অরুণাচলের দিক থেকে এলোপাথাড়ি গুলি! রক্তাক্ত অসম সীমান্ত, জখম অন্তত ১১

গোগামুখ: আন্তঃরাজ্য সীমানায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী দুই রাজ্যের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং গুলি চলার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়াল। অসম-অরুণাচল প্রদেশ সীমানায় অসমের গোগামুখ…

গোগামুখ: আন্তঃরাজ্য সীমানায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী দুই রাজ্যের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং গুলি চলার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়াল। অসম-অরুণাচল প্রদেশ সীমানায় অসমের গোগামুখ রাজস্ব চক্রের অন্তর্গত মিংমাং বাদাতি এলাকায় অরুণাচলের দিক থেকে আসা দুষ্কৃতীদের এলোপাথাড়ি গুলিতে অন্তত ১১ জন গ্রামবাসী জখম হয়েছেন বলে খবর। সোমবার (১০ অগস্ট) রাতের এই ঘটনার জেরে সীমানা এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

Advertisements

প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, অরুণাচল প্রদেশের দিক থেকে আসা কিছু মানুষ অসমের সীমানায় ঢুকে জমি দখলের চেষ্টা করলে স্থানীয়দের সঙ্গে তাঁদের বচসা বাধে। কথা কাটাকাটি থেকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতেই অরুণাচল প্রদেশের দিক থেকে আসা অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজেরা অসমের গ্রামবাসীদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। এই ঘটনায় অন্তত ১১ জনের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর মিলেছে। এর মধ্যে আট জনকে ইতিমধ্যেই শনাক্ত করা গিয়েছে। তাঁরা হলেন, দুর্গেশ্বর পাটির, রোহিত দোলে, নাগরাজ দোলে, বিঘ্নেশ্বর পাটির, পামে পেগু, সঞ্জয় তায়ুং, উৎপল দোলে এবং জান দোলে। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে গোগামুখ গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তবে তাঁদের মধ্যে তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ডিব্রুগড়ের অসম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (AMCH) স্থানান্তরিত করা হয়েছে। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক রিপোর্টে আহতের সংখ্যা নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে, তবে পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে।

   

এই ঘটনার খবর পেয়েই কড়া পদক্ষেপ করেছে অসম প্রশাসন। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানিয়েছেন, সীমানায় গুলি চলার ঘটনার পর দুই রাজ্যের পদস্থ আধিকারিক এবং পুলিশকর্তারা নিজেদের মধ্যে লাগাতার আলোচনা চালাচ্ছেন। রাজ্যের এক ইঞ্চি জমিও যে আপস করা হবে না, তা কড়া ভাষায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নতুন করে যাতে আর কোনও অশান্তি না ছড়ায়, তার জন্য বিতর্কিত সীমানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, অসম এবং অরুণাচল প্রদেশের মধ্যে প্রায় ৮০৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমানা রয়েছে। আর এই সীমানা এলাকায় বনভূমি ও জমি নিয়ে দুই রাজ্যের বিবাদ দীর্ঘ কয়েক দশকের। ২০২২ সালের ১৫ জুলাই দুই রাজ্যের মধ্যে ঐতিহাসিক ‘নামসাই চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হওয়ার পর অরুণাচলের দাবি করা ১২৩টি বিতর্কিত গ্রামের সংখ্যা কমিয়ে ৮৬-তে আনা হয়েছিল। কিন্তু তার পরেও ধেমাজি এবং লোয়ার সিয়াং বেল্টে জমি-বিবাদ ঘিরে বারবার রক্তপাতের ঘটনা ঘটেছে। ২০২৩ সালের ৫ জুন পানবাড়ি তোরাজান এলাকায় গুলি চলার ঘটনায় অসমের দুই বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছিল। তার আগে ২০২২ সালের জুলাই মাসে পানবাড়িতেই জমি দখল ঘিরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এমনকি ২০১৪ সালে বেহালি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে সীমানা বিবাদ ঘিরে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১০ জন। সোমবার নতুন করে গুলি চলার ঘটনা সেই পুরনো আতঙ্ককেই ফের উস্কে দিল৷

Advertisements

ছাত্রদের বিধানসভা অভিযানে লাঠি! আজ ঝাড়খণ্ড বনধের ডাক বিজেপির

চিনের বিরুদ্ধে ‘ম্যাপ-স্ট্রাইক’! অরুণাচলে কী করল ভারত, কেন ফুঁসছে বেজিং?

Advertisements