ভারতীয় বায়ুসেনার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া আয়োজনে বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর আগ্রহ বৃদ্ধি

IAF: ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর ভারতীয় বিমানবাহিনীর সাথে যৌথ সামরিক মহড়া আয়োজনে বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের অনেক শীর্ষস্থানীয় বিমানবাহিনীই ভারতীয় বিমানবাহিনীর সাথে যৌথ মহড়ায়…

IAF: ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর ভারতীয় বিমানবাহিনীর সাথে যৌথ সামরিক মহড়া আয়োজনে বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের অনেক শীর্ষস্থানীয় বিমানবাহিনীই ভারতীয় বিমানবাহিনীর সাথে যৌথ মহড়ায় অংশ নিতে আগ্রহী। এর একটি প্রধান কারণ হিসেবে মনে করা হয় ভারতীয় বিমানবাহিনীর নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা এবং দূরপাল্লা থেকে লক্ষ্যবস্তুকে ঘায়েল করার ক্ষমতা—যা ‘অপারেশন সিঁদুর ‘-এর সময় প্রদর্শিত হয়েছিল।

Advertisements

আগামী মাস দুয়েকের মধ্যে ভারতীয় বিমান বাহিনীর মহড়ার সময়সূচি বেশ ব্যস্ত থাকতে চলেছে। বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণে আয়োজিত এসব মহড়ায় ভারতীয় যুদ্ধবিমানগুলো তাদের কার্যক্ষমতা প্রদর্শন করবে এবং বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর বিমান বাহিনীর সাথে যুদ্ধ-সংক্রান্ত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করবে।

   

অস্ট্রেলিয়ায় ‘পিচ ব্ল্যাক’ মহড়ার সূচনা
ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি দল বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় আয়োজিত বহুজাতিক বিমান মহড়া ‘পিচ ব্ল্যাক’-এ অংশ নিচ্ছে। এই মহড়ায় বিমান বাহিনীর চারটি রাফাল যুদ্ধবিমান, দুটি সি-১৭ গ্লোবমাস্টার-৩ বিমান এবং ১০০ জনেরও বেশি বিমানসেনা বা ‘এয়ার ওয়ারিয়র’ অংশগ্রহণ করছেন। ২০ জুলাই শুরু হওয়া এই মহড়াটি ৭ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। এতে মোট ১৯টি দেশের বিমানবাহিনী অংশ নিচ্ছে। মহড়া চলাকালে বিভিন্ন দেশের বিমানবাহিনী জটিল আকাশ-অভিযান, আকাশ-যুদ্ধ এবং বহুজাতিক অভিযানের জন্য প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে।

মালয়েশিয়ার সাথে ‘উদারশক্তি’
‘পিচ ব্ল্যাক’ (Pitch Black)-এর পর ভারতীয় বিমান বাহিনীর পরবর্তী গন্তব্য হতে চলেছে মালয়েশিয়া। আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ভারতীয় বিমান বাহিনী রয়্যাল মালয়েশিয়ান এয়ার ফোর্সের সাথে ‘উদারশক্তি’ (Udarashakti) নামক যৌথ মহড়ায় অংশ নেবে। প্রায় এক সপ্তাহব্যাপী এই মহড়ায় উভয় দেশের বিমান বাহিনী তাদের কর্মপরিচালনা সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা ও যুদ্ধকৌশল একে অপরের সাথে বিনিময় করবে। মহড়া চলাকালীন ভারতীয় বিমান বাহিনীর রাফাল (Rafale) এবং রয়্যাল মালয়েশিয়ান এয়ার ফোর্সের সুখোই (Sukhoi) যুদ্ধবিমানগুলো যৌথভাবে আকাশে উড্ডয়ন বা ‘সর্টি’ (sortie) পরিচালনা করবে।

Advertisements

জাপানের সাথে ‘বীর গার্ডিয়ান’
ভারতীয় বিমান বাহিনীর (IAF) পরবর্তী সামরিক মহড়ার তালিকায় রয়েছে ভারত ও জাপানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বিমান মহড়া—’বীর গার্ডিয়ান’। এই মহড়াটি ২০২৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজস্থানের যোধপুর বিমান ঘাঁটিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ভারতীয় বিমান বাহিনীর সুখোই-৩০ এমকেআই (Sukhoi-30MKI) এবং জাপান এয়ার সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সের এফ-২ (F-2) যুদ্ধবিমানগুলোর অংশগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

‘বীর গার্ডিয়ান’ (Veer Guardian) মহড়ার প্রথম সংস্করণটি ২০২৩ সালে জাপানের হিয়াকুরি বিমান ঘাঁটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই মহড়ায় ভারত সুখোই-৩০ এমকেআই (Sukhoi-30MKI), সি-১৭ (C-17) এবং আকাশে জ্বালানি ভরার সক্ষমতাযুক্ত আইএল-৭৮ (IL-78) বিমান নিয়ে অংশ নিয়েছিল; অন্যদিকে জাপান তাদের এফ-২ (F-2) ও এফ-১৫ (F-15) যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছিল। ভারত ও জাপানের মধ্যে এই যৌথ বিমান মহড়া আয়োজনের সিদ্ধান্তটি ২০২২ সালে টোকিওতে অনুষ্ঠিত ‘২+২ সংলাপ’-এর সময় নেওয়া হয়েছিল।

‘বীর গার্ডিয়ান’-এর পর ‘তরঙ্গ শক্তি ২০২৬’
‘বীর গার্ডিয়ান’-এর পর, রাজস্থানের যোধপুর বিমানঘাঁটি আরও একটি বড় আকারের বহুজাতিক বিমান-সামরিক মহড়া—‘তরঙ্গ শক্তি ২০২৬’—আয়োজন করবে। প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, ভারত এই মহড়ায় অংশগ্রহণের জন্য বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর বিমান বাহিনীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। অর্ধেকেরও বেশি দেশ তাদের যুদ্ধবিমান নিয়ে এতে অংশ নিতে সম্মত হয়েছে এবং আরও কয়েকটি দেশ পর্যবেক্ষক হিসেবে যোগ দিতে পারে। যোধপুরে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ‘তরঙ্গ শক্তি ২০২৬’ মহড়াটি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহব্যাপী এই মহড়া চলাকালে ভারতীয় বিমান বাহিনী এবং বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর বিমান বাহিনী পাকিস্তান সীমান্তের কাছে যৌথ সামরিক অনুশীলন পরিচালনা করবে।

বার্তাটি স্পষ্ট: বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় বিমান বাহিনীর (IAF) গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে
সব মিলিয়ে, আগামী দুই মাস অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া ও জাপানের সাথে বড় ধরনের বিমান মহড়ায় অংশগ্রহণের পর, ভারতীয় বিমান বাহিনী ভারতে বহুজাতিক মহড়া ‘তরঙ্গ শক্তি ২০২৬’ (Tarang Shakti 2026)-এর আয়োজন করবে। এই মহড়াগুলো ভারতকে কেবল বিভিন্ন দেশের বিমান বাহিনীর সাথে কার্যক্রম-সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগই করে দেবে না, বরং বিশ্বের সামনে নিজেদের যুদ্ধবিমানের সক্ষমতা এবং নেটওয়ার্কিং, আকাশযুদ্ধ ও বহুমুখী ক্ষেত্রে (multi-domain) অভিযানের দক্ষতা প্রদর্শনেরও সুযোগ করে দেবে।

Advertisements