মুম্বই: মহারাষ্ট্রের ফড়নবীস সরকার সুইগি, জোম্যাটো ও জেপ্টোর (Maharashtra)মতো ফুড ডেলিভারি ও কুইক কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোকে বাইক-ট্যাক্সি নিয়মের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী এই প্ল্যাটফর্মগুলোকে শুধুমাত্র ইলেকট্রিক যানবাহন দিয়ে বহর চালাতে হতে পারে।
একই সঙ্গে যানবাহন ও ড্রাইভারদের জিপিএস ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু রাখা, বীমা কভারেজ দেওয়া, সরকার নির্ধারিত ভাড়া মেনে চলা এবং প্রতিটি রাইডের ভাড়ার দুই শতাংশ ড্রাইভার কল্যাণ তহবিলে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আসতে পারে। অনুমোদন পেলে মহারাষ্ট্রে গিগ অর্থনীতির ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মগুলো অনেক কঠোর নিয়ন্ত্রণের মুখে পড়বে।
আরও দেখুনঃ পাঁচ বছরে ১.৯৩ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধ করল ভারতীয় রেল
রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে বাইক-ট্যাক্সি সেক্টরকে নিয়ন্ত্রণে আনার বৃহত্তর পরিকল্পনা। আগে শুধু যাত্রী পরিবহনকারী বাইক-ট্যাক্সি (Maharashtra)পরিষেবার জন্য যেসব নিয়ম প্রস্তাব করা হয়েছিল, এখন সেই কাঠামোর মধ্যে ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মগুলোকেও টেনে আনার চেষ্টা চলছে। কর্তৃপক্ষের যুক্তি হলো, রাস্তায় চলাচলকারী হাজার হাজার ডেলিভারি রাইডারও একই ধরনের ঝুঁকি ও দায়িত্বের মুখোমুখি হন। তাই তাদের জন্যও একই ধরনের নিরাপত্তা, বীমা ও কল্যাণমূলক ব্যবস্থা থাকা উচিত।
প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী প্ল্যাটফর্মগুলোকে ধাপে ধাপে ইলেকট্রিক বাইক বা স্কুটার দিয়ে পুরো বহর গড়ে তুলতে হতে পারে। এতে পরিবেশ দূষণ কমবে বলে সরকার মনে করছে। পাশাপাশি প্রতিটি যানবাহন ও ড্রাইভারের অবস্থান জিপিএস দিয়ে রিয়েল টাইমে ট্র্যাক করা বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। এর ফলে দুর্ঘটনা বা বিপদের সময় দ্রুত সাহায্য পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে দাবি করা হচ্ছে। বীমা কভারেজের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
আরও দেখুনঃ ইরান-আফগানিস্তান হয়ে ভারতের সঙ্গে সরাসরি রেলপথের প্রস্তাব পুতিনের
অনেক ডেলিভারি রাইডার এখনও পর্যাপ্ত দুর্ঘটনা বা স্বাস্থ্য বীমার আওতায় নেই (Maharashtra)। নতুন নিয়মে প্ল্যাটফর্মগুলোকে এই দায়িত্ব নিতে হতে পারে।ভাড়ার ক্ষেত্রেও সরকার নির্ধারিত হার মেনে চলার কথা বলা হচ্ছে। বর্তমানে প্ল্যাটফর্মগুলো নিজেদের অ্যালগরিদম অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করে। নতুন ব্যবস্থায় সেই স্বাধীনতা সীমিত হয়ে যেতে পারে। সবচেয়ে আলোচিত প্রস্তাব হলো প্রতিটি রাইডের ভাড়ার দুই শতাংশ ড্রাইভার কল্যাণ তহবিলে জমা দেওয়া।
এই তহবিল থেকে রাইডারদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, দুর্ঘটনাজনিত সহায়তা বা অন্যান্য কল্যাণমূলক সুবিধা দেওয়া হতে পারে। সরকারের দাবি, এতে গিগ কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষা বাড়বে।তবে প্ল্যাটফর্মগুলোর পক্ষ থেকে উদ্বেগও প্রকাশ পাচ্ছে। অনেকের মতে, ইলেকট্রিক বহর গড়ে তোলা, বীমা ও অন্যান্য বাধ্যবাধকতা পালন করতে গেলে খরচ অনেক বেড়ে যাবে।
সেই অতিরিক্ত খরচ শেষ পর্যন্ত গ্রাহক বা রাইডারদের ওপরই চাপানো হতে পারে। ভাড়া সরকার নির্ধারণ করলে ব্যবসার নমনীয়তা কমে যেতে পারে। দুই শতাংশ তহবিলের বিষয়টিও অতিরিক্ত আর্থিক চাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ছোট শহর বা কম অর্ডারের এলাকায় এই নিয়ম কার্যকর হলে অনেক রাইডারের আয় কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও দেখুনঃ পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের সংবেদনশীল প্রতিরক্ষা তথ্য ফাঁস করা ভারতীয় উইং কমান্ডারকে চার্জশিট দিল আদালত
