১৪০ কিমির বেশি দূর থেকে আঘাত, বায়ুসেনার পরীক্ষায় Khagantak 243 গ্লাইড বোমা

নয়াদিল্লি: ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি দীর্ঘপাল্লার স্ট্যান্ড-অফ স্ট্রাইক অস্ত্রের উন্নয়নে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক তৈরি হল। ভারতীয় বায়ুসেনা সফলভাবে খাগান্তক-২৪৩ (Khagantak 243) নামে একটি দীর্ঘপাল্লার…

khagantak-243-glide-bomb-iaf-test-140km-range-sukhoi-s-30mki

নয়াদিল্লি: ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি দীর্ঘপাল্লার স্ট্যান্ড-অফ স্ট্রাইক অস্ত্রের উন্নয়নে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক তৈরি হল। ভারতীয় বায়ুসেনা সফলভাবে খাগান্তক-২৪৩ (Khagantak 243) নামে একটি দীর্ঘপাল্লার গ্লাইড বোমার ড্রপ ট্রায়াল সম্পন্ন করেছে। দেশীয়ভাবে নকশা ও তৈরি এই অস্ত্রের পরীক্ষাকে আত্মনির্ভর ভারত এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Advertisements

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ ভারতীয় বায়ুসেনা জানিয়েছে, খাগান্তক-২৪৩-এর পরীক্ষায় নির্ধারিত সমস্ত লক্ষ্য সফলভাবে পূরণ হয়েছে। বায়ুসেনার বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরীক্ষা ভারতীয় বায়ুসেনা এবং দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। আত্মনির্ভর ভারত, মেক ইন ইন্ডিয়া এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে উদ্ভাবনের মাধ্যমে নতুন মাত্রার আঘাত হানার সক্ষমতা এই পরীক্ষায় প্রদর্শিত হয়েছে বলেও জানিয়েছে বাহিনী।

   

কী এই খাগান্তক-২৪৩?

খাগান্তক-২৪৩ হল প্রায় ৩০০ কেজি শ্রেণির একটি এয়ার-লঞ্চড লং-রেঞ্জ স্ট্যান্ড-অফ প্রিসিশন-গাইডেড গ্লাইড বোমা। অস্ত্রটি যৌথভাবে তৈরি করেছে JSR Dynamics এবং Bharat Electronics Limited বা BEL।

প্রচলিত ফ্রি-ফল বোমার সঙ্গে গ্লাইড বোমার মূল পার্থক্য হল, বিমান থেকে ছোড়ার পর এটি শুধুমাত্র সরাসরি নিচের দিকে পড়ে যায় না। এর বায়ুগতীয় ডানা এবং কন্ট্রোল সারফেস ব্যবহার করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে অনেকটা দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে।

Advertisements

এর ফলে যুদ্ধবিমানকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুর উপর দিয়ে উড়ে গিয়ে বোমা ফেলতে হয় না। বরং কিছুটা দূর থেকেই অস্ত্রটি নিক্ষেপ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার সুযোগ তৈরি হয়। সামরিক পরিভাষায় এই ধরনের সক্ষমতাকেই স্ট্যান্ড-অফ স্ট্রাইক capability বলা হয়।

Read More: ভারতের ১১ টাকা ইউনিট বিদ্যুতে না তারেকের! চিনের ২৫ টাকা ইউনিটের বিদ্যুতেই ভরসা বাংলাদেশের

১৪০ কিলোমিটারের বেশি রেঞ্জ

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১২,০০০ মিটার উচ্চতা থেকে নিক্ষেপ করা হলে খাগান্তক-২৪৩-এর রেঞ্জ ১৪০ কিলোমিটারের বেশি হতে পারে। অর্থাৎ যুদ্ধবিমান লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি না গিয়েও দূর থেকে এই অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে। এর ফলে শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে না গিয়ে দূরপাল্লার নির্ভুল হামলার সুযোগ বাড়তে পারে। তবে প্রকৃত কার্যকর রেঞ্জ নিক্ষেপের উচ্চতা, গতি, আবহাওয়া এবং মিশনের পরিস্থিতির মতো বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করতে পারে।

কেমন দেখতে খাগান্তক-২৪৩?

খাগান্তক-২৪৩-এর নকশায় রয়েছে একটি সিলিন্ডার আকৃতির বডি। মাঝের অংশে রয়েছে সুইভেল-টাইপ গ্লাইড উইং এবং পিছনের দিকে রয়েছে পাঁচটি কন্ট্রোল সারফেস। বিমান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর এই ডানা এবং কন্ট্রোল সারফেসের সাহায্যেই অস্ত্রটি নির্দিষ্ট গতিপথে গ্লাইড করে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যায়। এই নকশার ফলে সাধারণ ফ্রি-ফল বোমার তুলনায় অনেক বেশি দূরত্ব অতিক্রম করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার সুযোগ তৈরি হয়।

১২৫ কেজির বিস্ফোরকসহ ওয়ারহেড

খাগান্তক-২৪৩-এ Mk 81 general-purpose blast-fragmentation warhead ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এতে রয়েছে ১২৫ কেজি বিস্ফোরক ফিল। এর পাশাপাশি খাগান্তক পরিবারের অস্ত্রগুলিতে মডিউলার ডিজাইন ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর অর্থ, মিশন এবং গ্রাহকের প্রয়োজন অনুযায়ী ওয়ারহেড ও গাইডেন্স কনফিগারেশনে পরিবর্তনের সুযোগ থাকতে পারে। ফলে একই পরিবারের অস্ত্রকে বিভিন্ন ধরনের অপারেশনাল প্রয়োজন অনুযায়ী কনফিগার করার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

Read More: মুম্বই থেকে সোজা মাউন্ট ফুজি! ৯ দিনের জাপান ট্যুরের প্যাকেজ আনল রেল, খরচ কত?

BEL ও JSR Dynamics-এর যৌথ উদ্যোগ

খাগান্তক-২৪৩ তৈরি হয়েছে BEL এবং JSR Dynamics-এর যৌথ উদ্যোগে। JSR Dynamics অস্ত্রটির বোম্ব বডি এবং কন্ট্রোল সিস্টেম সরবরাহ করেছে। অন্যদিকে BEL-এর দায়িত্ব ছিল ইলেকট্রনিক্স এবং গাইডেন্স সাবসিস্টেম। ভারতীয় বায়ুসেনা ইতিমধ্যেই BEL-এর কাছে খাগান্তক-২৪৩-এর একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক অস্ত্রের অর্ডার দিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তবে সেই অর্ডারের সঠিক সংখ্যা এবং চুক্তির আর্থিক মূল্য প্রকাশ করা হয়নি।

Su-30MKI থেকে পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ

খাগান্তক-২৪৩-এর ফ্লাইট টেস্টের জন্য প্রাথমিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে Su-30MKI যুদ্ধবিমানকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ভবিষ্যতে অন্য যুদ্ধবিমানের সঙ্গেও এই অস্ত্রকে সংযুক্ত করার সম্ভাবনার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য দেশীয় স্ট্যান্ড-অফ অস্ত্রের সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যুদ্ধবিমানকে শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কাছে না গিয়ে দূর থেকে নির্ভুল হামলা চালানোর সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্যেই এই ধরনের অস্ত্রের গুরুত্ব বাড়ছে।

খাগান্তক-২৪৩-এর সফল ড্রপ ট্রায়াল তাই শুধু একটি নতুন বোমার পরীক্ষা নয়, বরং দেশীয়ভাবে দীর্ঘপাল্লার নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতা তৈরির পথে ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

Advertisements