মথুরা: মথুরায় ঐতিহাসিক হাথি টিলা ঘিরে সম্প্রতি শুরু হয়েছে নয়া বিতর্ক।(Hathi Tila) পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী কংসের হাতির আস্তাবল হিসেবে পরিচিত এই স্থানটিকে অনেক হিন্দুরা কংস যুগের ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করেন। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ প্রায় পাঁচ একর জমিকে সংরক্ষিত সম্পত্তি বলে দাবি করে। অন্যদিকে মুসলিম পক্ষ এই জমিকে ওয়াকফ সম্পত্তি বলে দাবি করে এবং খসরা নম্বর ৬২৮ ও ৬২৯-এ কবরস্থান হিসেবে নথিভুক্ত বলে জানিয়েছে।
দুই পক্ষের মধ্যে মালিকানা নিয়ে মামলা আদালতে চলছে।সম্প্রতি মুসলিম পক্ষ এই জমিতে চার দেওয়াল তুলে কবরস্থান তৈরির চেষ্টা শুরু করে বলে অভিযোগ ওঠে। ১২ সেপ্টেম্বর প্রত্নতত্ত্ব বিভাগকে এই খবর জানানো হয় যে হাথি টিলায় নতুন করে বেড়া দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় হিন্দু সংগঠন ও স্থানীয়রা এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়। তারা বলেন, এই টিলা (Hathi Tila)শুধু একটি জমি নয়, বরং মথুরার পৌরাণিক ইতিহাসের অংশ।
আরও দেখুনঃ ভেজাল খাজার কারবার ফাঁস পুরীতে! অভিযানে উদ্ধার ৪ কুইন্টাল নিম্নমানের মিষ্টি
কংসের সময়ের স্মৃতি বহনকারী এই স্থানকে কবরস্থানে পরিণত করা যায় না। প্রতিবাদের মুখে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।বুধবার নগর নিগম ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ভারী পুলিশ মোতায়েন করে বুলডোজার নিয়ে হাথি টিলায় পৌঁছানো হয়। প্রথমে মুসলিম পক্ষের কিছু লোক বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু কর্মকর্তাদের কঠোর মনোভাব দেখে পরে তারা নিজেরাই চার দেওয়াল ভেঙে ফেলেন।
প্রশাসন জানায়, অনধিকার দখল সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বেআইনিভাবে তৈরি দেওয়াল ধ্বংস করা হয়েছে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ কড়া নজরদারি চালিয়েছে।এই ঘটনা মথুরার ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতাকে আবার সামনে এনেছে। স্থানীয় হিন্দুরা বলছেন, হাথি টিলা শুধু একটি টিলা নয়, কংস-কৃষ্ণের কাহিনির সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখানে কোনো নতুন নির্মাণ বা দখল সহ্য করা যাবে না।
অন্যদিকে মুসলিম পক্ষের দাবি, জমিটি ওয়াকফ বোর্ডের অধীনে কবরস্থান হিসেবে নথিভুক্ত এবং সেখানে বংশপরম্পরায় দাফন হয়ে আসছে। (Hathi Tila)তবে আদালতে মামলা চলাকালীন নতুন করে দেওয়াল তোলা বা দখলের চেষ্টা বৈধ নয় বলে প্রশাসন মনে করে।এর আগেও হাথি টিলা নিয়ে বিরোধ দেখা গিয়েছিল। ২০২৩ সালেও অনুরূপ অভিযোগে নগর নিগম অনধিকার নির্মাণ সরিয়ে দিয়েছিল।
এবারও প্রতিবাদের পর প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। স্থানীয়রা বলছেন, মথুরার মতো ধর্মীয় শহরে এমন সংবেদনশীল স্থান নিয়ে কোনো একতরফা পদক্ষেপ উত্তেজনা বাড়াতে পারে। তাই আদালতের রায় না আসা পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখাই উচিত।প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে অনেকে স্বাগত জানিয়েছেন।
