সমুদ্রের অতলে শত্রুবিনাসে ইতিহাস গড়ল মেক ইন ইন্ডিয়ার অঞ্জাদিপ

চেন্নাই: ভারতীয় নৌবাহিনী আজ চেন্নাই বন্দরে আইএনএস অঞ্জাদিপকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে (INS Anjadip)। এই দেশীয়ভাবে তৈরি অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার শ্যালো ওয়াটার ক্রাফট (এএসডব্লিউ-এসডব্লিউসি) ভারতের উপকূলীয় নিরাপত্তা…

ins-anjadip-commissioned-in-chennai-make-in-india-defense

চেন্নাই: ভারতীয় নৌবাহিনী আজ চেন্নাই বন্দরে আইএনএস অঞ্জাদিপকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে (INS Anjadip)। এই দেশীয়ভাবে তৈরি অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার শ্যালো ওয়াটার ক্রাফট (এএসডব্লিউ-এসডব্লিউসি) ভারতের উপকূলীয় নিরাপত্তা ও সমুদ্রসীমা রক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ কে ত্রিপাঠী এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং জাহাজটিকে ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডের অধীনে অন্তর্ভুক্ত করেন।

Advertisements

এই ঘটনা ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানের আরেকটি সফল অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত করেছে রাজনৈতিক মহল।আইএনএস অঞ্জাদিপ এএসডব্লিউ-এসডব্লিউসি প্রকল্পের অধীনে নির্মিত আটটি জাহাজের মধ্যে তৃতীয়টি। এই প্রকল্পের প্রথম দুটি জাহাজ আইএনএস মাহে এবং আইএনএস মালভান ইতিমধ্যে নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়েছে। কলকাতার গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (জিআরএসই) এই জাহাজটি ডিজাইন ও নির্মাণ করেছে।

   

আরও দেখুন: লক্ষ্য সেমিফাইনাল! ইডেনে ম্যাচের আগে কালীঘাটে পুজো গম্ভীরের

২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর চেন্নাইয়ে নৌবাহিনীর হাতে হস্তান্তর করা হয়। জাহাজটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৭৭ মিটার এবং এটি ওয়াটারজেট প্রপালশন সিস্টেমযুক্ত ভারতীয় নৌবাহিনীর সবচেয়ে বড় শ্রেণির জাহাজ।এই জাহাজকে ‘ডলফিন হান্টার’ নামে ডাকা হয় কারণ এটি উপকূলীয় অগভীর জলে শত্রু সাবমেরিন শনাক্ত, ট্র্যাকিং এবং নির্মূল করার জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা।

অগভীর জলে সোনারের হস্তক্ষেপ ও জটিল পরিবেশের কারণে সাবমেরিন শনাক্ত করা কঠিন। অঞ্জাদিপ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম। এতে রয়েছে উন্নত দেশীয় অ্যান্টি-সাবমেরিন যুদ্ধের স্যুট হাল মাউন্টেড সোনার ‘অভয়’, লাইটওয়েট টর্পেডো, অ্যান্টি-সাবমেরিন রকেট এবং অ্যাডভান্সড কমব্যাট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। এছাড়া আধুনিক সেন্সর, কমিউনিকেশন সিস্টেম এবং লিটোরাল কমব্যাটের জন্য প্রয়োজনীয় সব সুবিধা রয়েছে।

Advertisements

এই কমিশনিং ভারতের সমুদ্র নিরাপত্তাকে অনেকটা শক্তিশালী করবে। ভারতের দীর্ঘ উপকূলরেখা, বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলের তামিলনাড়ু, পুদুচেরি এলাকা এবং অন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছে শত্রু সাবমেরিনের হুমকি থেকে রক্ষা করতে এই জাহাজগুলো গুরুত্বপূর্ণ। চীন ও পাকিস্তানের সাবমেরিন বহরের বিরুদ্ধে ভারতের প্রতিরক্ষা স্তর আরও মজবুত হবে। এটি নৌবাহিনীর অ্যান্টি-সাবমেরিন নেটওয়ার্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পূরণ করবে।

Advertisements