Indian Army Combat Dog: ভারতীয় সেনাবাহিনীর এয়ারবর্ন বা আকাশপথে প্যারাশুট-ভিত্তিক অনুশীলনের ইতিহাসে একটি অনন্য অধ্যায় যুক্ত হয়েছে। এই অনুশীলনে একজন হ্যান্ডলার ও একজন প্যারাট্রুপারের পাশাপাশি একটি কমব্যাট ডগ-ও প্যারাশুট নিয়ে ঝাঁপ দেয়। ভারতের বেহাট ড্রপ জোনে এই জাম্প বা ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনাটি ঘটে। এই অনুশীলনের একটি ভিডিও-ও প্রকাশ করা হয়েছে, যা সেনাবাহিনীর সূর্য কমান্ড সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছে।
বস্তুত, এটি কুকুর-পরিচালক ও তাঁদের যুদ্ধ-কুকুরের যৌথ প্যারাসুট অবতরণের অন্যতম একটি প্রাথমিক দৃষ্টান্ত। এই অনুশীলনের সময় প্যারাট্রুপার, কুকুর-পরিচালক এবং যুদ্ধ-কুকুরটি একত্রে প্যারাসুট দিয়ে নামার মহড়া দেয়। জানা গেছে যে, দলটির কাছে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ-সরঞ্জামও ছিল।
ফ্রি-ফল জাম্প-ভিত্তিক মহড়া
সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, এই মহড়াটি আগে সম্পন্ন হওয়া ফ্রি-ফল জাম্পের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়েছে। এয়ারবর্ন বা আকাশপথে পরিচালিত অভিযানের জন্য কমব্যাট ডগ বা বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরদের প্রস্তুত করা হচ্ছে; এর মূল লক্ষ্য হলো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সৈন্যদের পাশাপাশি তাদের মোতায়েন করার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
সেনাবাহিনীর ‘সূর্য কমান্ড’ এই অনুশীলনটিকে দলীয় সমন্বয় ও পারস্পরিক আস্থার এক চমৎকার উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেছে। উল্লেখ্য যে, এ ধরনের অভিযানের ক্ষেত্রে সেনা সদস্য ও যুদ্ধ-প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরগুলোর মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
#WATCH | In a remarkable display of courage, precision, and combat readiness, a paratrooper of Surya Warrior undertook a tandem parachute jump over Behat DZ with a dog handler and his combat canine, carrying a full combat load. The jump is believed to be among the first instances of a tandem descent involving a dog handler and his canine, building upon earlier free-fall jumps undertaken with the dog.
(Source: Central Command, Indian Army)
— ANI (@ANI) September 16, 2026
সেনাবাহিনীতে যুদ্ধ-প্রশিক্ষিত কুকুরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ভারতীয় সেনাবাহিনী দীর্ঘকাল ধরেই প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করে আসছে। তারা বিভিন্ন ধরনের অভিযানের সময় সৈন্যদের সহায়তা করে, যার মধ্যে রয়েছে কাউকে খুঁজে বের করা (ট্র্যাকিং), তল্লাশি চালানো এবং বিস্ফোরক শনাক্ত করার মতো কাজ।
উল্লেখ্য, যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত কুকুরগুলো তাদের অসাধারণ ঘ্রাণশক্তির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। দুর্গম বা প্রতিকূল ভূখণ্ডে সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা কার্যকলাপ শনাক্ত করার ক্ষেত্রে তারা প্রায়ই সহায়তা করে থাকে। যেসব এলাকায় সরাসরি প্রবেশ করা সৈন্যদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, সেসব স্থানে তল্লাশি চালানোর কাজে এই কুকুরগুলোকে নিয়োজিত করা হয়।
এয়ারবর্ন বা আকাশপথে অবতরণমূলক অভিযানের প্রশিক্ষণ: একটি নতুন সংযোজন
এরই মাঝে, সেনাবাহিনীর বিভিন্ন মহড়ায় যুদ্ধ-কুকুরদের (কমব্যাট ডগ) ভূমিকা নিয়ে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। এখন তাদের স্থলভিত্তিক অভিযানের পাশাপাশি আকাশপথে অবতরণমূলক অভিযানের জন্যও প্রস্তুত করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, প্যারাট্রুপাররা এমন সব এলাকায় অবতরণ করতে পারেন যেখানে প্রচলিত পথে পৌঁছানো কঠিন; আর এই প্রশিক্ষণের ফলে, মাটিতে নামার পরপরই যুদ্ধ-কুকুরগুলো তল্লাশি ও কোনো কিছুর অবস্থান শনাক্ত করার মতো কাজে সহজেই সহায়তা করতে পারবে।
সেনাবাহিনী এই অনুশীলনটিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেছে। সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিভিন্ন দিক থেকে এই অনুশীলনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেনাবাহিনীর মতে, বিমানবাহিত সেনা ও সামরিক কুকুরদের সক্ষমতার সমন্বয় সাধনের ক্ষেত্রে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর ফলে ভবিষ্যতে যখনই প্রয়োজন হবে, তখন দুর্গম ও প্রতিকূল ভূখণ্ডে সুষ্ঠুভাবে সামরিক অভিযান পরিচালনা করা সহজতর হবে।
