নয়াদিল্লি: ভারত ও চিনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। (trade 2026)২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে দুই দেশের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯১ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এতে প্রায় ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। চিনা কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, এই গতি অব্যাহত থাকলে পুরো বছরে বাণিজ্য আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এই সময়ে ভারত চিন থেকে প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। (trade 2026)অন্যদিকে ভারতের রফতানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ দশমিক ৭২ থেকে ১২ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। রপ্তানিতে বছরপ্রতি বৃদ্ধির হার প্রায় ৩৭ শতাংশ। আমদানি ও রফতানির এই ব্যবধানের কারণে বাণিজ্য ঘাটতিও বেড়েছে। প্রথম ছয় মাসে ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ৬৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
আরও দেখুনঃ পশু খাদ্যের আকাল পড়তে পারে! মোদী সরকারকে E ১০ পরীক্ষার পরামর্শ অর্থনৈতিক উপদেষ্টার
চিন থেকে আমদানি করা প্রধান পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম, টেলিকম গিয়ার, স্মার্টফোন ও পিসিবি যন্ত্রাংশ, সেমিকন্ডাক্টর, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি, চার্জার, সার্ভার, শিল্প যন্ত্রপাতি, কম্পিউটার, জৈব রাসায়নিক এবং প্লাস্টিক। ভারতের রফতানির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো খনিজ পদার্থ, পরিশোধিত জ্বালানি, জৈব রাসায়নিক, ইলেকট্রনিক্স, কৃষি ও সামুদ্রিক পণ্য, ধাতব সামগ্রী, রত্ন ও গহনা এবং ওষুধ।
পিসিবি, ডিসপ্লে মডিউল এবং পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানিতে (trade 2026)দ্রুত বৃদ্ধি দেখা গেছে।দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে জটিল। সীমান্ত ইস্যু ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা থাকলেও অর্থনৈতিক লেনদেন অব্যাহত রয়েছে। চিন ভারতের অন্যতম বড় বাণিজ্য অংশীদার। ইলেকট্রনিক্স ও শিল্প কাঁচামালের ক্ষেত্রে ভারতের নির্ভরতা এখনো উল্লেখযোগ্য। একই সঙ্গে ভারতীয় রফতানি বাড়ার বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরও দেখুনঃ ভারতের সামরিক হাত শক্ত করতে ১০ টি সুখোই দিতে প্রস্তুত রাশিয়া
বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে বরাবরই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। (trade 2026)শুধু পরিমাণ নয়, পণ্যের ধরনও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক আমদানিকৃত পণ্য ভারতীয় উৎপাদন ও রফতানির জন্য প্রয়োজনীয় মধ্যবর্তী সামগ্রী। তাই ঘাটতি কমানোর পাশাপাশি রফতানি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
চিনা বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর চেষ্টাও চলছে।২০২৫ সালে দুই দেশের মোট বাণিজ্য ১৫৫ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি বা তার বেশি হয়েছিল বলে জানা যায়। চলতি বছরের প্রথমার্ধের গতি দেখে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পুরো বছরে সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঘাটতির পরিমাণও সেই অনুযায়ী বাড়তে পারে।
