সরকারি চুক্তির সীমানা ছাড়িয়ে দেশের বেসরকারি ব্যবসার রং বদলে দিচ্ছে ইসরায়েলি ইসরায়েলি সাইবারসিকিউরিটি প্রযুক্তি

নয়াদিল্লি: ভারতের ব্যবসায়িক জগতে ইসরায়েলি সাইবারসিকিউরিটি (cybersecurity)প্রযুক্তি এখন আর শুধু সরকারি চুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ধীরে ধীরে কিন্তু নিশ্চিতভাবে এটি বেসরকারি খাতের গভীরে প্রবেশ করেছে।…

israeli-cybersecurity-india

নয়াদিল্লি: ভারতের ব্যবসায়িক জগতে ইসরায়েলি সাইবারসিকিউরিটি (cybersecurity)প্রযুক্তি এখন আর শুধু সরকারি চুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ধীরে ধীরে কিন্তু নিশ্চিতভাবে এটি বেসরকারি খাতের গভীরে প্রবেশ করেছে। খবরের শিরোনামে যখন ভারত-ইসরায়েল কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা ঘুরপাক খায়, তখন তার নিচে এক নীরব স্তর কাজ করে চলেছে যেখানে ভারতীয় কোম্পানিগুলোই ইসরায়েলি সাইবার প্রযুক্তিকে দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে।

Advertisements

রেডিংটন এবং চেক পয়েন্টের অংশীদারিত্ব এর অন্যতম উদাহরণ। (cybersecurity)ভারতের অন্যতম বড় আইটি পণ্য ও সফটওয়্যার ডিস্ট্রিবিউটর রেডিংটন চেক পয়েন্ট সফটওয়্যার টেকনোলজিসের সঙ্গে কাজ করছে। এই ইসরায়েলি কোম্পানি বিশ্বজুড়ে সাইবারসিকিউরিটি সমাধানের জন্য পরিচিত। রেডিংটনের বিশাল চ্যানেল পার্টনার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে চেক পয়েন্টের প্রযুক্তি এখন ছোট ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে।

   

আরও দেখুনঃ দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনে ৪টির মধ্যে টি পদে বড় জয় বিজেপি ছাত্র সংগঠন ABVP র

নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি, ক্লাউড সুরক্ষা, এন্ডপয়েন্ট প্রটেকশন এসব ক্ষেত্রে চেক পয়েন্টের সমাধান ভারতীয় কোম্পানিগুলোকে সাইবার হুমকির বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী করছে। বাজারের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব শুধু পণ্য বিতরণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং স্থানীয় ব্যবসার চাহিদা অনুযায়ী কাস্টমাইজড সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতেও সহায়তা করছে।একইভাবে ভারতের বৃহত্তম টেলিকম কোম্পানিগুলোর অন্যতম এয়ারটেলও ইসরায়েলি প্রযুক্তি কোম্পানি র‍্যাডওয়্যারের সঙ্গে কাজ করছে।

Advertisements

এয়ারটেল সিকিউর পোর্টফোলিওর অংশ হিসেবে র‍্যাডওয়্যারের ক্লাউড ডিডিওএস প্রোটেকশন, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ফায়ারওয়াল এবং বট ম্যানেজারের মতো পরিষেবা ভারতীয় এন্টারপ্রাইজ গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। এয়ারটেলের নিজস্ব ডেটা সেন্টার অবকাঠামোর ওপর ভিত্তি করে ভারতেই একটি স্ক্রাবিং সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে, যাতে আক্রমণের সময় ডেটা দেশের বাইরে না গিয়ে স্থানীয়ভাবেই পরিষ্কার করা যায়।

এর ফলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্য সুরক্ষা পাচ্ছে। (cybersecurity)টেলিকম, ব্যাংকিং, ই-কমার্সসহ বিভিন্ন খাতের কোম্পানিগুলো এখন এয়ারটেলের মাধ্যমে এই ইসরায়েলি প্রযুক্তির সুবিধা নিচ্ছে।এই দুটি উদাহরণই দেখায় যে, সাইবারসিকিউরিটি আর শুধু সরকারি স্তরের সহযোগিতা নয়। বেসরকারি খাত এখন সক্রিয় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতি দ্রুত বড় হচ্ছে।

ডিজিটাল পেমেন্ট, ক্লাউড সার্ভিস, ইন্টারনেট অফ থিংস এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার হুমকির মাত্রাও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের সাইবার বিশেষজ্ঞতা ভারতীয় ব্যবসাগুলোর জন্য আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। ইসরায়েলি কোম্পানিগুলো বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত প্রযুক্তি নিয়ে আসে, আর ভারতীয় ডিস্ট্রিবিউটর ও সার্ভিস প্রোভাইডাররা সেগুলোকে স্থানীয় বাজারের উপযোগী করে তোলে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নীরব সম্প্রসারণ কূটনৈতিক সম্পর্কের চেয়েও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। যখন কোনো ভারতীয় কোম্পানি রেডিংটনের মাধ্যমে চেক পয়েন্টের ফায়ারওয়াল ব্যবহার করে বা এয়ারটেলের নেটওয়ার্কের ওপর র‍্যাডওয়্যারের সুরক্ষা নেয়, তখন সেই প্রযুক্তি সরাসরি ব্যবসার দৈনন্দিন কার্যক্রমে মিশে যায়। এটি শুধু সফটওয়্যার বিক্রি নয়, বরং জ্ঞান ও দক্ষতার হস্তান্তরও। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় টেকনিক্যাল টিম ইসরায়েলি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করে প্রশিক্ষণ নেয়, যা ভারতের নিজস্ব সাইবারসিকিউরিটি সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

Advertisements