ব্যাটারি, টায়ার ও প্যারাসুট: ফাইটার জেটের ৯৭% ব্যবহৃত যন্ত্রাংশে আত্মনির্ভর ভারতীয় বায়ুসেনা

নয়াদিল্লি: সামরিক ক্ষেত্রে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ (Aatmanirbhar Bharat) গড়ার লক্ষ্যে এক বড়সড় সাফল্য অর্জন করল ভারতীয় বায়ুসেনা (Indian Air Force)। দৈনন্দিন লড়াই বা ফ্লাইং অপারেশনে ফাইটার…

নয়াদিল্লি: সামরিক ক্ষেত্রে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ (Aatmanirbhar Bharat) গড়ার লক্ষ্যে এক বড়সড় সাফল্য অর্জন করল ভারতীয় বায়ুসেনা (Indian Air Force)। দৈনন্দিন লড়াই বা ফ্লাইং অপারেশনে ফাইটার জেটের জন্য প্রয়োজনীয় ৯৭ শতাংশ খুচরো যন্ত্রাংশই (Spares) এখন দেশের মাটিতে তৈরি করছে তারা। আগে এই ধরনের যন্ত্রাংশের জন্য মূলত বিদেশি সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভর করতে হতো ভারতকে। কিন্তু দেশীয় প্রযুক্তির এই বিপুল ব্যবহারের ফলে গত পাঁচ বছরে ৫৮২ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে পেরেছে বায়ুসেনা।

Advertisements

দেশেই তৈরি হচ্ছে হাজার হাজার যন্ত্রাংশ

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বায়ুসেনার মেইনটেন্যান্স কম্যান্ড ইতিমধ্যেই প্রায় ৬২,৩০০টি খুচরো যন্ত্রাংশের দেশীয়করণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধবিমানের ব্যাটারি, ফাইটার টায়ার, পাওয়ার কার্ট এবং এসকেপ এয়ার এক্সপ্লোসিভের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী। শুধু তাই নয়, বিগত দু’টি আর্থিক বছরে বায়ুসেনা তাদের দেশীয় মূলধনী বাজেটের ৯০ শতাংশই দেশের অভ্যন্তরে খরচ করেছে, যা প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের নির্ধারিত লক্ষ্যের চেয়ে অনেকটাই বেশি।

   

বায়ুসেনার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, উদ্ভাবনী চিন্তাধারা এবং বেসরকারি সংস্থাগুলিকে কাজে লাগানোর ফলেই অপারেশনাল ইউনিটের প্রয়োজনীয় ৯৭ শতাংশ খুচরো যন্ত্রাংশ এবং ওভারহলিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ৯৩ শতাংশ বাধ্যতামূলক যন্ত্রাংশ দেশেই তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি, আকাশ মিসাইল সিস্টেম (Akash missile system) এবং সমর (SAMAR) সিস্টেমের মতো দেশীয় অস্ত্রও নিজেদের ভাঁড়ারে যুক্ত করেছে তারা।

কী কী দেশীয়করণ হয়েছে?

জানা গিয়েছে, ফাইটার জেটের ইজেকশন সিটে ব্যবহৃত ৭৬ ধরনের এসকেপ এয়ার এক্সপ্লোসিভ, ২০৭টি পাওয়ার কার্ট এবং ৮ ধরনের পাইলট প্যারাসুট দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এমনকি সুখোই-৩০ (Su-30) যুদ্ধবিমানে ব্যবহৃত হাইড্রলিক বুস্টার পাম্পও এখন ভারতেই তৈরি হচ্ছে। জরুরি চাহিদা মেটাতে ২০২২ সাল থেকে একটি অত্যাধুনিক থ্রি-ডি (3D) প্রিন্টিং ফেসিলিটিও চালু করেছে বায়ুসেনা।

Advertisements

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব ও আগামী পরিকল্পনা

ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে এখনও প্রচুর বিদেশি যুদ্ধবিমান ও কপ্টার রয়েছে। এর মধ্যে যেমন রাশিয়ার তৈরি সুখোই-৩০ এমকেআই, মিগ-২৯, এমআই-১৭ এবং এএন-৩২ রয়েছে, তেমনই রয়েছে ফ্রান্সের তৈরি মিরাজ-২০০০ এবং রাফাল ফাইটার জেট। এই বিদেশি বিমানগুলির রক্ষণাবেক্ষণ, ইঞ্জিন মেরামত এবং যন্ত্রাংশের জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতা ছিল। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বিদেশি সাপ্লাই চেনে বড়সড় ধাক্কা লাগে।

সেই ধাক্কা সামলে উঠতেই তৎপর হয়েছে বায়ুসেনা। বিদেশি নির্ভরতা কাটাতে এখন রুশ সংস্থা এবং ভারতীয় বেসরকারি শিল্পের সঙ্গে যৌথভাবে দেশেই যন্ত্রাংশ তৈরি এবং মেরামতের কাজ চলছে। সুখোই-৩০ এমকেআই-এর যন্ত্রাংশের জোগান অব্যাহত রাখতে ২০২৬ সালেও একাধিক দেশীয় টেন্ডার ডাকা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

মৃতদের ৯ লাখ, ক্ষতিগ্রস্তদের ৩০ হাজার! সবং পরিদর্শনে গিয়ে আর কী ঘোষণা শুভেন্দুর?

জোরকদমে দল গঠন! ইমামির বিদায়ের পর ইস্টবেঙ্গলের ভরসা জুপিটার,

Advertisements