ভারত ইলেক্ট্রনিক্সের সঙ্গে ১,৪৭৬ কোটির চুক্তিতে প্রতিরক্ষায় ইতিহাস ভারতের

নয়াদিল্লি: ভারতীয় সেনাবাহিনীর যুদ্ধক্ষেত্রে আধুনিকতার নতুন অধ্যায় শুরু হল। (India BEL)দেশীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL)-এর সঙ্গে ₹১,৪৭৬ কোটি টাকার একটি বড় চুক্তি স্বাক্ষর…

india-bel-electronic-warfare-deal-1476-crore

নয়াদিল্লি: ভারতীয় সেনাবাহিনীর যুদ্ধক্ষেত্রে আধুনিকতার নতুন অধ্যায় শুরু হল। (India BEL)দেশীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL)-এর সঙ্গে ₹১,৪৭৬ কোটি টাকার একটি বড় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত সরকার। এই চুক্তির আওতায় নির্মিত হবে পাঁচটি অত্যাধুনিক মোবাইল ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার (EW) সিস্টেম, যা শত্রুপক্ষের ড্রোন, রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম।

Advertisements

এই সিস্টেমগুলো বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে শত্রুর ড্রোন (UAV), রাডার সিগন্যাল এবং যোগাযোগ নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা, আটকে দেওয়া এবং জ্যাম করে দেওয়ার জন্য। মোবাইল প্ল্যাটফর্মে তৈরি হওয়ায় এগুলো যেকোনো যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত স্থানান্তর করা যাবে। সেনাবাহিনীর অ্যান্টি-ড্রোন অপারেশন ও ব্যাটলফিল্ড ডমিন্যান্সে এটি এক বড় মাইলফলক বলে মনে করা হচ্ছে।

   

আরও দেখুনঃ অনুপ্রেরণা ভারত? বালুচিস্তানে পাক সেনার অবৈধ সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে চলল বুলডোজার

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, এই ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেমগুলো সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি। শত্রুপক্ষের রাডার সিগন্যাল ধরে ফেলা, তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত করা এবং হোস্টাইল ড্রোনগুলোকে ‘অন্ধ’ করে দেওয়ার ক্ষমতা এতে রয়েছে। বর্তমান সময়ে যেখানে ড্রোন যুদ্ধের গুরুত্ব বেড়েছে, সেখানে এই সিস্টেমগুলো ভারতীয় সেনার হাতকে অনেক বেশি শক্তিশালী করবে।

একজন সিনিয়র প্রতিরক্ষা আধিকারিক বলেন, “আজকের যুদ্ধ আর শুধু বুলেট-বোমার নয়, ইলেকট্রনিক ডোমেইনেও হয়। এই নতুন সিস্টেমগুলো আমাদের সেনাকে শত্রুর চোখ-কান বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা দেবে। বিশেষ করে সীমান্ত অঞ্চলে চিন ও পাকিস্তানের ড্রোন তৎপরতার বিরুদ্ধে এটি অত্যন্ত কার্যকর হবে।” এই চুক্তি ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানের আরেকটি সফল উদাহরণ। BEL-এর মতো দেশীয় সংস্থাগুলোর ওপর নির্ভর করে ভারত ধীরে ধীরে আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে।

Advertisements

এই সিস্টেমগুলো শুধু সেনাবাহিনীর জন্যই নয়, এটি ভবিষ্যতে বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর জন্যও সম্প্রসারিত করা যেতে পারে।সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আধুনিক যুদ্ধে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের ভূমিকা অপরিসীম। শত্রু যদি তার রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা হারায়, তাহলে তার আক্রমণের ক্ষমতা অনেকাংশে কমে যায়।

ভারতীয় সেনার জওয়ানরা এখন আরও নিরাপদে অপারেশন চালাতে পারবেন। একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা বলেন, “আগে আমরা শত্রুর ড্রোন দেখে শুধু চিন্তিত হতাম। এখন আমরা সেই ড্রোনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারব বা সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারব। এটা আমাদের মনোবল অনেক বাড়াবে।”

Advertisements