ যাদব মাথায় আঘাত পান এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয় বলে পরবর্তী প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তবে হামলাকারী বা হামলার পেছনে কারা ছিল, তা নিয়ে এখনও প্রকাশ্যে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষের তরফে অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতের কথাও উঠে এসেছে। ফলে হামলার ধরন এবং দায়ী পক্ষ সম্পর্কে তদন্ত এখনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে রয়েছে।
ওমানে উদ্ধার বাকি ক্রুদের
হামলার পর জাহাজের বাকি ক্রুদের উদ্ধার করা হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রয়্যাল নেভি অফ ওমান ক্রুদের সরিয়ে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যায়। বেঁচে থাকা ক্রুদের বর্তমানে ওমানের একটি জেটিতে রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে এক ভারতীয় চতুর্থ ইঞ্জিনিয়ার সামান্য আহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে।
ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, তারা ওমানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ করছে এবং জাহাজে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে নজর রাখছে। একই সঙ্গে মৃত নাবিকের পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। দূতাবাস আরও জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড প্লেসমেন্ট সার্ভিসেস লাইসেন্স বা আরপিএসএল সংস্থার সঙ্গেও মিশন সমন্বয় করছে।
সূরজ যাদবকে নিয়ে শোক
এফএসইউআই জানিয়েছে, সূরজ যাদব কোনও যোদ্ধা ছিলেন না, তিনি একজন বেসামরিক নাবিক হিসেবে কাজ করছিলেন। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় ইউনিয়ন ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ইউনিয়নের দাবি, হরমুজ প্রণালি, ওমান উপসাগর, লোহিত সাগর এবং কৃষ্ণ সাগরের মতো ঝুঁকিপূর্ণ সামুদ্রিক পথে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তার জন্য আরও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
এফএসইউআই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে একটি চিঠিতে মৃত নাবিকের দেহ দেশে ফিরিয়ে আনা, পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ, নাবিকদের নিরাপত্তার জন্য ২৪ ঘণ্টার ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট টিম এবং ভারতীয় ও বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজে থাকা ভারতীয় নাবিকদের জন্য নৌ-নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে।
হরমুজের কাছে MV Cape Dao-তে টর্পেডো হামলা, নিহত ভারতীয় নাবিক | কী ঘটেছিল?#MVCapeDao #MVCapeDaoAttack #Hormuz #StraitOfHormuz #IndianSeafarer #SurajYadav #Oman #ShipAttack #TorpedoAttack #BreakingNews #IndiaNews pic.twitter.com/unLmavoGei
— Kolkata24x7 (@kolkata24x7live) September 23, 2026
হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। এই অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক জাহাজকে ঘিরে একাধিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনা সামনে এসেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ এবং সেখানে কর্মরত বেসামরিক নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
এমভি কেপ ডাও-তে হামলার ঘটনায় ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়েছে। ভারতীয় দূতাবাস এখন ওমানের কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে মৃত নাবিকের পরিবারের পাশে থাকার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে দূতাবাস। এখন হামলার সঠিক কারণ, কারা এই হামলা চালিয়েছে এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলির জন্য পরবর্তী নিরাপত্তা ব্যবস্থা কী হবে, সেদিকেই নজর রয়েছে।
Defence News-এর সর্বশেষ আপডেট। ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক মহড়া, যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির খবর পড়ুন।
