নয়াদিল্লি: ভারতের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় (DY Chandrachud)সম্প্রতি একটি সাহসী মন্তব্য করে দেশের আইনি ও রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় তুলেছেন। জয়পুর লিটারেচার ফেস্টিভালে একটি সেশনে তিনি বলেছেন, “তারা পাঁচ বছর ধরে জেলে আছেন। তাদের দ্রুত বিচারের অধিকার রয়েছে। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে জামিনই নিয়ম হওয়া উচিত, ব্যতিক্রম নয়।”
এই ‘তারা’ বলতে তিনি উল্লেখ করেছেন অ্যাকটিভিস্ট উমর খালিদকে বুঝিয়েছেন, যিনি ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গা কনস্পিরেসি মামলায় UAPA আইনের অধীনে জেলে আছেন। চন্দ্রচূড়ের এই কথা শুনে অনেকে অবাক হয়েছেন, আবার অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন যে ব্যক্তি ভারতকে ‘চপ ডাউন’ করার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ, তাকে শুধুমাত্র অভিব্যক্তির স্বাধীনতা (FoE) এর নামে ছেড়ে দেওয়া কি ঠিক?
নতুন শক্তি পাবে IAF, মিলল 6টি MRTT বিমান কেনার অনুমোদন
ঘটনার সূত্রপাত ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে দিল্লির উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে ঘটা দাঙ্গায়। সিএএ-এনআরসি বিরোধী আন্দোলনের সময় উমর খালিদের একটি স্পিচকে কেন্দ্র করে অভিযোগ উঠে যে তিনি ঘৃণামূলক ভাষণ দিয়ে দাঙ্গা উস্কে দিয়েছেন।
পুলিশের দাবি, খালিদের কথায় ‘ভারতকে কেটে ফেলা’র মতো হুমকি ছিল, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। কিন্তু খালিদের সমর্থকরা বলেন, এটি মিসকোট তিনি আসলে গান্ধীয়ান নন-ভায়োলেন্ট প্রতিরোধের কথা বলেছিলেন, ভারতের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার জন্য লড়াইয়ের কথা।
যাইহোক, সেপ্টেম্বর ২০২০ থেকে তিনি জেলে, এবং ট্রায়াল এখনও শুরু হয়নি। বারবার জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গিয়েও ফল হয়নি।চন্দ্রচূড়, যিনি ২০২৪ সালে রিটায়ার করেছেন, এই মন্তব্য করেছেন একটি সাধারণ নাগরিক হিসেবে, বিচারপতি হিসেবে নয়। তিনি বলেছেন, ভারতীয় সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে জীবন ও স্বাধীনতার অধিকারের মধ্যে দ্রুত বিচারের অধিকারও অন্তর্ভুক্ত।
“প্রাক-ট্রায়াল ডিটেনশনকে শাস্তি হিসেবে দেখা যাবে না,” বলে তিনি জোর দিয়েছেন। জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত মামলায় কোর্টকে আরও সতর্ক হতে হবে, কিন্তু যদি ট্রায়াল দেরি হয়, তাহলে জামিন দেওয়াই নিয়ম। তাঁর কথায়, “অভিযুক্তের অপরাধী না হওয়ার অনুমানই মূল, যতক্ষণ না প্রমাণিত হয়।” এই মন্তব্যকে অনেকে স্বাগত জানিয়েছেন, বলছেন এটি দেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার সমস্যাকে তুলে ধরেছে প্রসিকিউশনের অক্ষমতা, দেরি, এবং UAPA-এর মতো কড়া আইনের অপব্যবহার।
কিন্তু বিতর্কও কম নয়। ডানপন্থী গোষ্ঠী ও বিজেপি সমর্থকরা বলছেন, উমর খালিদের স্পিচ ছিল স্পষ্ট হুমকি। সোশ্যাল মিডিয়ায় একজন লিখেছেন, “ভারতকে চপ ডাউন করার প্রতিজ্ঞা করা লোককে FoE-এর নামে ছেড়ে দেওয়া মানে দেশের নিরাপত্তা বিপন্ন করা।” তারা দাবি করেন, খালিদের কথায় দাঙ্গার বীজ ছিল, যাতে ৫৩ জন মারা গিয়েছিল। অন্যদিকে, লিবারেল ও অ্যাকটিভিস্টরা বলছেন, এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।
কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনাতে টুইট করেছেন, “দ্রুত বিচার না হলে জামিন নিয়ম এটি সুন্দর কথা, কিন্তু বাস্তবে কী?” তাঁরা উল্লেখ করেন যে খালিদের স্পিচকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে; তিনি আসলে বলেছিলেন ভারতের অসমতুল্যতার বিরুদ্ধে লড়াই করার কথা, না যে ধ্বংস করার।এই ঘটনা দেশের বিচার ব্যবস্থার একটা বড় সমস্যাকে সামনে এনে দিয়েছে।
UAPA-এর মতো আইনে জামিন পাওয়া কঠিন, কারণ প্রসিকিউশনকে প্রাইমা ফেসি প্রমাণ দেখাতে হয় না। ফলে অনেক অ্যাকটিভিস্ট যেমন স্তান স্বামী, ভীমা কোরেগাঁও কেসের অভিযুক্তরা বছরের পর বছর জেলে কাটাচ্ছেন।
চন্দ্রচূড়ের সময়কালে সুপ্রিম কোর্ট কয়েকটা ল্যান্ডমার্ক রায় দিয়েছে, যেমন তিস্তা সেতলভাদকে জামিন, পাওয়ান খেরাকে সুরক্ষা। কিন্তু উমর খালিদের ক্ষেত্রে কেন দেরি? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতীয় নিরাপত্তার নামে অধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে।
Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচিন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা
Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন
Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের
