ভারতে এল ২ মিলিয়ন ব্যারেল ভেনিজুয়েলার তেল

ভারতে আবার ফিরে এসেছে ভেনিজুয়েলার তেল এবার মেগা শিপমেন্টে। (Venezuela oil) ভেনিজুয়েলা এখন সুপারট্যাঙ্কার ব্যবহার করে ২ মিলিয়ন ব্যারেল (২০ লাখ ব্যারেল) করে তেলের কার্গো…

india-imports-2-million-barrels-venezuela-oil

ভারতে আবার ফিরে এসেছে ভেনিজুয়েলার তেল এবার মেগা শিপমেন্টে। (Venezuela oil) ভেনিজুয়েলা এখন সুপারট্যাঙ্কার ব্যবহার করে ২ মিলিয়ন ব্যারেল (২০ লাখ ব্যারেল) করে তেলের কার্গো পাঠাচ্ছে ভারতে। এই বড় শিপমেন্টের ফলে পরিবহন খরচ কমছে, ডেলিভারি দ্রুত হচ্ছে এবং ভেনিজুয়েলার তেল রফতানি আবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮০০,০০০ ব্যারেল প্রতিদিনে। আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার পর এই পরিবর্তন ঘটেছে, যা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈচিত্র্যকরণের কৌশলের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে।

Advertisements

সবকিছু শুরু হয়েছে আমেরিকা-ভেনিজুয়েলা চুক্তির পর। ২০১৯ সালে আমেরিকা ভেনিজুয়েলার তেলের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় ভারতের আমদানি প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ভারত তখন ভেনিজুয়েলার তেলের তৃতীয় বৃহত্তম ক্রেতা ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক ওয়াশিংটন-কারাকাস চুক্তির পর নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল হয়েছে। ফলে ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি PDVSA-র মূল টার্মিনাল জোস থেকে আবার বড় বড় শিপমেন্ট শুরু হয়েছে।

   

রয়টার্সের রিপোর্ট অনুসারে, ট্রেডিং হাউস ভিটল এবং ট্রাফিগুরা অন্তত তিনটা ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (VLCC) চার্টার করেছে নিসোস কিয়া, নিসোস কিথনোস এবং আরজানাহ। এগুলো প্রত্যেকটা ২ মিলিয়ন ব্যারেল করে তেল নিয়ে মার্চ মাসে লোডিং করবে এবং গন্তব্য ভারত। আরেকটা সুপারট্যাঙ্কার অলিম্পিক লায়নও ভেনিজুয়েলার দিকে যাচ্ছে, যা মার্চের শেষে পৌঁছাবে।এই বড় কার্গোর সুবিধা অনেক।

আগে আফ্রাম্যাক্স বা প্যানাম্যাক্স ট্যাঙ্কারে ৪৫০,০০০ থেকে ৭০০,০০০ ব্যারেল করে পাঠানো হতো। এখন VLCC-তে দ্বিগুণেরও বেশি তেল একবারে আসছে। ফলে পরিবহন খরচ কমছে, ছোট ট্যাঙ্কারের অভাব কমছে এবং ডেলিভারি দ্রুত হচ্ছে। ভেনিজুয়েলায় সঞ্চিত লক্ষ লক্ষ ব্যারেল তেল দ্রুত খালি হচ্ছে। জানুয়ারিতে ভেনিজুয়েলার তেল রফতানি ডিসেম্বরের ৫০০,০০০ ব্যারেল থেকে বেড়ে ৮০০,০০০ ব্যারেল প্রতিদিনে পৌঁছেছে।

Advertisements

ভারতের দিক থেকে এটা একটা স্মার্ট কৌশল। ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক। রাশিয়া থেকে সস্তায় তেল আনা চলছে, কিন্তু আমেরিকার চাপে রাশিয়ান তেল কমানোর চেষ্টা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ভেনিজুয়েলার ভারী ক্রুড (যেমন মেরে, বোসকান) সস্তায় পাওয়া যাচ্ছে। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ ভিটল থেকে ২ মিলিয়ন ব্যারেলের একটা কার্গো কিনেছে মার্চ লোডিংয়ের জন্য।

চেভরনও প্রথমবার বোসকান ক্রুড বিক্রি করেছে রিলায়েন্সকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের পর এটাই প্রথম। রিলায়েন্স PDVSA-র সঙ্গে সরাসরি কেনার চেষ্টা করছে। রাষ্ট্রায়ত্ত রিফাইনার BPCL এবং HMELও ভিটলের মাধ্যমে মেরে ক্রুড কিনেছে প্রথমবার বা দীর্ঘদিন পর। এপ্রিল পর্যন্ত ভারতের আমদানি অন্তত ৬ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছাতে পারে।

Advertisements

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *