নয়াদিল্লি: রাশিয়া ও ভারত ইউরেশিয়ান অর্থনৈতিক ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের (Free Trade)আসন্ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির জন্য লজিস্টিকস রুট প্রস্তুত করছে। এই চুক্তি কার্যকর হলে দুই পক্ষের মধ্যে বাণিজ্যে বড় অগ্রগতি ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই রুদেঙ্কো জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীদের প্রস্তুত করতে বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তিসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ইউরেশিয়ান অর্থনৈতিক ইউনিয়ন বা ইএইইউ-এর সদস্য দেশগুলো হল রাশিয়া, আর্মেনিয়া, বেলারুশ, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তান। ভারতের সঙ্গে এই ব্লকের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। চুক্তিটি কার্যকর হলে শুল্ক কমে যাবে এবং বাণিজ্য সহজ হবে। ইতিমধ্যেই ভারতের সঙ্গে ইএইইউ সদস্য দেশগুলোর বাণিজ্য বাড়ছে। ২০২৫ সালের তথ্য অনুসারে, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৬৮.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি।
আরও দেখুনঃ যোগী রাজ্যে মসজিদের মাপজোক করতে গিয়ে বাঁধে দাঙ্গা! উস্কানির অভিযোগে পুলিশের জালে মুসলিম সাংসদ জিয়া
কাজাখস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য ২৫ শতাংশ, আর্মেনিয়ার সঙ্গে ১৫২ শতাংশ এবং বেলারুশের সঙ্গে ৩০ শতাংশ বেড়েছে।বাণিজ্য বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে লজিস্টিকস (Free Trade)ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হচ্ছে। ভ্লাদিভোস্টক থেকে চেন্নাই পর্যন্ত সামুদ্রিক রুট উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে। উত্তর সমুদ্র পথ বা নর্দার্ন সি রুট ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডোর বা আইএনএসটিসি-কে আরও কার্যকর করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এই রুটগুলো ব্যবহার করলে পণ্য পরিবহনের সময় ও খরচ কমবে। জুন মাসে ভারতের পরিবহন মন্ত্রণালয় রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে জানিয়েছিল, ভ্লাদিভোস্তক-চেন্নাই সরাসরি রুটে রাশিয়ান অপারেটরদের আগ্রহ কম। ক্রেমলিন এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব এড়াতে পারস্পরিক পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজও চলছে। পশ্চিমা আর্থিক কাঠামোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
দুই দেশ বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ওপর জোর দিচ্ছে।সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে মেশিন নির্মাণ, কৃষি, সামরিক সরঞ্জাম, উচ্চ প্রযুক্তি, ডিজিটাল ও মহাকাশ খাত। উপগ্রহ যোগাযোগ, তথ্য নিরাপত্তা, টেলিযোগাযোগ এবং শহর পরিকাঠামোর ডিজিটালাইজেশন নিয়েও কাজ হচ্ছে। জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
আরও দেখুনঃ মার্কিন সেনেটে পাস হল ভারতকে হুমকি দেওয়া বিল! যখন তখন বসবে ১০০% শুল্ক
রাশিয়ান তেলের নিয়মিত সরবরাহ ভারতের (Free Trade)জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াচ্ছে। পারমাণবিক খাতে কুডানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে। নতুন আরও একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্থান নির্বাচনের কাজও চলছে।
দুই দেশের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এই লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইরানের সঙ্গে ইএইইউ-এর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির অভিজ্ঞতা দেখায়, এ ধরনের চুক্তি বাণিজ্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। ইরানের ক্ষেত্রে বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছিল।
