শত্রুর বুক চিরে দিতে এবার ভারতীয় সেনার হাতে রাশিয়ান ডিজাইনের অস্ত্র ‘শের’

নয়াদিল্লি: ভারতের প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেছে ‘শের’ নামের রাইফেল(AK-203 Sher)। রাশিয়ান ডিজাইনের এই একে-২০৩ অ্যাসল্ট রাইফেলকে পুরোপুরি ভারতীয় করে তুলতে লেগেছে প্রায় এক দশক।…

indian-ak-203-sher-rifle

নয়াদিল্লি: ভারতের প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেছে ‘শের’ নামের রাইফেল(AK-203 Sher)। রাশিয়ান ডিজাইনের এই একে-২০৩ অ্যাসল্ট রাইফেলকে পুরোপুরি ভারতীয় করে তুলতে লেগেছে প্রায় এক দশক। কঠিন আলোচনা, প্রযুক্তি হস্তান্তরের জটিলতা এবং রাশিয়ান অস্ত্রাগারের নির্ভরতা কাটিয়ে এখন এটি ভারতের নিজস্ব অস্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

Advertisements

গল্পটা শুরু হয় ইনসাস রাইফেলের সীমাবদ্ধতা নিয়ে। সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে আরও নির্ভরযোগ্য ও আধুনিক অ্যাসল্ট রাইফেল খুঁজছিল। বিভিন্ন দেশের অস্ত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রাশিয়ার কালাশনিকভ পরিবারের নতুন সংস্করণ একে-২০৩-কে (AK-203 Sher)বেছে নেওয়া হয়। এর নির্ভরযোগ্যতা, সহজ রক্ষণাবেক্ষণ এবং যুদ্ধক্ষেত্রের উপযোগিতা সেনা কর্মকর্তাদের আকৃষ্ট করে। কিন্তু শুধু আমদানি নয়, ভারতেই তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

   

আরও দেখুনঃ যোগী রাজ্যে এনকাউন্টারে ৫০ মামলায় অভিযুক্ত নকশাল নেতার মৃত্যু! মাথার দাম ছিল ৩০ লক্ষ টাকা

২০১৯ সালে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে যৌথ উদ্যোগ গঠিত হয়। ইন্দো-রাশিয়ান রাইফেলস প্রাইভেট লিমিটেড বা আইআরআরপিএল নামে এই কোম্পানি উত্তরপ্রদেশের অমেঠির করোয়া অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিতে কাজ শুরু করে। রাশিয়া থেকে প্রায় ৯০ হাজার পৃষ্ঠার প্রযুক্তিগত নথি আসে। কিন্তু পথ মসৃণ ছিল না। কোভিড মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে প্রযুক্তি হস্তান্তর বিলম্বিত হয়। পুরো প্যাকেজ আসে ২০২৪ সালে।আলোচনাও ছিল কঠিন। ভারত চেয়েছিল শতভাগ প্রযুক্তি হস্তান্তর, দেশেই সম্পূর্ণ উৎপাদন এবং ভবিষ্যৎ আপগ্রেডের সুযোগ।

Advertisements

রাশিয়া প্রথমে নতুন একে-২০৩ দিতে দ্বিধাগ্রস্ত ছিল। কিন্তু ভারতীয় সেনাবাহিনীর জোরালো অবস্থানের পর তারা রাজি হয়। রয়্যালটি ও স্থানীয়করণের শর্ত নিয়ে মাসের পর মাস আলোচনা চলে। অবশেষে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। (AK-203 Sher)প্রায় ছয় লাখ রাইফেল তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগোয়।উৎপাদনের শুরুতে ভারতীয় অংশ ছিল মাত্র পাঁচ শতাংশ। ধীরে ধীরে তা বাড়তে থাকে। ২০২৬ সালের আগস্টে এসে শতভাগ ভারতীয় উপাদান দিয়ে তৈরি প্রথম ‘শের’ রাইফেল দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে গোলাবর্ষণ করা হয়।

সব কম্পোনেন্ট ও কাঁচামাল এখন দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকেই আসছে। এটি শুধু স্থানীয়করণ নয়, প্রকৃত অর্থে আত্মনির্ভরশীলতার নিদর্শন বলে দাবি করা হচ্ছে।‘শের’ মানে সিংহ। নামটি ভারতীয় সেনাবাহিনীর শক্তির প্রতীক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এই রাইফেল ৭.৬২x৩৯ মিমি ক্যালিবারের। এটি প্রতি মিনিটে প্রায় ৭০০ রাউন্ড গুলি চালাতে পারে এবং কার্যকর রেঞ্জ প্রায় ৮০০ মিটার।

আধুনিক পিকাটিনি রেল, উন্নত এরগোনমিক্স এবং মডুলার ডিজাইন এটিকে যুদ্ধক্ষেত্রে আরও কার্যকর করে তুলেছে।এখন সেনাবাহিনীর ট্রায়াল চলছে। সফল হলে বড় পরিসরে উৎপাদন শুরু হবে। করোয়া কারখানায় উৎপাদন হার বাড়িয়ে প্রতি ১০০ সেকেন্ডে একটি রাইফেল তৈরির লক্ষ্য রাখা হয়েছে। ইনসাস রাইফেলের জায়গায় ‘শের’ বসবে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীতে।

Advertisements