নয়া মাইলফলক মেক ইন ইন্ডিয়ায়! ২০৩০ র মধ্যেই ৩৫০ কিলোমিটার বেগে ছুটবে দেশীয় প্রযুক্তির ট্রেন

নয়াদিল্লি: উচ্চগতির রেল প্রযুক্তিতে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে চলেছে ভারত(bullet train)। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বুলেট ট্রেন তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে ভারতীয় রেল। ২০৩০ সালের…

india-indigenous-bullet-train

নয়াদিল্লি: উচ্চগতির রেল প্রযুক্তিতে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে চলেছে ভারত(bullet train)। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বুলেট ট্রেন তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে ভারতীয় রেল। ২০৩০ সালের মধ্যে এমন এক স্বদেশি বুলেট ট্রেন তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার নকশাগত গতি হবে ঘণ্টায় ৩৫০ কিলোমিটার। এই ট্রেন জাপানের পরবর্তী প্রজন্মের ই১০ সিরিজের সঙ্গে তুলনীয় হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisements

জাপানও একই সময়ে তাদের ই১০ ট্রেনের উৎপাদন শুরু করার কথা জানিয়েছে।(bullet train)এই পরিকল্পনা মুম্বই-আহমেদাবাদ উচ্চগতির রেল করিডর প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সম্প্রতি এই প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় অনুমোদন করেছে, যা এখন দুই লক্ষ কোটি টাকারও বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৫ সালের মূল অনুমানের প্রায় দ্বিগুণ এই ব্যয়। অতিরিক্ত অর্থের বড় অংশ আসবে সরকারি বাজেট থেকে।

   

আরও দেখুনঃ অন্দরের মতপার্থক্যের জল্পনা উড়িয়ে কমিশনের দাবি, SIR-সহ প্রতিটি সিদ্ধান্তই সর্বসম্মত

প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য ৫০৮ কিলোমিটার এবং পুরো করিডর ২০৩০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা।জাপান ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জানিয়েছিল যে তাদের বর্তমান ই৫ সিরিজের ট্রেন উৎপাদন ধাপে ধাপে বন্ধ করা হবে। এরপর ই১০ সিরিজের উৎপাদন ২০৩০ সালে শুরু হবে এবং সেগুলো ২০৩৪ সালের দিকে বাণিজ্যিকভাবে চালু হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ভারত নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Advertisements

রেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই বি৩৫ নামের (bullet train)এই উচ্চগতির ট্রেন তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এর আগে বি২৮ সিরিজের ট্রেন তৈরির কাজও এগিয়ে চলেছে। বি২৮ ট্রেনের নকশাগত গতি ২৮০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা এবং কার্যকর গতি ২৪৯ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। ২০২৭ সালের প্রথম দিকে এই ট্রেনের পরীক্ষামূলক চলাচল শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিইএমএল ইতিমধ্যে দুটি প্রোটোটাইপ ট্রেন (bullet train)তৈরির দায়িত্ব পেয়েছে। এই ট্রেনগুলো প্রথমে মুম্বই-আহমেদাবাদ করিডরে চালু হবে। পরে আরও উন্নত বি৩৫ ট্রেন যোগ করা হবে। একই সঙ্গে ভারত নিজস্ব ভারত ট্রেন কন্ট্রোল সিস্টেম বা বিটিসিএস তৈরির কাজও শুরু করেছে। এতে বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে খরচও সাশ্রয় হবে।

রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এর আগে জানিয়েছিলেন যে দেশের পরবর্তী প্রজন্মের বুলেট ট্রেন ৩৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে চলার সক্ষমতা রাখবে। ভারতের জলবায়ু, ধুলো ও তাপমাত্রার কথা মাথায় রেখেই এই ট্রেনগুলোর নকশা করা হচ্ছে। স্টেইনলেস স্টিল ব্যবহার করে তৈরি করা হবে এই ট্রেনগুলো, যাতে দীর্ঘস্থায়িত্ব বাড়ে।এই উদ্যোগ শুধু গতি বাড়ানোর বিষয় নয়।

এটি আত্মনির্ভর ভারতের এক বড় পদক্ষেপ। বুলেট ট্রেন (bullet train)প্রযুক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলে ভবিষ্যতে অন্যান্য করিডরেও দ্রুত সম্প্রসারণ সম্ভব হবে। মুম্বই-পুনে, দিল্লি-বারাণসীসহ আরও কয়েকটি প্রস্তাবিত রুটে এই ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। যাতায়াত সময় কমে গেলে ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

Advertisements