ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি! ধান, গম, সয়াবিন ও দুগ্ধজাত পণ্যে কতটা প্রভাব?

নয়াদিল্লি: ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সৃষ্ট জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার জোর দিয়ে জানিয়েছে যে, ভারতের কৃষিখাত এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের…

India US trade deal agriculture

নয়াদিল্লি: ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সৃষ্ট জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার জোর দিয়ে জানিয়েছে যে, ভারতের কৃষিখাত এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের স্বার্থ পুরোপুরি সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান স্পষ্ট করেছেন যে, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করেই চুক্তির রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।

Advertisements

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য চুক্তির আওতামুক্ত

শীর্ষ সরকারি সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, ধান, গম, সয়াবিন, ভুট্টা, দুগ্ধজাত পণ্য এবং চিনির মতো প্রধান staple পণ্যগুলো এই চুক্তির সম্পূর্ণ আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, মার্কিন কৃষিপণ্যের আমদানির সুযোগ মূলত সেসব পণ্যের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে, যা ভারতে ব্যাপকভাবে উৎপাদিত হয় না। এর ফলে অভ্যন্তরীণ বাজার বিপর্যস্ত হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

   

প্রিমিয়াম পণ্যে ফোকাস India US trade deal agriculture

চুক্তিতে যেসব কৃষিপণ্যের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে, তার মধ্যে মূলত বাছাই করা কিছু শুকনো ফল, যেমন আমেরিকান কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, পেকান, আখরোট এবং পেস্তা, রয়েছে। সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে যে, জোর দেওয়া হচ্ছে প্রিমিয়াম পণ্যগুলোর ওপর, সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় ফসলের ওপর নয়।

কৃষিমন্ত্রীর কড়া বার্তা

কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান দৃঢ়ভাবে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশনায়, এই চুক্তি কূটনীতি এবং উন্নয়নের একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, কৃষকদের স্বার্থ সরকার কোনোভাবেই বিসর্জন দেবে না এবং তা “অ-আলোচনাযোগ্য”। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারির মন্তব্য ঘিরে সৃষ্ট বিভ্রান্তির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল ইতোমধ্যেই সংসদে এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ভারতের বাজার খুলে দেওয়ার ফলে দেশীয় কৃষকদের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি হবে না বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

Advertisements

সময়ের রূপরেখা ও যৌথ বিবৃতি

সরকারি সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে যে, বাণিজ্য চুক্তিটি আগামী মার্চ মাসেই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে পারে। অদূর ভবিষ্যতে, অর্থাৎ আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে, উভয় পক্ষ একটি যৌথ বিবৃতি জারি করবে, যা এই আলোচনার মূল রূপরেখা তুলে ধরবে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতির বার্তা দেবে।

Advertisements