নয়াদিল্লি: ছ’ দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) মেরুদণ্ড হয়ে দেশের আকাশ পাহারা দেওয়ার পর অবশেষে ইতিহাস হয়েছে মিগ-২১ (MiG-21) যুদ্ধবিমান। কিন্তু কেরিয়ার শেষ হওয়ার পর অবসরপ্রাপ্ত এই ফাইটার জেটগুলির ঠিক কী পরিণতি হয়? তা কি শুধুই হ্যাঙ্গারে ডাস্টবিনের মতো পড়ে থাকে, নাকি তাদের অন্য কোনো গন্তব্য থাকে?
অবসরের পর মিগ-২১ বিমানের ঠাঁই কোথায়?
‘ইন্ডিয়া টুডে ডিজিটাল’-এর এক প্রতিবেদনে বায়ুসেনার উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, অবসরের পর সমস্ত মিগ-২১ বিমানের পরিণতি এক হয় না। এই যুদ্ধবিমানগুলির ভবিষ্যৎ মূলত নির্ধারিত হয় তিনটি উপায়ে:
হেরিটেজ ফ্লাইট (Heritage Flight): বায়ুসেনার ঐতিহ্য বজায় রাখতে এক বা দুটি মিগ-২১ বিমানকে সম্পূর্ণ উড়ন্ত ও সচল অবস্থায় রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। এর আগে টাইগার মথ, হার্ভার্ড বা ডাকোটার মতো ভিন্টেজ বিমান যেভাবে এয়ার শো বা প্যারেডে ওড়ানো হয়, সেই তালিকায় যুক্ত হতে পারে মিগ-২১।
সংরক্ষণ ও প্রদর্শনী (Museum & Static Displays): অধিকাংশ বিমানকে যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সামরিক সংগ্রহশালা, ডিফেন্স এস্টাবলিশমেন্ট এবং জনসাধারণের প্রদর্শনের জন্য ল্যান্ডমার্ক বা চত্বরে বসানো হবে। যেমনটা মুম্বইয়ের ব্যান্ডড়ায় ভারতীয় নৌসেনার সি হ্যারিয়ার বিমানকে রাখা হয়েছে।
প্রশিক্ষণ ও যন্ত্রাংশ পুনর্ব্যবহার: বিমানের যেসব যন্ত্রাংশ এখনও কাজের উপযোগী, সেগুলি আলাদা করে সংরক্ষণ করা হবে। এছাড়া অবশিষ্টাংশ বা কিছু উপকরণ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের জন্য দেওয়া হতে পারে।
ব্যক্তিগত মালিকানা ও স্ক্র্যাপিংয়ের চিত্র
আন্তর্জাতিক স্তরে, বিশেষ করে আমেরিকার মতো দেশে যুদ্ধবিমানের সম্পূর্ণ ‘আফটারলাইফ’ থাকে, যেখানে সংগ্রাহকরা ডেমিলিটারাইজড ফাইটার জেট কিনে মিউজিয়াম বা ব্যক্তিগত সংগ্রহে রাখেন। ভারতে এমন সংস্কৃতি বিরল। তবে এর ব্যতিক্রমও রয়েছে। যেমন, একটি অবসরপ্রাপ্ত মিগ-২১-এর এয়ারফ্রেম বিক্রি করা হয়েছিল একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে, যা বর্তমানে হরিয়ানার রৌতাক-দিল্লি হাইওয়ের ধারে একটি ধাবার বাইরে রাখা রয়েছে। এছাড়া সরকারি নিয়ম মেনে বাকি বিমানের আয়ু ফুরোলে সেগুলি স্ক্র্যাপ বা বাতিল করার নির্দিষ্ট প্রোটোকল রয়েছে।
মিগ-২১: বায়ুসেনার এক বর্ণময় ও রক্তক্ষয়ী ইতিহাস
১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে বায়ুসেনার মোট কমব্যাট ফ্লিটের প্রায় ৬০ শতাংশই ছিল মিগ-২১। প্রায় পাঁচ প্রজন্মের পাইলট এই বিমানে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেদের কেরিয়ার শুরু করেছেন। তবে এই দীর্ঘ যাত্রার পথ মসৃণ ছিল না। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ মেয়াদে বহু বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে এবং বহু পাইলট ও সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। মূলত তেজস (Tejas) কর্মসূচিতে বিলম্ব হওয়ার কারণেই এই বিমানগুলিকে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বছর ধরে সার্ভিসে রাখতে হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৩৬টি বিমান নিয়ে এই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে।
সংসদে বেশি সময় দিতে হবে তফসিলি সাংসদদের! বিড়লার কাছে দাবি জিতেনের
